সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

বাগেরহাটে সড়কের পাশে জমজমাট খাঁটি দুধের হাট

বাগেরহাট প্রতিনিধি :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

বাগেরহাটের খাটি দুধের হাট নতুন নয়,এটি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী হাট। প্রতিদিন দুধের এই হাটে জমজমাট থাকে ক্রেতা–বিক্রেতাদের সমাগমে। ভোর থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার লিটার দুধ বিক্রি হয় এই হাটে। তবে এবার করোনার কারনে লকডাউনে কেজিতে দুধের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। এই অবস্থায় দুগ্ধ খামারীরা তাদের গো-খাদ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বাগেরহাটের খুলনা মোংলা মহাসড়কের পাশে চুলকাঠী বাজার এলাকায় প্রতিদিন-ই বসে দুধের হাট। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই হাটে খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, মোংলা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা দুধ কিনতে আসেন।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকালে চুলকাঠী সড়কের পাশে বসা দুধের হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেউ পায়ে হেটে, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ বা ভ্যানে, কেউ আবার গাড়িতে নানা ধরনের পাত্রে দুধ নিয়ে আসছেন এই হাটে দেুধ বিক্রি করতে। পাইকারদের ছাড়াও স্থানীয়দের মধ্যে কয়েক ঘন্টায় বিক্রি হয়ে যায় খামারীদের দুধ। স্থানীয় দুই শতাধিক দুগ্ধ খামারী এই হাটে দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন থাকেন।

স্থানীয় খামারে উৎপাদিত এই দুধ চলে যায় বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় । কেউ কিনছেন মিষ্টির দোকানের জন্য, কেউবা হোটেলের জন্য। আবার কেউ কেউ বাড়িতে খাওয়ার জন্যও দুধ ক্রয় করেন নে এই হাট থেকে। ভেজালমুক্ত ও দাম কম হওয়ার কারনে দূর দুরান্ত থেকে এখানে আসেন ক্রেতারা। তবে করোনাকালীন সময়ে মিষ্টির দোকান, হোটেল, অনুষ্ঠান বন্ধ থাকাতে দুধের দাম কম বলে দাবী করেছেন বিক্রেতারা।

চুলকাঠি বাজারের আসা স্থানীয় হরিপদ কুন্ডু (৬৫) বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে এখানে দুধের হাট বসে। দূর দুরান্ত থেকে লোকজন আসেন দুধ কিনতে। আমিও আগে এই হাটে দুধ বিক্রি করতাম। এখন বয়স হয়ে যাওয়াতে দুধ নিয়ে আসতে পারিনা। কিন্তু হাটের প্রতি মায়া’র কারনে প্রতিদিন ঘুরতে আসি। দুধ বিক্রেতা মোঃ ইয়াসিন মোল্লা বলেন, আমাদের নিজেদের গরু থেকে সংগৃহিত দুধ নিয়ে প্রতিদিন এখানে আসি। অল্প সময়ের মধ্যে দুধ বিক্রি হয়ে যায়। এই দুধ বিক্রির অর্থেই চলে আমাদের সংসার।

স্বাভাবিক সময়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও করোনা ও লকডাউনের কারনে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজিতে কম দামে বিক্রি করতে হয়। আলমগীর শেখ নামের করোরী গ্রামের দুধ বিক্রেতা বলেন, দুটি গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি দুধ এই হাটে নিয়ে বিক্রি করি। বর্তমানে দাম কমের কারনে গরুর খাবার ও নিজেদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তারপরেও এই দুধ বিক্রির উপরে নির্ভরশীল আমরা।

খুলনার খালিশপুর থেকে থেকে দুধ কিনতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, খাটি দুধ পাওয়া যায় তাই ৫ বছর ধরে এই হাট থেকে দুধ ক্রয় করি। আগামীকাল থেকে রোজা শুরু। তাই আজকে একটু বেশি করে দুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছি। তবে মহাসড়কের পাশে হাটটি হওয়াতে অনেক দূর্ঘটনার খবর শুনেছি।

চুলকাঠী বাজার কমিটির সভাপতি মুরারী কৃষ্ণ নন্দী বলেন, দুধের হাটটি একশ বছরের পুরানো। আমরা কোনো খাজনা নেই না। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার লিটার দুধ বিক্রি হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা এসে নিজেদের সুবিধামত ক্রয়-বিক্রয় করেন। তবে করোনার প্রভাবে আগের চেয়ে এখন একটু কম আসে দুধ।

তিনি বলেন, মহাসড়কের পাশ থেকে পার্শ্ববর্তী কোনো স্থানে হাট’টি যদি স্থানান্তরিত করা হয় তাহলে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই দূর্ঘটনা থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তবে সড়কের পাশে দুধের হাট ঝুকিমুক্ত রাখার বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে বাজার কমিটির লোকজনের সাথে কথা বলে, তারা যেখানে উপযুক্ত মনে করেন সেখানে হাটটি স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone