বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:২৩ অপরাহ্ন

তানোর পৌর নির্বাচনে আ”লীগের প্রার্থীর ছড়াছড়ি ফুরফুরে বিএনপি

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ১১৭ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোর পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীর গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন ক্ষমতাসীনরা। সামাজিক যোগাযোগে একাধিক প্রার্থীর ছড়াছড়ি। বিশেষ করে বহিরাগত ক্ষমতাসীন দলের নেতা আবুল বাসার সুজনের জন্যই একাধিক প্রার্থী ভোট করার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন একাধিক সিনিয়র নেতারা নিশ্চিত করেন।

কারন চলতি বছরের ১৭ জুলাই আ”লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বহিরা গত সুজন কে স্থানীয় সাংসদ বাঘের বাচ্চা বলে আগামী নির্বাচনের পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। যদিও এখন সেই শুর পালটিয়ে দলের সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে বিভিন্ন দলীয় সভায়। এতে করে ক্ষমতাসীন স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অপর দিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের কোন বিকল্প প্রার্থী দেখছেন না দলের নীতি নির্ধারকরা। ফলে এক প্রকার ফুরফুরে মেজাজেই আছেন উপজেলা বিএনপির কর্ণধর মিজান।

জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাত্র ১৩ ভোটে ধানের শীষের প্রার্থী মিজানের কাছে পরাজিত হন পৌর আ”লীগের সভাপতি ইমরুল হক। পরাজিত হবার পর থেকেই বিভিন্ন ভাবে মাঠে আছেন ইমরুল। কিন্তু দলের দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে পড়লে স্থানীয় সাংসদ বহিরাগত বোয়ালিয়া থানার আ”লীগের সহসভাপতি ব্যবসায়ী আবুল বাসার সুজনকে পৌর ভোট করার জন্য নির্দেশনা দেন এবং কোন দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়ায় সুজন আমার ছোট ভাই বাঘের বাচ্চা আখ্যায়িত করে প্রার্থী ঘোষণা করেন। যার কারনে সুজনও পৌর এলাকায় নানা ধরনের অনুদান সভা সমাবেশ শুরু করেন।

এমনকি তাকে সাংসদ পৌর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতিও করেন। এতে করে আরো ক্ষুব্ধ হন আ”লীগের নেতা কর্মীরা। এদিকে সাংসদ সুজনকেই প্রার্থী করতে মরিয়া যেমন ঠিক তেমনি ভাবে উপজেলা আ”লীগের সভাপতি সম্পাদক পৌর আ”লীগের ইমরুলকে প্রার্থী করতে ভুমিকা রাখছেন। তাঁরা জানান প্রার্থী মনোনায়ন দিবেন কেন্দ্রীয় বোর্ড। তাঁর আগে কিভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। দলের নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা কমিটি তৃনমূলের মতামত নিয়ে প্রার্থী তালিকা দিবেন জেলা কমিটিকে। জেলা দিবেন কেন্দ্রীয় প্রার্থী বাছায় মনোনায়ন বোর্ডকে। তাঁরা সব দিক বিবেচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

আ”লীগের প্রার্থী হিসেবে নাম আসছে পৌর আ”লীগের সভাপতি ইমরুল হক, বহিরাগত আবুল বাসার সুজন, পৌর আ”লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার, পৌর যুবলীগের সভাপতি রাজিব সরকার হিরো, সাধারন সম্পাদক ওহাব সরদার ও ছাত্রলীগের সাবেক দুই সভাপতি রবিন সরকার, দেলোয়ার হোসেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনের সভায় তালন্দ বাজারে উপজেলা আ”লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী জানান ইমরুল গত নির্বাচনে মাত্র ১৩ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। আমরা কোন বহিরাগত ব্যাক্তিকে চাইনা। ইমরুলের চেয়ে পৌরসভায় যদি জনপ্রিয় নেতা থাকেন তাঁর নামও আমরা সুপারিশ করব। প্রার্থী ঘোষণা হবে কেন্দ্রের মনোনায়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তে। আমরা সভাপতি সম্পাদক থাকা স্বতঃতেও ক্ষমতার দাপটে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সম্পাদক করা হয়েছে নাকি। তবে মনোনায়ন পেতে ইতিপূর্বেই ক্ষমতাসীনরা ব্যাপক ভাবে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন।

অপর দিকে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র তরুণ উদীয়মান নেতা মিজানুর রহমান মিজানের বিকল্প কোন প্রার্থী দেখছেন না দলের নীতি নির্ধারকরা। কারন কঠিন সময়ে মিজান মেয়র হয়ে হাজারো জুলুম নির্যাতন থেকে শুরু করে একাধিক মামলার আসামী হয়েও সাহসিকতার সাথে নবীন প্রবীণদের নিয়ে দল পরিচালনা করে যাচ্ছেন। যার ফলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিআরডিবির ভোটে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

মেয়র মিজান জানান দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে বড়। কারন ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছিলাম আর মহান আল্লাহ ভাগ্যে চেয়ার লিখে রেখেছিল বলেই মেয়র হতে পেরেছি। আমার নামে কত মামলা জুলুম হয়েছে সবাই সেটা জানে। আগামীতে দল মনোনায়ন দিলে ভোট করব, না দিলে যাকে দিবেন তাঁর হয়ে কাজ করব।

পৌর আ”লীগের সভাপতি ইমরুল জানান আমার বিশ্বাস দল আমাকে মনোনায়ন দিবেন। কারন গত নির্বাচনে মাত্র ১৩ ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। এবার মনোনায়ন পেলে এই পৌরসভা প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

বহিরাগত সুজন বিভিন্ন জায়গায় সুর পালটিয়ে বলছেন দল মনোনায়ন দিলে ভোট করব অন্য কাউকেও দিলে তাঁর হয়ে মাঠে থাকব। পৌর যুবলীগের সভাপতি রাজিব সরকার হিরো জানান আমার বিশ্বাস দল আমাকে মনোনায়ন দিবেন। না দিলে সে ক্ষেত্রে কি করবেন সেটা সময় বলে দিবে। সাধারন সম্পাদক ওহাব সরদার জানান জীবনের শুরু থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে অনেক কঠিন মুহূর্তেও দলের সিদ্ধান্ত মাঠে থেকেছি।

আমার বিশ্বাস দল বিশেষ ভাবে বিবেচনা করলে মনোনায়ন পাব। তবে বহিরাগত কোন ব্যাক্তিকে মনোনায়ন দেয়া হলে ভোটের মাঠে থাকব। সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি রবিন সরকার জানান রক্তে মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বাব দাদা থেকে শুরু করে আমাদের বংশের সবাই আ”লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি প্রতিহিংসার স্বীকার হয়েছি বলেই আমার পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

আগামী পৌর নির্বাচনে দল থেকে টিকিট পাব। না পেলেও বহিরাগত কোন ব্যাক্তিকে দেয়া হলে অবশ্যই ভোট করব। আরেক সাবেক নেতা ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু বহিরাগত ব্যাক্তির জন্য প্রার্থী হতে চেয়েছি। বহিরাগত কে মনোনায়ন দিলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোট করব। কারন জীবনটাই পার করলাম আ”লীগ দল করে। আর এখন বহিরাগত ব্যাক্তিকে নিয়ে নাচানাচি শুরু করেছেন ক্ষমতার লোভীরা। স্থানীয় কোন নেতাকে দলের টিকিট দেওয়া হলে প্রার্থী হব না। কিন্তু বহিরাগত ব্যাক্তিকে প্রার্থী করা হলে স্বতন্ত্র হয়ে ভোট করব।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451