মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

ফকিরহাটে কৃষি কাজের মাধ্যমে ঘুরে দাড়িয়েছে গ্রামীন অর্থনীতি

ফটিক ব্যানার্জী, ফকিরহাট প্রতিনিধি (বাগেরহাট) :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বাগেরহাটের ফকিরহাটে করনার ভয়ের সাথে বৈরি আবহাওয়াকে পাশ কাটিয়ে কৃষি কাজের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে গ্রামীন অর্থনীতি। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তার সঠিক দিক নির্দেশনায় এ উপজেলার লখপুুরের প্রায় শতাধিক বেকার জনগষ্ঠি কৃষি কাজের মাধ্যমে সাবলম্বী হয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির আঙ্গিনায় রাস্তার পাশে উন্নত প্রযুক্তিতে সবজির চাষ করে নিজেদের উৎপাদিত ফসলে সবজির চাহিদা পুরন হচ্ছে। বন্যা বা জলাবন্ধতায় যাতে কৃষকের ফসল উৎপাদন বাধাগ্রস্থ না হয় তার জন্য ক্যারিয়ার বেডে, ঝুলন্ত ও ভাসমান পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ সহ চারা উৎপাদনে প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে সবজি চাষ হচ্ছে। ইতমধ্যে পরীক্ষা মুলক ভাবে ঝুলন্ত পদ্ধতিতে পরিত্যাক্ত প্লাষ্টিকের বোতলে জলাবদ্ধ স্থানে বেগুন, মরিচ, টমেটো, শসা, শীমসহ বিভিন্ন সবজি চাষ শুরু হয়েছে।

সবেজমিনে পরিদর্শন কালে বল্লভপুর গ্রামের প্রবেশ দ্বারে পাকা রাস্তার দু’পাশে আগাম শীতকালিন শীম গাছের পরিচর্যা করতে দেখা যায় চাষিদের। এসময় কৃষক কালাম মোল্লা, কাদের মোল্লা, আলামীন শেখসহ অনেকেই বলেন, করোনা কালিন সময়ে বাইরে তেমন কোন কাজ না থাকায় বেকার সময় পার করছিলাম। এসময় রাস্তার পাশের অনাবাদি জমিতে কৃষি দাদা বিপ্লবের (উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা) পরামর্শে আমরা বারি শীম-৬, সীতাকুন্ডের ছুরি শীম,পাতাশীমসহ বিভিন্ন জাতের শীম গাছ লাগাই। প্রতিকেজি শীম ৭০/৮০ টাকা বিক্রি করছি। এছাড়াও লাউ, শসা, মেটে আলু, করল্লা, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছি। বৈরি আবহাওয়া থাকলেও কৃষি দাদার পরামর্শে চাষাবাদ করে ফলন অনেক ভাল হয়েছে। যা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে আমাদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।

কিছুদুর সামনে যেতেই চোখে পড়ে মৎস্য ঘেরের উপর মাচাঁনে ঝুলছে লাউ, শসা ও করল্লা। স্কুল বন্ধ থাকায় বাবা রোকন মোল্লার সাথে গলাসমান পানির উপর লাউয়ের মাচান থেকে ফসল সংগ্রহ করছে নবম শ্রেনীর ছাত্র হাসান মোল্লা। ঘেরের পাড়ে বরবটি শীম তুলছে আলামীন শেখ ও তার স্ত্রী শারমিনা। এসময় সফল চাষি রোকন মোল্লা বলেন, বেকার সময় কাজে লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ২ একর জমির ঘেরের পাড়ে লাউ বরবটি শীম ও শসা চাষ করা হয়েছে। ১শ’টি লাউ গাছে খরচ হয়েছে মাচা করা সহ ৮হাজার টাকা। জৈব সার ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করায় অন্য কোন খরচ হয়নি। প্রতি ১দিন অন্তর ৬০/৬৫ পিচ লাউ বিক্রি করা হচ্ছে। পাইকারী ক্রেতারা ঘেরের পাড় থেকে প্রতি পিচ ২৫-৩০টাকা দরে কিনে নিচ্ছে। ইতমধ্যে ২৫হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। এছাড়াও শীম, শসা ও করল্লা বিক্রি হয়েছে লক্ষ্যাধীক টাকা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এস এম আবুল হোসেন বলেন, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব দাসের পরামর্শে কৃষি কাজের মাধ্যমে লখপুরের প্রায় শতাধিক দরিদ্র বেকার জনগষ্ঠি সাবলম্বি হয়েছে। অধিকাংশ পরিবারে কৃষি কাজের মাধ্যমে এসেছে সচ্ছলতা।

বাগেরহাটের ডিএই উপ-পরিচালক কৃষিবিদ রঘুনাথ কর বলেন, গ্রামীন অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে করনা কালিন সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে ফকিরহাটের লখপুর এলাকার ব্যপক সফলতা দেখিয়েছে চাষিরা। বৈরি আবহাওয়ায় মোকাবেলায় স্থানীয় চাষিদের ফসল উৎপাদন ও প্রযুক্তি গত উদ্ভাবন চর্চার প্রশংসা করেন তিনি।

 

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone