বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:২১ অপরাহ্ন

রাজশাহী মহানগর ডিবিতে ঘুষের টাকা চেকে পরিশোধ

হাবীব জুয়েল, রাজশাহী থেকে :
  • Update Time : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গত ১৩ই জুলাই সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী মহানগর ডিবির ওসি খায়রুল এয়ারপোর্ট থানাধীন বায়া পালপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজশাহী নওহাটা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌফিক হাসান ও তার প্রেমিকাকে গ্রেফতার করেন। এ সময় ডিবি পুলিশের ওসি খায়রুলের অন্যতম প্রধান সোর্স আশিকও উপস্থিত ছিল। তবে কোন রকমের নারী পুলিশ ছাড়াই অভিযান চালানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়।

রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশ তাদের আটক করে থানায় কিংবা ডিবি অফিসে না নিয়ে গিয়ে ঘটনা স্থলেই রাজশাহী নওহাটা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌফিক হাসানের কাছে নগদ ৫ লাখ টাকা দাবি করেন পুলিশ পরিদর্শক খাইরুল ইসলাম । এসময় প্রকৌশলী তৌফিক হাসান ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু প্রকৌশলী তৌফিক হাসান বাকী ২ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধের কথা জানালে ডিবির ওসি খায়রুল এতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং প্রকৌশলী তৌফিক হাসানের ব্যাংক চেক গ্রহণ করেন।

তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুসারে জানা যায়, ঘটনাস্থলে রাজশাহী জেলা পুলিশের তৌহিদ নামের একজন এসআইও এই অভিযানে অংশগ্রহন করেছিলেন। পরিশেষে রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের ওসি খায়রুল প্রেমিক যুগলকে আটক না করে ছেড়ে দিয়ে চলে যান।

এদিকে রাজশাহী জেলা পুলিশের সদর সার্কেলে অনুসন্ধান করলে এসআই তৌহিদুলকে পাওয়া সম্ভব হয়নি । পরবর্তীতে জানা যায় এসআই তৌহিদ ২ সপ্তাহের ট্রেনিংয়ে রয়েছেন।

সার্বিক বিষয় নিয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর ইফতে খায়ের আলম বলেন, এসআই তৌহিদের বিষয় আমাদের কাছে এই ধরনের কোন তথ্য নেই তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর ডিবির ওসি খায়রুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য কারনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছেন উর্ধতন কর্মকর্তারা।তবে সুশীল সমাজের কেউ কেউ বলছেন – ডিসি কিংবা এসির তত্ত্বাবধায়নে থেকেও এই ধরনের একের পর এক ঘুষ বাণিজ্য কিভাবে সম্ভব ?

উক্ত বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি রুহুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- আপনারা জানেন পুলিশ আইনের উর্ধে নন। যেই অপরাধ করুক না কেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার করা হবে। সেই সাথে আমাদের নব্য যোগদানকৃত পুলিশ কমিশনার স্যার দূর্নীতি দমনে বদ্ধ পরিকর।

উল্লেখ্য যে,২০১৪ সালে রাজশাহী বোয়ালিয়া থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর থাকাকালীন রাজ ও শাহী নামের ২ ছাত্রকে ধরে উলঙ্গ করে শারিরীক নির্যাতনকারী হিসেবে সংবাদের শিরোনাম হন । সে সময় রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনও ২ সহোদর ভাইকে দেখতে ছুটে যান হাসপাতালে। শুধু তাই নয় ভারসাম্যহীন পুলিশ আখ্যা দিয়ে ততকালীন পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ করেন ইন্সপেক্টর খায়রুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে।এরপরই পানিশমেন্ট বদলী হন ইন্সপেক্টর খায়রুল।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone