বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

গাংনীতে রাত জেগে ধানক্ষেত পাহারা দিচ্ছে চাষিরা

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বেশ কিছুদিন যাবত অবিরাম বর্ষণে গাংনীর বেশ কিছু বিল ও নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। খাল বিলে দেশী প্রজাতির মাছ ছাড়াও বিভিন্ন পুকুর ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে মাছ বেরিয়ে গেছে বিল বাওড় ও ধানক্ষেতে। ওই মাছ শিকারে সন্ধ্যার পরপরই মৎস্য শিকারীরা ধানক্ষেতে আলোর ফাঁদ পেতে মাছ শিকার ছাড়াও বিভিন্ন মাছ ধরার সরঞ্জামাদি দিয়ে মাছ শিকারে মেতে উঠে। এতে ধানক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শিকারীদের বাঁধা দিতে শেষ পর্যন্ত রাত জেগে ধান ক্ষেতের মালিকরা পাহারা দিচ্ছেন।

গাংনী উপজেলাকৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ৯ টি বিলের ১৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। অবিরাম বর্ষণে বেশ কিছু জমি অনাবাদি থেকে যায়। তার পরও চাষিরা পরিশ্রম করে করে বিভিন্ন বিল থেকে পানি নিষ্কাশন করে ফসল রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু রাতের আঁধারে মাছ শিকারীরা মাছ ধরতে গিয়ে ক্ষেতের ফসল নষ্ট করছে। এতে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীণ হচ্ছেন চাষিরা।

রুয়েরকান্দি গ্রামের ধানচাষি হযরত আলী জানান, শেখ গাড়ি বিলে তার ৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। ভারী বর্ষণে ধানক্ষেত তলিয়ে যাবার কারণে গ্রামের অন্যান্য চাষিরা মিলে খালের মুখ সংস্কার করে নদীতে পানি বের করে দেয়া হয়। কিন্তু বিপত্তি দেখা দিয়েছে মাছ চাষিদের জন্য। এরা রাতে আলোক ফাদ পেতে মাছ ধরা ছাড়াও ঝাকিজান, কৈজাল, কারেন্ট জাল ও চাঁই পেতে মাছ শিকার করায় ধানক্ষেত বিনষ্ট হচ্ছে।

পোকামারী বিলের ধানচাষি সুলতান জানান, বিলে দেশি প্রজাতির মাছ ছাড়াও স্থানীয় অনেকেরই পুকুর ভাটিয়ে মাছ বেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বিলের ধানক্ষেতে। সুযোগ বুঝে মাছ শিকারীরা মাছ ধরছে ও ধানক্ষেত নষ্ট করছে। দিনের বেলা কেউ মাঠে নামে না। রাত যতো গভীর হয় লোকজন ততই বিল ও ধানক্ষেত দখল করে মাছ শিকার করে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে চাষি ও মাছ শিকারীদের সাথে। রাতের আঁধারে কাউকে চেনা যায় না। যদি হত্যা কান্ডের মতো কোন ঘটনা ঘটে যায় সে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। বেশ কয়েকটি বিলের ধানচাষিরা পালাক্রমে রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।

ষোলটাকা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান ও রাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলঅম সাকলায়েন সেপু জানান, ইতোমধ্যে এলাকার লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে রাতের আঁধারে ধানক্ষেত নষ্ট করে মাছ শিকার না করার জন্য। চাষিরা রাত জেগে পাহারা করছেন। প্রয়োজনে মাঠ রাখালী রাখা হবে।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম সাহাবুদ্দীন আহমেদ জানান, ধানক্ষেত বিনষ্ট হলে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। সেহেতু চাষিদেরকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সেই সাথে এলাকার মৌসুমি মৎস্য শিকারী এবং স্থানীয়দেরকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেকেই মাছ শিকারে নিরুৎসাহিত হয়েছেন।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone