বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫৫ অপরাহ্ন

প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে জলাশয়

জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নীলফামারী) ঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০
  • ১০৫ বার পঠিত

সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়া ও বাঁশবাড়ি মহল্লার মধ্যবর্তী রেলওয়ের জলাশয়ের বিস্তীর্ণ অংশ ইতোমধ্য চলে গেছে অবৈধ দখলে। বর্তমানে জলাশয়টির পূর্ব পাশের রাস্তা ঘেঁষে ময়লা আবর্জনা ও মাটি ফেলে ভরাট প্রক্রিয়া চলছে। অল্প দিনেই ওই অংশ স্থানীয় প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে চলে যাবে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্হানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দখলের ফলে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে জলাশয়ের আয়তন। ফলে অতি বৃষ্টিতে এটি ভরাট হয়ে সংলগ্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এলাকায় বাসা বাড়িতে ঢুকে যায় নোংড়া পানি। এ সময় উভয় পাশে বসবাস করা মানুষ হয়ে পড়ে পানি বন্দি। আবার শুকনা মৌসুমে জলাশয়ের কচুরিপানা ও নোংড়া পানি পরিণত হয় মশক উৎপাদনের কারখানায়।

সাবেক পৌর কাউন্সিলর গুড্ডু জানান, ১৩ ও ১৪ নং ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে অবস্থান জলাশয়টির। এক যুগ আগেও এর পানি ছিল স্বচ্ছ এবং গভীরতাও ছিল অনেক। যে কারণে কয়েজন ব্যক্তি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অংশ বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে মাছের চাষ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ প্রাপ্তদের কেউ কেউ কিছু অংশ ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। আবার ভরাট অংশের কিছু প্লট আকারে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোট অংকের অর্থ।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, জলাশয়ের কিছু অংশ কয়েকজনের নামে বরাদ্দ রয়েছে বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, সময়মত বরাদ্দ নবায়ন না করায় এবং খাজনা বকেয়া রাখায় বরাদ্দগুলো বাতিল হয়ে যায়। ফলে জলাশয়টি পরিত্যক্ত বেওয়ারিশ সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। আর এ সুযোগে চলছে অবাধ দখলবাজি।

সূত্রটির মতে, এর পিছনে ইন্ধন রয়েছে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড দুটির জনপ্রতিনিধি ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর।

এ প্রসঙ্গে এলাকার একাধিক সূত্র জানান, জলাশয়টি যখন গভীর ও পূর্ণাঙ্গ অবয়বে ছিল তখন বর্ষা মওসুমে প্রাথমিক পানি সংরক্ষণের কাজ করতো এটি। এছাড়াও এ জলাশয়ের সাথে একটি কালভার্টের মাধ্যমে যুক্ত ছিল পাশের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরের আরেকটি ডোবার সাথে। বর্ষা মৌসুমে মূল জলাশয়ের অতিরিক্ত পানি ওই কালভার্টের মাধ্যমে গিয়ে পড়তো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরের ডোবায়।

আর ওই জলাশয়ের সাথে পাশের ব্যাকবোন (বড় নালা) ড্রেনের সংযোগ থাকায় জলাশয়ের অতিরিক্ত পানি গিয়ে পড়ত ওই ড্রেনে। ফলে এলাকাটি থাকত জলবদ্ধতা মুক্ত। কিন্তু চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে মূল জলাশয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ডোবার সংযোগ রক্ষাকারী কালভার্ট ভেঙ্গে ভরাট করে সড়কে পরিণত করা হয়। সেই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ডোবাটি ভরাট করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কালভার্ট ও ডোবা ভরাট করার ফলে এখন আর মুল জলাশয়ের অতিরিক্ত পানি বেড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হচ্ছে সংলগ্ন এলাকায়।

সূত্রটি জানায়, এ নিয়ে সে সময় স্থানীয়রা পৌর কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগ করলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোন পদক্ষেপ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, জলাশয়টির মালিকানা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। এ ক্ষেত্রে পৌরসভার কিছু করার নেই।

১৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা উর্দূ কবি ও মানবাধিকার কর্মী আশরাফুল হক বাবু বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ও জলাশয়টির আয়তন ছিল বিশাল। বর্ষায় এটি রুপ নিতো লেকের মত। সেসময় শিশু কিশোরসহ অনেকে গোসল করত জলাশয়ের স্বচ্ছ পানিতে। বিকেলে জলাশয়ের কালভার্টগুলোতে আড্ডা দিতো এলাকার মানুষ। কিন্তু দখল দুষণে এটি ভরাট হয়ে যাচেছ। ভূমিখেকোরা এর চারপাশ ভরাট করে গড়ে তুলেছে গরুর খামার, বাসা বাড়ী, শিল্প প্রতিষ্টান। সেই সাথে বাসা বাড়ীর নালা-নর্দমার সংযোগ দেওয়া হয়েছে এ জলাশয়ে। এমনকি সংলগ্ন এলাকার অনেক বাড়ীর সার্ভিস ল্যাট্রিনের সংযোগ দেওয়া হয়েছে জলাশয়ে। ফলে শুস্ক মৌসুমে এর পানিতে পঁচন ধরে প্রকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এলাকা জুড়ে।

বর্তমানে জলাশয়ে পানির কোন অস্তিত্ব দৃষ্টিগোচর হয় না। পুরো জলাশয় কচুরিপনা ও জলজ উদ্ভিদে পরিপূর্ণ। সূত্রটির মতে, বাঁশবাড়ী ও মিস্ত্রীপাড়া জুড়ে যে মশার উপদ্রব তার অন্যতম কারণ হলো এ জলাশয়টি। মশকুল উর্বর ক্ষেত্র হিসাবে এখানে বংশ বিস্তার করে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে।

১৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান যে ভাবে জলাশয়টি দিন দিন দখল হয়ে যাচ্ছে তাতে দেখা যাবে কয়েক বছর পর এর আর অস্তিত্বই থাকবে না। যা এলাকার পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলবে। তারা বলেন, যেহেতু জলাশয়টির মালিকানা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নাই।

এ ব্যাপারে কথা হয় পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারের সাথে তিনি জানান, সৈয়দপুর রেল বিভাগের সাথে পৌর পরিষদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকে মামলা চলে আসছে। মামলার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451