বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন

বিরামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোটি টাকা লোপাটের চেষ্টা

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি (দিনাজপুর ) :
  • Update Time : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য ২০১৯/২০ অর্থবছরে ২কোটি ২৭লক্ষ্য ৮০হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ডিসেম্বর ২০১৯সাল থেকে উক্ত টাকা জুন ২০২০ সালের মধ্যে কাজ করে কাজের প্রতিবেদন নথিপত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা থাকলেও বিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিনারা বেগম উক্ত টাকার কাজ না করে ব্যাংকে জমা রেখে আট মাসে প্রায় ১০থেকে ১২ লক্ষ্য টাকা মুনাফা লাভ্যাংশের টাকা এবং কাজ না করে কোটি টাকা লোপাটের চেষ্টা করেছিলো স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসার মিনারা বেগম।

এইমর্মে এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়ার পর এবিষয়ে শিক্ষা অফিসার মিনারা বেগমের নিকট বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন করোনার কারণে স্কুল বন্ধ আছে তাই কাজ করা সম্ভব হয় নাই। পাল্টা প্রশ্ন করা হয় যে, ডিসেম্বর থেকে মার্চ চার মাস স্কুল খোলা ছিলো এসময়ের মধ্যে কাজ করা যেত করেননি কেন? তিনি বলেন করা হয়নি করবো কাজ চলমান আছে। কিন্তু করোনা তো এখনো আছে।

তিনি কর্মস্থলে থাকার কথা কিন্তু তিনি থাকেন না। প্রতিদিন সৈয়দপুর থেকে বিরামপুর প্রায় ৬০কিলো রাস্তা ট্রেনযোগে আসেন। ফলে যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হতে পারেন না। স্কুলগুলোর তথ্য চাওয়া হলে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অফিস সহকারী বড় বাবু গোল চেহারার নিকট থেকে জেনে নিতে বলেন। গোল চেহারা শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষরিত স্কুলগুলোর একটি তালিকা সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেন। তালিকার তথ্য মতে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলায় ১১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

বরাদ্ধকৃত অর্থের মধ্যে ৩৯টি স্কুলের উন্নয়নের খাতে দুই লক্ষ্য টাকা এবং ২১টি স্কুলের জন্য ১লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকা এছাড়াও প্রতিটি স্কুলের বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় সংক্রান্ত বাবদ স্লিপের ১৭টি স্কুল ৭০ হাজার টাকা ৯৯টি স্কুল ৫০ হাজার টাকা প্রাক প্রাথমিক শিখন শিক্ষা খাতে ১১৬টি স্কুল ১০ হাজার করে টাকা, ওয়াসব্লক সংক্রান্ত ৭টি স্কুল ২০হাজার টাকা, নীড বেইসড প্লেয়িং এক্সেসরিজ বাবদ ৯টি স্কুল ১লক্ষ্য ৫০হাজার টাকা, রুটিন মেইন্টেনেন্স বাবদ ৭৬টি স্কুল ৪০ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ২৭লক্ষ্য ৮০হাজার টাকা বরাদ্ধ পেয়েছে। এভাবে একই স্কুল একাধিক বরাদ্ধ পেয়েছে।

বরাদ্ধকৃত অর্থের কাজ হয়েছে কিনা সরেজমিনে দেখার জন্য বিরামপুর উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিকগণ আগষ্ট মাসের দুই সপ্তাহ ধরে মটরসাইকেলযোগে মাইলের পর মাইল ঘুড়ে ঘুড়ে খুজে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে প্রধান শিক্ষকের সময় অনুযায়ী স্কুলে উপস্থিত হয়ে প্রাপ্ত অর্থের কাজের তালিকা দেখতে চাইলে বিশেষ করে ঢেলুপাড়া স্কুল মির্জাপুর স্কুল, শান্তি নগর স্কুল, শ্রী পুর স্কুল, চতুরপুর স্কুল, চরকাই স্কুল এভাবে বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা যায় উন্নয়ন খাতের লক্ষ্য লক্ষ্য টাকার কাজ অধিকাংশ স্কুল করে নাই।

শুধু স্লিপের টাকার আংশিক কাজ হয়েছে। এছাড়া উন্নয়নসহ অন্যান্য খাতের লক্ষ্য লক্ষ্য টাকার কাজ করে নাই কেন? এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকদের বক্তব্য শিক্ষা অফিসার মিনারা বেগম বরাদ্ধ দেরীতে দিয়েছে। আবার স্টিমিট তৈয়ারীতে উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের সাথে সমঝোতা না হলে স্টিমিট দিতে দেরী করেছে। আবার এমন স্টিমিট দিয়েছে যা এ টাকায় করা সম্ভব নয়। এবিষয়ে প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য শিক্ষকরাই আমাকে বলেছে এমন ভাবে স্টিমিট দিবেন যাতে আমাদের পকেটে কিছু থাকে।

এভাবে একে অপরকে দোষারোপ করায় উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগণ মুঠোফোনে জেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায়ের সাথে কথা বললে তিনি জানান বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন এ বিষয়টি দেখার জন্য জেলা প্রশাসক তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে এ কমিটির প্রধান বিরামপুর সহকারী ভুমি কমিশনার মোহসিয়া তাবাসসুম।

শিক্ষা অফিস থেকে জানা যায়, প্রায় সব স্কুলের কাজ শেষ তবে ১৫-১৬টি স্কুলের কাজ চলমান। এখনো শেষ না হওয়ায় এই ১৬টি স্কুলের টাকা প্রদান করা হয়নি। শিক্ষা অফিসার মিনারা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, সহকারী ভুমি কমিশনার ও আমি ১১৬টি স্কুলের মধ্যে মাত্র ২টি স্কুল পরিদর্শন করেছি। তবে কাজ শেষ হলে অক্টোবরের দিকে এসব স্কুল পরিদর্শনের দিকে যাবো।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone