বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

দিলীপ কুমার রায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এক প্রতিভাময় সাইক্লিষ্ট

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • Update Time : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অত্যন্ত সদালাপী, বিনয়ী ও পরিশ্রমী মানুষ দিলীপ কুমার রায়। বাংলার ৬৮ হাজার গ্রামরে একটি অখ্যাত গ্রাম পাঁচ আনি। খুলনা জেলার রূপসা থানার অন্তর্গত। অখ্যাত গ্রামের আর অখ্যাত এক দরিদ্র কিশোর দিলীপ কুমার রায়-কে দু’দশক আগে কেউ চিনত না। কিন্তু নিজ প্রতিভাগুণে তাঁর ভাঙ্গা পুরোনো সাইকেলে চৌকষ ক্রীড়া নৈপূণ্য দেখিয়ে ইতিমধ্যে খ্যাত হয়েছেন।

এ পর্যন্ত পাঁচ’শর বেশী প্রদর্শনী করেছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)’র জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার নাম ছড়িয়ে পড়েশে দেশে বিদেশে। কিভাবে এসব সম্ভব হলো এই অধ্যবসায়ের নেপালিনীর কাহিনী তার জন্য ফিরে যেতে হবে ২০ বছর আগে। গ্রামের রিক্সা মেরমতকারী বাবা ললিত মোহন রায়ের ১১ সন্তানের বড় হচ্ছে এই দিলীপ। সাইকেল-রিকসা মেরামতকারী পিতার সংসার দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত।

সংসারের বিরাট বোঝা টানতেই ললিত মোহন’র প্রাণকন্তকর অবস্থা। ছেলেমেয়েদেরও লেখাপড়া করানো তার কাছে বিলাসিতার শামিল। ৭ বছর বয়সে যখন গাঁয়ের আর ক’জন ছেলেমেয়ের সাথে লেখাপাড়া করার কথা, সেই বয়সে বাবাকে সাহায্য করার জন্য নিতে হলো কঠিন হাতে লোহা লক্করের কঠিন স্পর্শ। স্বাধীনতার পর জীবিকার তাগিদে বাবা চলে এলেন খুলনা শহরে। পুরাতন হেলিপোর্ট- এর প্রেসক্লাব ভবনের কাছে ছোট্ট একটি ঘরে। শুরু করেন সাইকেল-রিকসা মেরামতের কারবার।

আগে কিশোর দিলীপ জীবিকার তাগিদে সাইকেল চালানো শিখতে শুরু করেন ছোট্ট হেলিপ্যাডে। অগণিত শিশু-কিশোর যুবককে ভাড়ার মাধ্যমে সাইকেল চালানো শিক্ষা দেয়াই হলো তার মূল পেশা। এর মধ্যে একটি ঘটনা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। ১৯৭৪ সালে রাস্তার পাশে লোকজনের ভিড় দেখে কৌতুহলী কিশোর দিলীপ এগিয়ে গেল। অবাক হয়ে দেখলো একজন লোকের সাইকেল নিয়ে ক্রীড়া নৈপূণ্য। ঘটনাটি দারুণ প্রভাব ফেলে কিশোর দিলীপ’র মনে। সাইকেল চালানো শেখানোর ফাঁকে ফাঁকে রাত দিন শুরু হলো তার কঠিন অধ্যাবসায় অনুশীলন। ধীরে ধীরে আয়ত্তে আসলো সাইকেল নিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গির খেলার কৌশল।

এক আধটু করে জনসম্মুখে প্রদর্শন শুরু করলো তার ক্রীড়া শৈলী। এমনিভাবে দিন-মাস-বছর পেরিয়ে সে হয়ে উঠলো দক্ষ পরিণত সাইক্লিষ্ট। এর মধ্যে সে সারা খুলনা শহরসহ আশপাশের জেলা দেখিয়েছে তার আশ্চর্য সাইকেল খেলা। নাম ডাক পড়ে গেল আনাচে কানাচে। ইতোমধ্যে রপ্ত করেছেন ৬০টি বিভিন্ন রকম খেলা। প্রদর্শনী করেছে ৫’শর বেশী। সার্টিফিকেটও অর্জন করলো বেশ কিছু। ক্রীড়া নৈপুণ্যের মধ্যে রয়েছে চলন্ত সাইকেলে দাঁড়িয়ে একটি শিশুকে নিয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া নৈপূন্য। চারটি শিশুকে শুইয়ে নিয়ে সাইকেল চালানো।

৩টি কাঁচের গ¬াসের উপর সাইকেল প্রদর্শন। ৫টি সাইকেল নিয়ে ক্রীড়া, ব্যাক ফ্রন্ট থেকে তিনটি সাইকেল এক সাথে চালানো ইত্যাদি। সাইক্লিষ্ট দিলীপ কুমার রায়’র চিত্তাকর্ষক সাইকেল ক্রীড়াশৈলী কোটি কোটি হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী। অসংখ্য ক্রীড়ায় খ্যাতি অর্জন বিভিন্ন জাতীয গণমাধ্যমে স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ। শৈলীচিত্র প্রদর্শনে সার্বিক ব্যবস্থা দানে সহানুভূতি স্পন্সর ও পৃষ্টপোষকতা চায়।

এক নজরে সাইকেল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সহায়তায় অংশগ্রহণঃ ১৯৭৫ হতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়ানুষ্ঠানে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্লাব বিনোদনমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্টানে শোভাযাত্রা, বর্ণাঢ্য র‌্যালীতে অংশগ্রহণ। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেলস, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন সেবামূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য- শিক্ষা কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়ায় বিভিন্ন সনদপত্র সার্টিফিকেট প্রশংসা পত্র অর্জনকারী জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সাইকেল ক্রীড়াশৈলী ও চিত্র প্রদর্শনে বর্হিঃবিশ্বে প্রচারে সহায়তাদানে, ক্রীড়া উন্নয়নে, প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে, প্রশিক্ষণে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা আন্তরিক শুভেচ্ছা স্পন্সর পৃষ্ঠপোষকতার আশাবাদী। ব্যক্তিগত জীবনে দিলীপ কুমার রায় বিবাহিত। ১পুত্র সন্তানের জনক। ছেলেটির নাম জয়। ক্রীড়াই তার প্রধান জীবন।

এছাড়া ক্যারাম খেলায়ও তুখোড় পারদর্শী দিলীপ কুমার রায়। তাকে প্রয়োজন হলে ৪৯ ষ্টেডিয়াম মার্কেট (বড় মাঠ) খুলনায় যোগাযোগ করলে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সাইকেল ক্রীড়ার একটি অনন্য রেকর্ড সৃষ্টির জন্য তার অদম্য ইচ্ছা। এ সুযোগ সে যদি পায় তবে অবশ্যই দিলীপ কুমার রায় তার সম্ভাবনা ও প্রতিভা তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। এই প্রতিভাকে যথাযথ মূল্যায়নের জন্য সরকারী বেসরকারী মহলের প্রতি আমাদের আহবান যেন তারা একজন প্রতিভাময় সাইক্লিষ্টকে জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ দিতে সচেষ্ট হন।

আর্থিক দৈন্যতা থাকা সত্ত্বেও মানব সেবার সুযোগ পেলে এগিয়ে আসেন। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যার্থে দিলীপ কুমার রায় বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্জিত সমুদয় অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেন। দিলীপ কুমার রায় সাইকেলের ক্রীড়া নৈপুণ্য শেখানোর জন্য এখন একটি প্রতিষ্ঠান খুলতে চান, শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণে রেখে যেতে চান তার উত্তরসূরী। পৃষ্টপোষকতা সহযোগী স্পন্সর পেলেই তিনি গড়ে তুলতে পারেন প্রশিক্ষণ সেন্টার ও মিউজিয়াম গ্যালারী এবং তথায় গড়ে তুলতে পারেন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শেখানো হবে সাইকেলের যাবতীয় ক্রীড়া কৌশল। সে ক্ষেত্রে দিলীপ কুমার রায় ক্রীড়া কৌশলীর দূর্লভ চিত্র প্রদর্শন বর্হিঃবিশ্বের সকলের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা কামনা করেছেন।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone