বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

খুলনা বিভাগে চিকিৎসক ও লোকবল সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • Update Time : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকসহ লোকবল সংকটের কারনে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পাচ্ছেন না তাদের চাহিদা মত সেবা।

বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০ হাজার ৮শ’ ৮২টি পদের বিপরীতে শূন্য পদ রয়েছে ৩ হাজার ৪শ’ ৩০টি। এদিকে রোগীর চাপ সামলাতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে চিকিৎসক এনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক সময় দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। চিকিৎসক ও লোকবল সংকটের কারনে এ রকম বেহাল দশা বিভাগের বেশীর ভাগ হাসপাতালেই।

সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে মোট ১শ’ ৪ জন চিকিৎসকের পদ ফাঁকা রয়েছে। সিভিল সার্জন অফিসে ৩, সদর হাসপাতালে ৯, দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ১১, বটিয়াঘাটায় ১, রূপসায় ১২, তেরখাদায় ১১, দিঘলিয়াতে ১২, ফুলতলায় ৮, ডুমুরিয়াতে ১২, পাইকগাছায় ১০, কয়রায় ১৫, বক্ষব্যাধী ক্লিনিকে ১, টুটপাড়া ও খালিশপুর আর্বান রিসার্সারীতে ৩টি চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়াও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে ফাঁকা রয়েছে বেশ কয়েকটি ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পদ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২শ’ ৬৯টি চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছেন ১শ’ ২৪ জন।

বাকি ১শ’ ৪৫টি পদে চিকিৎসকের প্রয়োজন হলেও নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার কারনে ফাঁকা থেকে যাচ্ছে। এদিকে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ বন্ধ থাকায় খুমেক হাসপাতালে অস্থায়ী আউটসোসিং কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করাতে যেয়ে অনেকটা হিমসিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও খুমেক হাসপাতালে নার্সিং’-এ ১৫, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর জন্য ৬৮টি পদ ফাঁকা রয়েছে বলে জানা গেছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ মেহেদি নেওয়াজ এই প্রতিবেদক কে বলেন, ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট খুমেক হাসপাতালে যেখানে ৫শ’ রোগী ভর্তি থাকার কথা সেখানে রোগী আছে প্রায় ১২শ’। তাছাড়াও আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় ১২-১৫শ’ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এত পরিমাণ রোগীকে সামাল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। আর সে কারনেই রোগীরা তাদের কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় রোগীর চাপ সামলানোর জন্য বিভিন্ন উপজেলা থেকে চিকিৎসক আনা হয় খুমেক হাসপাতালে। এক একজন চিকিৎসকের ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকার কারনে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে রোগীর সাথে চিকিৎসকের একটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

তাই দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ না দিলে এ পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা প্রকাশ করেন চিকিৎসক এ নেতা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার এই প্রকিবেদক কে বলেন, এই হাসপাতালে চিকিৎসকসহ অনেকগুলো শূন্য পদ রয়েছে। এতে রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা দিতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ে খালি পদগুলোতে নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সাথে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক।

তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র করোনার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সারাদেশে ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা এখন বিভিন্ন উপজেলায় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। করোনার জন্য নিয়োগকৃত এ সব চিকিৎসকরা মাঝে মাঝে খুমেক হাসপাতালে এসে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সাহায্য করেন বলেও জানান তিনি।

খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০ হাজার ৮শ’ ৮২টি মঞ্জুরকৃত পদের বিপরীতে শূন্য পদ রয়েছে ৩ হাজার ৪শ’ ৩০টি। চিকিৎসকদের ১ হাজার ৯শ’ ২৩টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৬শ’ ৯৬ টি, ৩য় শ্রেণীর ৬ হাজার ৮শ’ ৭১টি মঞ্জুরকৃত পদের বিপরিতে শূন্য রয়েছে ১ হাজার ৯শ’ ৪৯টি পদ এবং ৪র্থ শ্রেণীর মঞ্জুরকৃত ২ হাজার ৪৮টি পদের বিপরিতে শূন্য পদ রয়েছে ৭শ’ ৮৫টি।

স্বাস্থ্য আধিদপ্তর খুলনার পরিচালক ডাঃ রাশেদা সুলতানা এই প্রতিবেদক কে বলেন, করোনাকালীন সময়ে সারা দেশেই চিকিৎসক, নার্সসহ ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। করোনার কারনে বেশ কিছু নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। যে সকল জায়গায় জনবল নিয়োগের প্রয়োজন, সে সকল স্থানেই আস্তে আস্তে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান বিভাগে শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone