বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন

মান্দায় বোরো ধানের বাম্পার, মাঠে মাঠে সোনালী আধাপাকা ধান বাতাসে দোল খাচ্ছে

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, মান্দা প্রতিনিধি (নওগাঁ) :
  • Update Time : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

কার্তিক মাস থেকে বীজ তলায় বীজবপন করে তিলে তিলে তা চারা গাছ হিসেবে অতি যন্তের সাথে বড় করে তোলার কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হয়। এবার সেই কাঙ্ক্ষিত সতেজ সবল চারাগাছগুলো ইতিপূর্বে কৃষকের নির্দিষ্ট কর্ষণকৃত ও চাষকৃত জমিতে সুন্দরভাবে রোপন শুরু করার পালা। এরপর চলে নিয়মিত পানি সেচ ও সার, কীটনাশক ছিটানো। এভাবে কঠোর পরিশ্রমে তৈরি হয় কৃষকের সব স্বপ্ন। প্রায় ৪/৫ মাস অপেক্ষার পরে আস্তেধীরে সবুজ ধানের খেতগুলো আধা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে।

তখন প্রতিটি দিন যেন মনে হয় কবে কোন রকম বিপদ-আপদ মানে ঝড়, শিলা বৃষ্টি না হয়ে সব সোনালী ফসল তাদের ঘরে উঠবে। আর যে কোন তর সয় না। সেই ধান হবে তাদের সারা বছরের প্রধান খাদ্যের যোগান ও ভান্ডার। ধান ঘরে উঠলে ইতিমধ্যে ফসল চাষের জন্য নেওয়া ব্যাংক, এনজিওর ঋণ শোধ, দোকানের বাকি সব যেন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। তাই স্বপ্নের ফসল ধান কাটা মাড়াই হলেই কেবল তাদের অল্প কিছু আশা পূরণের সুযোগটা চলে আসতে পারে। কবে এখন দেখার বিষয় আকাশের আবহাওয়ার উপর সব নির্ভরশীল।

আবহাওয়া ভালো থাকলেই কেবলমাত্র সোনালী ফসল সফল ভাবে কৃষকের ঘরে উঠতে পারে। না হলে কালবৈশাখি ঝড়ে সব লন্ডভন্ড হয়ে যেতে পারে কৃষকের স্বপ্ন বোনা দিন রতের পরিশ্রম। নদী অববাহিকায় কিছু কিছু ফসল কাটা শুরু হয়ে গেছে গত ৭/৮ দিন আগে। এখন মাঠে মাঠে যতদূর চোখ যায় আধাপাকা ধান বাতাসে দোল খাচ্ছে। আর কয়েকদিন পরেই পুরোদমে ফসল কাটা শুরু হতে চলেছে। এটা চলবে বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসজুড়ে। এখন তো সবুজ মাঠে দেখা যাচ্ছে কাচা ও আধাপাকা ধানের শীষ। ধানের সবুজ আভা কেটে হলুদ রং আসতে শুরু করেছে মাত্র। ধানের এ শীষগুলোর দিকে তাকিয়েই এখানকার কৃষকের চোখে উচ্চ ফলনের স্বপ্ন ও আশার দোলাচলে নাচতে শুরু করেছে মন।

এবছর ধান রোপন থেকে শুরু করে এ সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানগাছে রোগ বালাই ও তেমন একটা নেই। ধান কেটে ঘরে তোলা পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,চলতি বোরো মওসুমে মান্দা উপজেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চাষাবাদ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রায় ২৪০ হেক্টর বেশি চাষ করা হয়েছে।

এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল হীরা, তেজ, গোল্ড জাতের চাষ হয়েছে ২ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে। সরকার হাইব্রীড জাতের ওপর প্রণোদনা দেওয়ায় গতবছরের তুলনায় ৮২৫ হেক্টর বেশি জমিতে এ ধানের আবাদ করেছেন কৃষকরা। সূত্র আরও জানায়, উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এবছর ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৮১, ৮৯ ও জিরাশাইল ধানের ব্যাপক চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেশি চাষ হয়েছে ব্রি ধান-২৮ ও জিরাশাইল ধানের। বেশকিছু মাঠে এবছর ব্রি ধান-৮১ জাত চাষ করেছেন কৃষকরা।

এছাড়া আত্রাই নদীর দুুু” ধারে উপজেলার বান ডুবি থেকে মিঠাপুকুর পর্যন্ত প্রায় ২৭/২৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় বোরো ধান।

মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের কৃষক ও সার কীটনাশক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম প্রামানিক, ব্যাংকার ও কৃষক আমিনুল ইসলাম মন্ডল, সাবেক সেনা সদস্য ও কৃষক রেজাউল ইসলাম, আক্কাস আলী মন্ডল, আয়েজ উদ্দিন ফকির, মোহাম্মদ আলী (সুটকা)মন্ডল, খুদিয়াডাঙ্গা গ্রামের হারুন অর রশিদ প্রামানিক, বিরাজ উদ্দিন প্রামানিক, তয়েজ উদ্দিন, পারইল গ্রামের ইউসুফ আলী, সৈয়দ আলী, ছোটবেলালদহ গ্রামের সিরাজ উদ্দিন কবিরাজ, ফজলুর রহমান, ওমর আলী সহ আরও অনেকে জানান, ধানের চারা রোপণের পর থেকে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল রয়েছে। তাছাড়া সেচকাজে তেমন আর কোন সমস্যা হয়নি।

তবে আত্রাই নদী দু’ দফায় শুকিয়ে যাওয়ায় তাদের স্বপ্ন কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল। গভীর নলকূপের কারণে এখন আরও কোন সমস্যা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ না করায় খেতে মাজরা পোকাসহ অন্যান্য রোগের প্রকোপও তেমন চোখে পড়েনি। বলা যায় রোগবালাই তুলনামূলক কম ছিল। পচন ও নেকব্লাস্ট রোগের আক্রমণ ও তেমন নেই বললেই হয়। এজন্য জমিতে দফায় দফায় কম কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আগাম রোপণকৃত ধান ৮-১০ দিনের মধ্যে কাটামাড়াই শুরু হবে। কাটামাড়াই পুরোদমে শুরু হতে আরও এক সপ্তাহ লাগতে পারে। এ সময় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে তারা বলেন, ঝড়ো আবহাওয়া ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়ে কৃষকরা মাঠে রয়েছেন। স্বপ্নের ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে এ ফসলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ শায়লা শারমিন এ প্রতিবেদককে জানান, এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা উঠানামা করছে। এটি অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল ব্যাপার। কোনো কোনো সময় দিনের তাপমাত্রা ৩৫-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করছে।

এটি অব্যাহত থাকলে ধানের শীষ হিটশকে আক্রান্ত হতে পারে। এজন্য কৃষকদের সবরকম পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আগামী ১-২ সপ্তাহের মধ্যে কাটা-মাড়াই শুরু হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবছর ধানের বাম্পার ফলন আশা করা যাচ্ছে। এক হিসেবে চলতি বছর ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone