শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিরামপুর সীমান্তে বেপরোয়া চলাফেরায় ৩২ জনের জরিমানাঃ ৪ জুয়াড়ীর কারাদণ্ড সুনামগঞ্জে পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এলডিপির অঙ্গ সংগঠন গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন ১৪ দিনের লকডাউন শুরু; সড়কে তৎপর পুলিশ সেনা বিজিবি ফকিরহাটে পিকআপ ভ্যান ও ইজিবাইক মুখমুখি সংর্ঘষে ৬জন নিহত আহত-১ ফেরিতে গাড়ি ও যাত্রী পরিবহন বন্ধ ইকুয়েডরে কারাগারে দাঙ্গায় ২২ জনের মৃত্যু বন্যার্তদের উদ্ধারে সামাজিক মাধ্যমে ‘ঐক্যবদ্ধ’ চীনারা টস হয়েও স্থগিত অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ওয়ানডে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা

Surfe.be - Banner advertising service

ডাকাতের গ্রামের এখন সবাই স্বাবলম্বী

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১
  • ৫৩ বার পঠিত

গাংনী- মেহেরপুরের সীমান্ত ঘেষা একটি গ্রামের নাম টেঙর মাঠ। এখনও গ্রামের নাম শুনলেই আঁতকে উঠে মেহেরপুর জেলাসহ আশ পাশের জেলাবাসি। গ্রামের সকলেই জড়িত ছিল চুরি ডাকাতি ছিনতাই ও রাহাজানিতে। এলঅকার কোথাও চুরি ডাকাতি হলে বিশেষ করে গরু চুরির ঘটনা ঘটলে সকলেই খোজাখুজি করতে আসতো টেঙর মাঠে। এখন আর কেউ চুরি ডাকাতি করেনা। গ্রামের সকলেই এখন স্বাবলম্বী।

জানা গেছে, স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৮০ সালের দিকে গাংনীর কাজিপুর থেকে আকবর আলীসহ ৬ জন সেখানে বসতি স্থাপন করেন। অভাবের তাড়নায় শুরু করে চুরি ডাকাতি ও ছিনতাই। এলাকায় কোন ডাকাতি ও গরু চুরির ঘটনা ঘটলে লোকজন খুঁজতে যেতো টেঙর মাঠে। ক্রমশঃ লোকজন বাড়তে থাকে গ্রামটিতে। সকলেই জড়িয়ে পড়েন চুরির পেশায়। এলাকার লোকজন চোরের গ্রাম আখ্যা দিয়ে কেউ আত্মীয়তা করতে চাইতো না।

১৯৮৮ সালের দিকে তৎকালীণ পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দীন উদ্যোগ নেন গ্রামের লেকজনকে সুপথে ফিরিয়ে আনার। দেখান স্বাবলম্বী হবার স্বপ্ন । নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সকলেই একতাবদ্ধ হন এবং আকবর আলীকে বিদেশে পাঠান। এভাবে গ্রামের লোকজন পর্যায়ক্রমে বিদেশ যেতে থাকে। গ্রামের দেড় শতাধিক ছেলে বিদেশে রয়েছেন।

তৎকালীন নাম করা ডাকাত সাবু জানান, জমি জিরাত না থাকায় দিনমজুরী করা হতো। আবার অনেক সময় কোন কাজ পাওয়া যতে না। ফলে চুরি ডাকাতি করতে হতো। এ কারণে অনেকেই কামলা নিতো না। এমনকি কেই আত্মীয়তা করতে চাইতো না।

পুলিশের পরামর্শ আর নিজেদের অপরাধবোধ বুঝতে পেরে গ্রামের সবাই একটি সমিতি করে বিদেশ যাওয়া হয়। পরে একে একে অনেকেই বিদেশ যায়। এভাবে গ্রামের অন্ততঃ দেড়শ’ জন বিভিন্ন দেশে রয়েছে বলেও জানান আকবর ডাকাত।

গ্রামের আব্দুল হামিদ জানান, টেঙর মাঠের বাসিন্দা পরিচয় দিলে কেই কামলা নিতো তাই অন্য গ্রামের নাম করে কাজ করতে হতো। শেষ মেশ নিজেই গ্রামের উঠতি বয়সীদেরকে রাজমিস্ত্রীর কাজ শিখিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়। বিদেশ থেকে ফিরে সকলেই এখন ব্যবসা করছেন।

ব্যবসায়ি মকলেছ জানান, চোরের গ্রামের লোকজন বলে কেউ মেলামেশা করতো না। বিয়ে শাদীও হতো না। চোর নাম ঘোচাতে বিদেশ যাওয়া হয়। বিদেশ থেকে ফিরে এসে এখন কেউ কৃষি কাজ করছেন কেউ বা ব্যবসায়ি

স্বামীদের অপকর্মের কারণে স্ত্রীরাও বেশ দুশ্চিন্তায় থাকতেন। একদিকে পুলিশ প্রশাসন অন্যদিকে এলাকার মানুষের চাপ। সাবু ডাকাতের স্ত্রী জানান, চুরি ডাকাতি করার কারণে দিনে রাতে পুলিশ ঘোরাফেরা করতো। সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হতো। স্বামী সন্তানকে দেখতে পাওয়া যেতো। এখন আর সে ভয় নেই।

ইদ্রীস চোরের স্ত্রী জানান, স্বামি সন্তানকে বোঝানোর পরও অভাবের তাড়নায় চুরি করতো তারা। পরে ছেলেকে বিদেশ পাঠানো হয়। কেনা হয় আবাদি জমি। এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে। ছেলে মেয়েদেরকে বিয়ে দেয়া হয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষক মেহেরপুর জজকোর্টের আইনজীবী একেএম শফিকুল আলম বলেন, মানুষ কেউ অপরাধী হয়ে জন্ম নেয় না। সময় পরিবেশ পরিস্থিতি তাকে অপরাধী করে তোলে। সুপথে ফিরিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক সহযোগিতা।

আর এ সহযোগিতা পেলে সকলেই আত্ম শক্তিতে বলিয়ান হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। তার উজ্জল দৃষ্টান্ত মেহেরপুরের টেঙর মাঠের বাসিন্দারা। এক সময় যে গ্রামের লোকজন চুরি ডাকাতি করতো। তারা আজ আত্ম শক্তিতে বলিয়ান হয়ে স্বাবলম্বী।

 

Surfe.be - Banner advertising service

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451