বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামে কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনার ফলোআপঃ থানায় জিডি করেও শেষ রক্ষা পায়নি মিন্টু

মোঃ সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
  • Update Time : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১

কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আতাউর রহমান মিন্টু সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় ঘটনার আগেই সদর থানায় সাধারণ ডায়রি করেছিলেন। দেড় মাস আগেই তিনি প্রাণহানির আশংকায় সদর থানায় সাধারণ ডায়রি করলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ ব্যাপারে কোন ভূমিকায় রাখেনি। ফলে গতকাল মঙ্গলবার দুর্বৃত্তদের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়ে সাবেক ওই ছাত্রলীগ নেতা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ।

সন্ত্রাসী হামলার শিকার সাবেক ছাত্র নেতার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা মিন্টুকে চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় করতেই তার উপর এ বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও পূর্বশত্রুতার জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে একাধীক সূত্র জানিয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা শহরের মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আতাউর রহমান মিন্টু গতকাল ১৬ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পালপাড়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলার শিকার হন । ধারালো ছুরির আঘাতে তার ডান হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ-সময় মিন্টু রাস্তার পাশের খাদে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার অপর হাত ও দুই পা গুরুতর জখম করে । পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন গুরুতর জখম মিন্টুকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

কুড়িগ্রাম সদর থানার একাধিক সূত্র জানায়, সাবেক ওই ছাত্র নেতা তার বাড়িতে হামলাসহ জীবননাশের আশঙ্কায় চলতি বছর জানুয়ারি মাসে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছিলেন। যার নং-১২৮৭। তারিখ ২৭.০১.২০২১। ওই সাধারণ ডায়রিতে তিনি কাঁঠালবাড়ী বাজার এলাকার বাসিন্দা বাঁধন, রশীদ ও শামীমসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাড়িতে হামলা ও প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থাও নিয়েছে বলে দাবী পুলিশের।

এদিকে, পুলিশ ও স্থানীয় একাধীক সূত্র জানায়, পূর্ব বিরোধের জেরেই মিন্টুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঁঠালবাড়ী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাঁঠালবাড়ী এলাকায় বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাঁধনের মাথায় গুরুতর জখম হয়।

আহত বাঁধনকে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে দীর্ঘদিন পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে। এরপর থেকেই সে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নানা ভাবে মিন্টুকে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে স্থানীয় লোকজন জানান। ওই সময় ওই ঘটনায় বিএনপি দলীয় স্থানীয় এক নেতাসহ সাবেক এই ছাত্রনেতা আতাউর রহমান মিন্টুর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। সেই হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার হুকুমের আসামি আতাউর রহমান মিন্টু।

স্থানীয়রা আরও জানান, আতাউর রহমান মিন্টু জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলীর আপন ভাগিনা। বাঁধনও একই দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। কাঁঠালবাড়ী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রমতে, মঙ্গলবার ১৬ মার্চ মিন্টুর ওপর হামলাকারীদের মধ্যে বাঁধন নামে এক যুবক ছিল। আহত মিন্টুর সাথে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া রাজুকে আহত মিন্টু জানান, ঘটনাস্থলে বাঁধনসহ ছয়জন আগে থেকে ছিল। মোটরসাইকেলে আনিছ নামে এক যুবকসহ মিন্টু ছিনাইয়ের পালপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থাতেই মিন্টুর ডান হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে বাঁধন।

এতে মিন্টুর ডান হাতের কব্জি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় আনিছ পালিয়ে গেলেও মিন্টুকে উপুর্যপুরী কোপাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। এতে মিন্টু মোটর সাইকেল থেকে রাস্তার পাশে একটি খাদে পরে যান। এতেও ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা। ওখানেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মিন্টুর দুই হাত ও দুই পায়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সন্ত্রাসীরা।

রাজু বলেন, ‘ গুরুতর আহত মিন্টু তার ওপর হামলাকারীদের চিনতে পেরেছে। সে তার স্বজনদের কাছে হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে বর্তমানে তার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে বাঁধন পলাতক রয়েছে। তবে বাঁধনের মা ও কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য (১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড) মর্জিনা বেগমের দাবি, তার ছেলে এ ঘটনায় জড়িত নন। তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মর্জিনা বেগম বলেন,‘ বাঁধন এ ঘটনায় জড়িত নয়। যে সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে তখন বাঁধন বাড়িতে ছিল। সে ওই সময় গোসল করতে ছিল। অনেকে বাড়িতে এসে তাকে দেখেছে। তবে হামলার ঘটনায় বাঁধনের নাম আসার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে বলে জানান ইউপি সদস্যা।

এদিকে পুলিশ এই হামলাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গন্য করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্রিয় রয়েছে বলে জানায়।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইন চার্জ খান মো. শাহরিয়ার জানান, পূর্ব বিরোধের জেরেই মিন্টুর ওপর হামলা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মামলা না হলেও ইতোমধ্যে কয়েকজন হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেফতারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।

ঘটনাস্থল রাজারহাট থানা এলাকায় হওয়ায় ওই থানা পুলিশও ঘটনার তদন্তে মাঠে কাজ করছে।

রাজারহাট থানার ওসি রাজু সরকার জানান, এ ধরণের হামলা অত্যন্ত অমানবিক। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশিয় অস্ত্রসহ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এখনও থানায় মামলা হয়নি। মামলা হলে এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) উৎপল কুমার রায় বলেন, ‘একটি ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আমরা এটি অপরাধ হিসেবেই দেখছি এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি।

মিন্টুর করা জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন ‘ওই জিডি নিয়ে ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। মামলা হলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone