বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্ধ আশ্রয়ন-২ প্রকল্প দুর্নীতির তদন্ত শুরু

রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া প্রতিনিধি (পটুয়াখালী) ঃ
  • Update Time : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

কলাপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্ধ আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে দুর্নীতি – এ প্রতিবেদনের পর মাঠ পর্যায়ে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। রবিবার ধূলাস¦ার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিএম সরফরাজ। তদন্তের সময় উপকারভোগীদের তালিকা তৈরী ও ঘর বরাদ্দে অনিয়মের সাথে জড়িতরা উপস্থিত ছিলেন। আর তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গনমাধ্যমে প্রকাশের পর উল্লিখিত ভুক্তভোগীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহন করা হচ্ছে। এগুলো যাচাই বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের বরাবরে প্রেরন করা হবে।

এদিকে আশ্রয়ন প্রকল্পের আড়াই কোটি টাকা লোপাটের তথ্য গনমাধ্যমে প্রকাশের পর ধূলাস¦ার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের ভুক্তভোগী বাদলকে মুঠো ফোনে কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক তার সাথে সন্ধ্যায় দেখা করতে বলেন। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সত্যতা প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। ভুক্তভোগী বাদলকে তিনি টিউবওয়েল সহ সকল সরকারী সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করে ঘর পেতে টাকা পয়সা দেওয়ার কথা না বলার জন্য অনুরোধ করেন, যার অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত।

ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, লালুয়া ইউপিচেয়ারম্যান তপন বিশ্বাস ও মিঠাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হেমায়েত উদ্দিন হিরন কাজী বাদলকে বালিয়াতলী ডেকে নিয়ে ঘর বরাদ্দে টাকা দেওয়ার কথা না বলতে অনুরোধ করাসহ বিভিন্নভাবে আর্থিক প্রলোভন দেখায় এবং ধূলাস¦ার ইউপি চেয়ারম্যান আ: জলিল আকন মুঠো ফোনে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে কিছু না বলতে ও ঘর তৈরীতে ব্যবহৃত পঁচা ইট সরিয়ে রাখতে অনুরোধ করেন। এরপর কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক, পিআইও মো: হুমায়ুন কবির, সিপিপি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানসহ উল্øিখিত চার চেয়ারম্যান তদন্ত কর্মকর্তার সাথে উপস্থিত থাকলেও ভুক্তভোগী বাদল তদন্ত কর্মকর্তার কাছে নির্ভয়ে ঘর বরাদ্দে টাকা-পয়সা লেনদেনসহ নিম্নমানের উপকরন সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা তুলে ধরেন।

পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিএম সরফরাজ আলী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহন করা হচ্ছে। কলাপাড়ার ধূলাস¦ার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যা চলমান আছে। এগুলো যাচাই বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের বরাবরে প্রেরন করা হবে।

উল্লেখ্য, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০’র আলোকে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের উপকারভোগীদের নামের তালিকা নির্ভূল ভাবে সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। ঘরের নির্মান সামগ্রী পরিবহনে প্রথম ধাপে ৪৫০টি ঘরের বিপরীতে পরিবহন ও জ¦ালানি খরচের ১৮ লক্ষ ২৫ হাজার এবং দ্বিতীয় ধাপে ১১০টি ঘরের বিপরীতে পরিবহন ও জ¦ালানি খরচের ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা সহমোট ২৩ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ৫৬০টি বরাদ্দকৃত ঘরের জন্য উপকারভোগী প্রতি ৩০/৪০ হাজার টাকা হারে প্রায় ২ কোটি টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর রেজিষ্ট্রী ডাকযোগে আবেদন করেছেন ধূলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের ভুক্তভোগীরা।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone