রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

স্বাধীন কোন দলের খুঁজে বের করবে পুলিশ: গ্রেফতার আরোও ১১জন

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
  • Update Time : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১

সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু সম্প্র্রাদায়ের গ্রাম ভাংচুর ও লুটপাটের মামলার প্রধান আসামী শফিকুল ইসলাম স্বাধীন কোন দলের তা খোঁজে বের করবে পুলিশ। তবে অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। আজ রবিবার (২১শে মার্চ) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার আরো জানান- গত শনিবার থেকে আজ রবিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আরো ১১জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দায়েরকৃত ২ মামলায় এপর্যন্ত মোট ৩৩জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন জায়গায় ইসলামী জলসা, সভা ও সমাবেশ বন্ধ রাখার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। এনিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলেম-ওলামাদেরকে নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন মতবিনিময় সভা করেছেন।

অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামী শফিকুল ইসলাম স্বাধীন মেম্বার যুবলীগের কেউ নয় বলে দাবী করে প্রেসবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জেলা যুবলীগের আহবায়ক খায়রুল হুদা চপল। তারা এনিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের রমিজ বিপনির জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানান- ২০০৭ সালের পর থেকে দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় যুবলীগের কোন সাংগঠনিক কমিটি নেই।

শাল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মূল ঘটনাকে আড়াল করার জন্য একটি কুচক্রি মহল শহিদুল ইসলাম স্বাধীন মেম্বারকে যুবলীগ নেতা বলে প্রচার করছে। এটা একটা ষড়যন্ত্র। সে শাল্লা যুবলীগের কোন কমিটিতে নেই সে যুবলীগের কোন সদস্যই নয়।

তবে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- সাম্প্রদায়িক হামলার প্রধান আসামী শফিকুল ইসলাম স্বাধীন মেম্বারের বাড়ি জেলার দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের নাচনী গ্রামে। তিনি দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইপি সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এব্যাপারে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন- নোয়াগাঁও গ্রামের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বাধীন মেম্বারের বিরোধ ছিল। পুলিশ এসব বিষয় তদন্ত করছে। কে দোষী আর কে নির্দোষ সেটা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয় নিয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত ও অভিযান চলছে।

উল্লেখ, গত ১৭ই মার্চ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালিয়ে ৮৭টি বাড়িঘর ও ৬টি মন্দির ভাংচুর করে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয়।

এঘটনার প্রেক্ষিতে শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বাদী হয়ে ১টি মামলা ও শাল্লা থানার এক এসআই বাদী হয়ে ১টি মামলা দায়ের করা হয়।

দায়েরকৃত ২টি মামলার প্রধান আসামী করা হয় শফিকুল ইসলাম স্বাধীন মেম্বারকে। এছাড়া মামলায় ৭০-৮০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আসামী করা হয় আরো দেড়হাজার জনকে। তবে হামলার ঘটনার পর থেকে চারদিকে আংতক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone