বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক হাকিমপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কতৃক অবৈধ সিন্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ায় অভিযোগ আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা-২০২১: আট রাউন্ড শেষে শীর্ষে ফাহাদ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরীর দায়ে হোটেল মালিকের জরিমানা এবার আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল পৌরসভা এলাকায় বিধিনিষেধ জারী কলাপাড়ায় যুবলীগ নেতা মুরসালিন আহমেদের পিতা লতিফ গাজী আর নেই মাদকের ভয়াবহতা বুঝে মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে – তরিকুল ইসলাম মাগুরার মহম্মদপুরে পানিতে পড়ে একজনেন মৃত্যু ডোমারে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায়ের বিদায় সংবর্ধনা মোড়েলগঞ্জে করোনায় আরও এক নারীর মৃত্যু, এ পর্যন্ত আক্রান্ত ৯৯ জন

Surfe.be - Banner advertising service

মেহেরপুরে তিন পিয়নদের কোটি টাকার সম্পদ!

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০২১
  • ৫৬ বার পঠিত

পেশায় ঝাড়–দার। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও যাদের জুটতো না তিন বেলা খাবার। অথচ এক যুগের ব্যবধানে তারাই আজ শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক। যাদের অর্থ, সম্পত্তি, বিত্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে মুখরোচক নানা কাহিনী। এরা আর কেউ নয়, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ৪-৫ জন পিয়ন।

যারা ট্রেজারি শাখায় কর্মরত। হঠাৎ কীভাবে এরা এসব বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে নানা তথ্য। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, সরকারি স্ট্যাম্প-কোর্ট ফি জালিয়াতি, বিক্রি ও পাচার, রাজস্ব তছরুপ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় কর্তাদের নাম ভাঙিয়ে নিয়োগবাণিজ্য করে এই চক্রটি অল্পদিনেই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

সম্পদের পাহাড়গড়া একজনের নাম রফিকুল ইসলাম। যিনি পিয়ন থেকে নাজির পদে পদন্নোতি পেয়েছেন। সম্প্রতি ১৪ কোটি টাকার স্ট্যাম্প পাচারের অভিযোগে তিনি বরখাস্ত ও পলাতক। দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি যেমন শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন তেমনি তার নেপথ্য নায়ক কয়েকজন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিও সম্পদের মালিক হয়েছেন। ইতোমধ্যে ওই সব কর্মকর্তা আর রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়েও অনেক আলাপ আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আছেন ট্রেজারির দায়িত্বে। এরমধ্যে এক বছর নাজির হিসেবে থাকলেও কোটি টাকা দিয়ে তদ্বির করে ফের ট্রেজারিতে তার যোগদানের আদেশ হয়েছিল এক বড় কর্তার আশীর্বাদে। তার বাড়ি সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের খোকসা গ্রামে।

ডিসি অফিসে চাকরী পাবার পর আমঝুপি গ্রামে তারই লজিং মাস্টার ফজলুল হকের মেয়েকে মাহফুজা খাতুনকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে ডিসি অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী তহমিনা খাতুনের সঙ্গে হয় সখ্যতা গড়ে উঠে। পর্রে তহমিনাকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হন রফিকুল। তারপর রাজনৈতিক প্রভাবে ডিসি অফিসের ট্রেজারি শাখার দায়িত্ব পান।

শহরে এখন রফিকুল ও তার স্ত্রী সন্তানদের নামে রয়েছে শতবিঘা জমি। বিশাল মৎস্য খামার, গরুর খামার, অত্যাধুনিক ইটভাটা, সিডস ফার্ম, চানাচুর ফ্যাক্টরি, বেসরকারি ব্যাংকের এজেন্সি, একাধিক পণ্যবাহী ভারী ট্রাক, মাইক্রোবাস এবং ঢাকার মিরপুর ও বাড্ডায় দুটি বাড়ি ছাড়াও রয়েছে শতকোটি টাকার সম্পদ। নানা কেলেঙ্কারীর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রফিকুলের সম্পত্তির মালিক হওয়ার ব্যাপারে মিলেছে ভয়ংকর তথ্য। দলিল নং-৪৪২১, বালাম-১৩০, পাতা ১০৫-১১১, রেজিস্ট্রি তারিখ-২৫/০৭/১৭, জমি-২০ কাঠা। তিনি ওই জমিটি ৪৩ লাখ টাকায় ক্রয় করেন আমঝুপির সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে। জমির সাবেক মালিক সাইফুল ইসলাম জানান, আমঝুপি চাঁদবিল মৌজায় প্রতিকাঠা জমির বর্তমান বাজার দর ৪-৫ লাখ টাকা।

রফিকুল জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। দলিল নং-৩৯০৩, বালাম-১৩৬, পাতা ১০৭-১১২, রেজিস্ট্রি তারিখ-২৫/০৫/১১, জমি-৭ শতক। শহরের সরকারি কলেজপাড়ায় এই জমিটির মূল্য রেজিস্ট্রি দলিলে ১ লাখ ২৫ টাকা দেখিয়েছেন রফিকুল। অথচ জমিটির দাতা ইমতিয়াজ হোসেন জানান, তিনি জমিটি ৩০ লাখ টাকায় রফিকুলের কাছে বিক্রি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কষ্ট করে স্ত্রী-পুত্রদের নামে সম্পত্তি গড়ে দিয়েছেন। মানুষ ছোট থেকে বড় হতেই পারে। সব সম্পত্তি বৈধভাবে কেনা। রফিকুলের বড় ছেলে মোস্তাক আহমেদ মিলনের দাবি সম্পত্তির বেশিরভাগ তাদের দুই ভাইয়ের অর্থে কেনা। তিনি বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন ছিলেন।

চার বছর আগে চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সম্পত্তি গড়েছেন। তিনি আরো দাবী করে বলেন, ‘১২ বছর মিডিয়াতে চাকরি করেছি। কোটি টাকার সম্পত্তি, ব্যবসা থাকতেই পারে। ’ রফিকুলের ছোট ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান দোলন জানান,‘সম্পত্তি ও অর্থের বিষয়ে বড় ভাই আর বাবা জানেন।

রফিকুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ডিসি অফিসের সাবেক পরিছন্নতাকর্মী স্বশিক্ষিত তহমিনা খাতুনও এখন শতকোটি টাকার মালিক। তিনি শহরেই থাকেন। মেহেরপুর শহরে তার কোটি টাকার একাধিক প্লট, বাড়ি, দোকান, সম্পত্তি, ক্লিনিক, বিস্কুট ফ্যাক্টরি, ইটভাটা ছাড়াও শতাধিক ইজিবাইক রয়েছে। মালবাহী ১০ চাকার ভারী ট্রাক আছে বেশ কয়েকটি। মেহেরপুরে সিটি ব্যাংকের দুটি শাখার অংশীদার তিনি।

তহমিনা খাতুন বলেন, জীবনে সব ধরনের পরিশ্রম করে অর্থবিত্ত গড়েছি। কিছু ব্যবসা ভাইয়েরা দেখাশোনা করে। কিছু ব্যবসা সৎ ছেলে মোস্তাক আহমেদ মিলন দেখে। তাই বলে কোনোকিছুই অবৈধ না, সব বৈধ। ’

ডিসি অফিসের আরেক পিয়ন স্বশিক্ষিত সুফল হোসেন। সদর উপজেলা চকশ্যামনগর গ্রামের কালু মন্ডলের ছেলে। তিনি রফিকুলের সহযোগী হিসেবে ট্রেজারি শাখায় আছেন দীর্ঘদিন। রফিকুলের সংস্পর্শে থেকে তিনিও নিজের এবং ভাইয়ের নামে প্রায় ৪০ বিঘা সম্পত্তি কিনেছেন। শহরে আলিশান বহুতল বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে।

এছাড়াও একাধিক গাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি শহরের ঘোষপাড়ায় মিজানুর রহমানের পাকাবাড়ি ও দোকানসহ চার কাঠা জমি কিনেছেন ৯৫ লাখ টাকায়। কিন্তু দলিলে দাম উল্লেখ আছে ৪০ লাখ টাকা। একই পাড়ায় রাজাবিড়ি ফ্যাক্টরির ১০ কাঠা জমি কিনেছেন এক কোটি টাকায়। অথচ জমিটির দলিল মূল্য দেখানো আছে ৩০ লাখ টাকা। তারও ছায়া পেয়ে অনেক নারী ও ব্যক্তি অর্থশালী হয়েছেন।

সুফল হোসেন বলেন, ‘স্যারদের আদেশ শুনি। স্যাররা বদলির সময় খুশি হয়ে অনেক টাকা দিয়ে যায়। স্যারদের কল্যাণে তিনি সম্পদের মালিক। তবে সম্পদ সবই বড়ভাই নজরুল ইসলামের নামে। এদিকে নজরুল বলেছেন, সুফলের সম্পত্তি শুধু দেখভালের দায়িত্ব তার।

এ তিন কর্মচারী ছাড়াও এ সিন্ডিকেটে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত নূর ইসলামসহ ডিসি অফিসের আরও ধনাঢ্য কর্মচারী রয়েছেন যারা কোটিপতি। স্থানীয়রা জানান, এক যুগ আগে এদের সবাই অর্থ সম্পদহীন ছিল। সকলেই ডিসি অফিসে জাল স্ট্যাম্প, স্ট্যাম্প পাচার, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগবাণিজ্য করে কোটিপতি হয়েছেন। তাদের সবাই দামি সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে দলিল করে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। সবাই অর্থ আড়াল করতে টাকা ব্যাংকে না রেখে শতকোটি টাকার জমি কিনে রেখেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মুনসুর আলম খান বলেন, ‘এ লজ্জা প্রশাসন ও মেহেরপুরের সবার। সবাই সঠিক ভূমিকা রাখলে এই অবস্থা হতো না। এই সমস্ত কালপ্রিটের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। ’

Surfe.be - Banner advertising service

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451