শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

পদ্মা সেতুর কাজ ২০২১ সালেও শেষ হচ্ছে না

বিশেষ প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৯৬ বার পঠিত

২০২১ সালেও শেষ হচ্ছে না পদ্মা সেতুর কাজ। করোনা ভাইরাস ও বন্যার কারণে কাঙ্খিত মাত্রায় হয়নি কাজের অগ্রগতি। তাই ২০২২ সালে এ মেগা প্রকল্প শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, এই সেতু চালু হলে অর্থনীতিতে আসবে নতুন গতি, পাল্টে যাবে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২৫ জেলার মানুষের জীবনমান।

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজানের পর সবচেয়ে খরস্রোতা নদী পদ্মা। পানি প্রবাহের দিক থেকেও বিশ্বে দ্বিতীয়। ভরা বর্ষায় স্রোতের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে চার থেকে পাঁচ মিটার। তীব্র এই স্রোত মোকাবেলা করে নৌযান চলাচল বেশ কঠিন। তাই এ নদীর ওপর একটি সেতু দক্ষিণ-পশ্চিামাঞ্চলের বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনে আকাঙ্খা।

আর এ আকাঙ্খার বাস্তব রূপ দেয়ার কাজে হাত দেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। নিচে ট্রেন লাইন আর উপরে সড়ক, দ্বি-স্তর বিশিষ্ট এ সেতুর কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের নভেম্বরে। ৩০ হাজার ১শ ৯৩ কোটি টাকার এ প্রকল্প ৪ বছরে শেষ করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খুলে দেয়ার কথা ছিলো চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির। তবে, এর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়া, নকশা জটিলতাসহ নানা প্রতিকূলতায় কয়েক দফা পিছিয়েছে কাজ। সবশেষ ২০২১ সালের জুনে সেতু উদ্বোধনের কথা থাকলেও আবারও এসেছে প্রতিবন্ধকতা।

করোনা সংক্রমণ ও বন্যার কারণে আসেনি কাঙ্খিত মাত্রায় অগ্রগতি। পানির তোড়ে ভেঙেছে মাওয়াতে সেতুর কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড। নদীতে তলিয়ে গেছে ১৯২টি রেলওয়ে গার্ডার ও ১২৬টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এতে তৃতীয় দফায় বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদ। ২০২২ সালে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী।

এরই মধ্যে ৪১ স্প্যানের মধ্যে বসানো হয়ে গেছে ৩১টি। এতে, সেতুর সোয়া ৪ কিলোমিটার অংশ দৃশ্যমান। ৪২টি পিলারের কাজ শেষ হয়ে গেলেও, তীব্র স্রোতে এখন স্প্যান বসানো যাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ১০টি স্প্যান বসানো যাবে। জুলাই পর্যন্ত পদ্মাসেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১, মূল সেতু ৮৯ দশমিক ২৫ ভাগ আর নদী শাসন হয়েছে ৭৪ ভাগ।

মূল সেতুর পাশাপাশি এগিয়ে চলছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পও। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত পৌছুবে এই রেল লাইন। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল সেতু চালুর দিন থেকেই সড়কের পাশাপাশি চলবে ট্রেন। তবে, নানা জটিলতায়, সেদিন ট্রেন চলবে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত।

এছাড়া, পদ্মাসেতু হলে সড়কে গাড়ির চাপ বাড়বে বহুগুণ। তাই ১১ হাজার ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙা মহাসড়ক। ৬ লেনের এ মহাসড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪২ মিনিট। এর সুফল এরই মধ্যেই পেতে শুরু করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পদ্মাসেতু হলে জিডিপিতে এর প্রভাব পড়বে শতকরা দুই ভাগ। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে কৃষিতে আসবে বড় পরিবর্তন, হবে শিল্পায়নও। খুলনার মংলা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে সহজ হবে যোগাযোগ। পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সুফল মিলবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451