সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন

জবাবদিহিতা ও সুশাসনের অভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • Update Time : সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১

স্বাধীনতার মাসে আমরা এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলেও নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনতে পারিনি। বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে নারী নির্যাতন একটি কালো দাগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের পাশাপাশি জবাবদিহিতার অভাব, সুশাসনের ঘাটতি, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা ইত্যাদি নারী নিপীড়ন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে নারীকে অপমান করা আইন করে বন্ধ করা উচিত। কোন ধর্মই নারীকে ছোট করার কথা বলেনি। ধর্মের অপব্যাখ্যা একটা গর্হিত অপরাধ। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে নারীকে অবমাননা করার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

আজ (৮ মার্চ ২০২১, সোমবার) রাজধানীর এফডিসি’তে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১ উপলক্ষে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

‘সম্মতিহীন অন্তরঙ্গ সম্পর্ক নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি করছে’ শীর্ষক এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা সিটি কলেজকে পরাজিত করে শরীয়তপুরের মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ বিজয়ী হয়।

শাহীন আনাম আরো বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে ২৫টি ধর্ষণ মামলার আসামিদের মধ্যে ২০ জন আসামিই জামিনে মুক্ত হয়েছে। অথচ ধর্ষণ অপরাধ জামিন অযোগ্য। আইনের ফাঁকে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও অনেক সময় নারীর প্রতি সহিংসতার যথাযথ প্রতিকার পাওয়া যায় না। স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নিপীড়ন বিরোধী কমিটি গঠন করতে হবে। সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরী।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সর্বস্তরে নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না। তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়সূত্র ধরে তরুন-তরুনীদের মধ্যে ভালোবাসার প্রলোভনে অন্তরঙ্গ সম্পর্কও তৈরী হচ্ছে। ফেসবুক, ইমু, লাইকি, টিকটক, ইনস্ট্রাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে ফ্যান্টাসির কারণে টিন এইজাররা শারিরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে।

রাতারাতি খ্যাতি অর্জন ও আর্থিক লোভে পড়েও অনেক তরুণ-তরুণী বিপথগামী হচ্ছে। ধর্ষণের শিকার হচ্ছে অনেক নারী। মাদকাসক্ত হয়ে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে। তবে অনেক সময় দেখা যায় ব্ল্যাকমেইল করে নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

আবার ধর্ষণের ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে নারীকে বারবার ধর্ষণ ও চাঁদা আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব করা ক্ষেত্রে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। না জেনে, না চিনে, না বুঝে ভালোবাসার প্রলোভনে না পড়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেয়া উচিত।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডা। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন সাংবাদিক সবুজ ইউনুস, ফারহানা রহমান, মোর্শেদা ইয়াসমিন পিউ, রোকসানা আনজুমান নিকল ও ড. এস এম মোর্শেদ। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

 

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone