সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:১০ অপরাহ্ন

বাবরি মসজিদ মামলায় অভিযুক্ত ৩৬ জনকেই রেহাই

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • Update Time : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রায় তিন দশক পর বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় ঘোষণা হতে চলেছে। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল। প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডভানি, মুরলিমনোহর জোশী, উমা ভারতীর মতো নেতানেত্রীরা মসজিদ ভাঙার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও উস্কানিতে লিপ্ত ছিলেন কিনা, আজ সেই রায় শোনাতে চলেছে লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত। বেলা ১০টায় রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, ১১ টা পর্যন্ত তা শুরু হয়নি। রায় ঘোষণা করবেন বিচারক সুরেন্দ্রকুমার যাদব।

সকাল ১১টার মধ্যে ২৬ অভিযুক্তই আদালতে পৌঁছান। আদালতে হাজিরা দেয়া থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলিমনোহর জোশী, উমা ভারতী, কল্যাণ সিংহ, সতীশ প্রধান এবং রামমন্দির ট্রাস্টের প্রধান নৃত্যগোপাল দাসকে।

আনন্দবাজার জানায়, রায় ঘোষণার সময় সব অভিযুক্তকে সশরীরে আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই মুহূর্তে হাসপাতালে আছেন উমা ভারতী। মহামারির মধ্যে বয়সজনিত কারণে লালকৃষ্ণ আদভানি এবং মুরলিমনোহর জোশী আদালতে যাবেন না বলে জানিয়েছেন আদভানির সচিব দীপক চোপড়া। আদালত ব্যবস্থা করলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তারা আদালতে হাজিরা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কল্যাণ সিংহ। তিনিও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই আদালতে হাজিরা দিতে চান বলে জানা গেছে।

বাবরি ধ্বংস মামলায় মোট ৪৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অশোক সিঙ্ঘল, শিবসেনার বাল ঠাকরে, অযোধ্যার পরমহংস রামচন্দ্র দাসের মতো ১৭ জন ইতিমধ্যে প্রয়াত। বাকি ৩২ জনের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন আইনজীবী কেকে মিশ্র। তিনি বলেন, ‘রায় ঘোষণার সময় কে আদালতে উপস্থিত থাকবেন আর কে থাকবেন না, এখনই তা বলা সম্ভব নয়।’

কড়া নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হয়েছে গোট আদালত চত্বর। অভিযুক্ত, তাদের আইনজীবী এবং সিবিআইয়ের আইনজীবীরা ছাড়া আর কারো আদালতে ঢোকার অনুমতি নেই। একটি মাত্র ফটক দিয়েই আদালতে ঢোকা যাবে। অযথা যাতে জটলা না তৈরি হয়, তার জন্য আদালত সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে অন্য রাস্তা দিয়ে।

আশির দশকের শেষে রাম জন্মভূমি উদ্ধার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন লালকৃষ্ণ আদভানি। সেই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে মসজিদ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে। তখন থেকে মসজিদ ধ্বংসের ফৌজদারি ও মসজিদের জমির মালিকানার মামলা সমান্তরালভাবে চলছিল।

এই মামলায় মোট ৪৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৭ জন মারা গিয়েছেন। ৮৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মারা গেছেন ১৩৪ জন। অনেকে নিখোঁজ। বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। অভিযুক্তদের মধ্যে লালকৃষ্ণ আদভানি, উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংহ, মুরলী মনোহর জোশী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অশোক সিঙ্ঘল, গিরিরাজ কিশোর, বিষ্ণুহরি ডালমিয়া, বিনয় কাটিয়ারের মতো হেভিওয়েট নেতা রয়েছেন।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দেয়, বিতর্কিত জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া ও রামলালা বিরাজমানের মধ্যে সমবণ্টন করে দেয়া হোক। ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ আদালত ২ বছরের মধ্যে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতকে।

এরপর, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের দাবি খারিজ করে বিতর্কিত জায়গায় মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেয় পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। ২ দশমিক ৭৭ একর বিরোধপূর্ণ জমিতে মন্দিরের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ট্রাস্ট গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। আর মসজিদ নির্মাণে সরকারকে অযোধ্যার অন্য কোনো জায়গায় পাঁচ একর জমি দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। রায়ের পরপরই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone