রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

অক্টোবর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৮৩ জন, আহত ৬৯৪ জন

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৩৭ বার পঠিত

গত অক্টোবর মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩১৪ টি। নিহত ৩৮৩ জন এবং আহত ৬৯৪ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৬৮, শিশু ৪১। এককভাবে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১১৯ টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৩২ জন, যা মোট নিহতের ৩৪.৪৬ শতাংশ। মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৭.৮৯ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৯৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫.৩২ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪২ জন, অর্থাৎ ১০.৯৬ শতাংশ।

এই সময়ে ৫ টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত, ৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে সাগরে মাছ ধরার ১ টি নৌকা ডুবে ২২ জেলে নিখোজ রয়েছেন। ১৩ টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্টনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনায় বাস যাত্রী ৩৩, ট্রাক যাত্রী ৯, পিকআপ যাত্রী ৫, মাইক্রোবাস যাত্রী ৬, প্রাইভেটকার যাত্রী ৮, জীপ যাত্রী ১, ট্রলি যাত্রী ২, সিএনজি যাত্রী ১১, ইজিবাইক-অটোরিকশা যাত্রী ৪৯, নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ যাত্রী ১৭, লেগুনা-মিশুক যাত্রী ৩, বাই-সাইকেল আরোহী ৫, রিকশা-রিকশাভ্যান ৪ এবং ইটভাঙ্গা গাড়ির ২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক ২ জন, পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ৫ জন, র‌্যাব সদস্য ১ জন, সাবেক সেনা সদস্য ১ জন, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ১৩ জন, সাংবাদিক ৪ জন, প্রবাসী শ্রমিক ৩ জন, ইলেক্ট্রিক ও মোটর মেকানিক ২ জন, প্রতিবন্ধি ৩ জন, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ৭ জন, ঔষধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৬ জন, সওজের কর্মচারী ১ জন, বিদ্যৎ বিভাগের কর্মচারী ১ জন, পোশাক শ্রমিক ৪ জন, কৃষি ও ইটভাঙ্গা শ্রমিক ৭ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ২৪ জন, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতা ১ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ৬ জন, বিশ^বিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজের ২ জন ছাত্রসহ ৫৯ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

এছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছেন সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যান এবং মাইক্রোবাসের চালক। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১৯ টি (৩৭.৮৯%) জাতীয় মহাসড়কে, ১০৩ টি (৩২.৮০%) আঞ্চলিক সড়কে, ৫২ টি (১৬.৫৬%) গ্রামীণ সড়কে এবং ৪০ টি (১২.৭৩%) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনাসমূহের ৮১ টি (২৫.৭৯%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৬৪ টি (২০.৩৮%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৯ টি (৩৪.৭১%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৫২ টি (১৬.৫৬%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৮ টি (২.৫৪%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ী- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২৩.৯৩ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ৩.৫২ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জীপ ৩.৭১ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৩.৭২ শতাংশ, মোটর সাইকেল ২৩.৫৬ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-লেগুনা) ২২.০৭ শতাংশ, নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র ৪.৬৩ শতাংশ, রিকশা-ভ্যান, বাই-সাইকেল ৩.৮৯ শতাংশ এবং অন্যান্য (ডাম্পার, মিশুক, তেলবাহী ট্যাংকার, ইট ভাঙ্গার গাড়ি) ০.৯২ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫৩৯ টি। (ট্রাক ৯৭, বাস ৭৪, কাভার্ডভ্যান ১৪, পিকআপ ১৮, লরি ৪, ট্রলি ৯, ট্রাক্টর ৬, মাইক্রোবাস ১১, প্রাইভেটকার ৭, জীপ ২, সেনাবাহিনীর গাড়ি ১, তেলবাহী ট্যাংকার ১, মোটর সাইকেল ১২৭, নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র ২৫, ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-লেগুনা ১১৯, মিশুক ১, ডাম্পার ১, ইটভাঙ্গার গাড়ি ১, বাই-সাইকেল ৫, রিকশা ও রিকশাভ্যান ১৬ টি।

প্রথম পাতা
সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৩.৮২%, সকালে ২৮.৯৮%, দুপুরে ২১.৯৭%, বিকালে ২৪.২০%, সন্ধ্যায় ৭.৯৬% এবং রাতে ১৩.০৫%।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৮৫ টি দুর্ঘটনায় নিহত ৯৯ জন। সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগে। ১৮ টি দুর্ঘটনায় নিহত ২১ জন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২৩ টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত। সবচেয়ে কম ঝালকাঠি জেলায়। ২ টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ: ১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; ২. বেপরোয়া গতি; ৩. চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; ৪. বেতন-কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা; ৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; ৬. তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; ৭. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; ৮. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; ৯. বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি; ১০. গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ: ১. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে; ২. চালকদের বেতন-কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে; ৩. বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে; ৪. পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; ৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা রাস্তা তৈরি করতে হবে; ৬. পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে; ৭. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে; ৮. রেল ও নৌ-পথ সংস্কার করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে; ৯. টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে; ১০. “সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” এর সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য: গত সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় অক্টোবর মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ২৭৩ টি দুর্ঘটনায় ৩০৪ জন নিহত হয়েছিলেন। এই হিসাবে অক্টোবর মাসে দুর্ঘটনা ১৫% এবং প্রাণহানি ২৬% বেড়েছে। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ২৭৬ জন, অর্থাৎ ৭২%। আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের তুলনায় জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত রয়েছে। জাতীয় মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং মোটরসাইকেল ও স্বল্পগতির যানবাহনের অবাধ চলাচল এ জন্য দায়ী।

এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেশে অসংখ্য রেল ক্রসিং অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং মাঝে মধ্যেই ট্রেনের সঙ্গে সড়ক পরিবহনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব রেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গত মাসে ২ টি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের বসত ঘরে ঢুকে পড়ে। এতে ৩ জন ঘুমন্ত শিশু-কিশোর নিহত হয়। চালকদের সতর্কভাবে যানবাহন চালানো এবং সড়ক-মহাসড়ক ঘেষে বাড়িঘর নির্মাণ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মূলত সড়ক দুর্ঘটনারোধে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং গণপরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা- উভয়ই জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451