মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

উজিরপুরে পুলিশি হেফাজতে নারী আসামিকে নির্যাতনের ঘটনার তদন্তসহ গ্রেফতারের দাবী

জি-নিউজবিডি২৪ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত

সম্প্রতি জাতীয় ছাপা ও সম্প্রচার গণমাধ্যমে একজন নারী আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে বরিশালের উজিরপুর থানায় রিমান্ডে থাকা ঐ নারী আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতে উপস্থাপন করা হলে আসামির শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে এবং উক্ত নারী আসামির বক্তব্য শুনে আদালত আসামির শারীরিক পরীক্ষা করে জখম, নির্যাতনের চিহ্ন ও নির্যাতনের সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকে নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালের রিপোর্টেও ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়েছে।

এমন ঘটনায় দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা প্রচ-রূপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করাসহ থানা হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সামগ্রীকভাবে বাংলাদেশ পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা এটিই যেমন প্রথম নয় তেমনি এ ধরনের ঘটনায় সকল ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নজিরও খুব একটা নেই। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০১৪ সালে পল্লবী থানায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনায় গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত নির্যাতনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের যাবজ্জীবন কারাদ- ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপুরণের আদেশ দিয়ে রায় প্রদানই যার প্রমাণ।

আমরা মনে করি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৪) এবং নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা অমর্যাদাকর আচরণ অথবা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ঘোষিত সনদের অনুচ্ছেদ ২(১) ও ৪ অনুযায়ী এ ধরনের ঘটনায় দ্রুততার সাথে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রয়েছে।

বরিশালে নারী আসামিকে নির্যাতনের ঘটনায় ইতোমধ্যে দ্ইু ধরনের অপরাধ দৃশ্যমান। এখানে একদিকে থানা হেফাজতে শারীরিক নির্যাতন অপরদিকে উক্ত নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এমতাবস্থায় যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের পাশাপাশি যৌন নির্যাতনের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অপরাধে নির্দিষ্ট আইনে অপরাধীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

আমরা মনে করি নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ ও ২০১৮) এর আওতায় অপরাধীর পৃথক বিচার অনুষ্ঠিত হতে পারে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের দায়ে ভিন্ন ভিন্ন আইনে অপরাধীর বিচারের সুযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশে এ ধরনের বিচারের নজিরও রয়েছে।

আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি, যখনেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে তখনই সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ অপরাধের বিষয়টি অস্বীকার করেন, অথবা চেপে যান অথবা স্থানীয়ভাবেই মিটিয়ে ফেলেন। সংবাদসূত্রে জানা গেছে, আদালতে ভুক্তভোগী নারীর উত্থাপিত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আমরা মনে করি যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধকে আড়াল করতে চায় কিংবা গোপন অথবা অস্বীকার করতে চায় কিংবা মিটমাট করে ফেলতে চায় বা করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, তানাহলে বাংলাদেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকারের বিপন্নতা রোধ করা যাবেনা।

উজিরপুর থানার পুলিশ সদস্য কর্তৃক নির্যাতন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ঘটনা আড়াল করার যে মানসিকতা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে পুলিশ সংস্থার কাছে তদন্তভার অর্পন না করে বিচার বভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

আমরা বিশ্বাস করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও সংক্ষুব্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, পুলিশি হেফাজতে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার, ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তাবিধানসহ অপরাধের বিচারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবেন।

বিবৃতি স্বাক্ষরকারী:

১. অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

২. পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সভাপতি, ঐক্য ন্যাপ

৩. অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, প্রাক্তণ শিক্ষক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়

৪. রামেন্দু মজুমদার, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

৫. ডা. সারওয়ার আলী, ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

৬. ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সভাপতি, মহিলা পরিষদ

৭. অ্যাডভোকেট তবারক হোসাইন, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

৮. এম. এম. আকাশ, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৯. খুশী কবির, মানবাধিকার কর্মী

১০. রোকেয়া কবির, উন্নয়ন কর্মী

১১. রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১২. অ্যাডভোকেট জাহিদুল বারী, সাধারণ সম্পাদক, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি

১৩. আব্দুস সামাদ পিন্টু, চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ

১৪. সালেহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

১৫. অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, আইনজীবি, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

১৬. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব)

১৭. অ্যাডভোকেট জীবনানন্দ জয়ন্ত, সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ

১৮. দীপায়ন খীসা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম

১৯. কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বরিশাল জেলা

২০. এ কে আজাদ, সমন্বয়ক, আনন্দন, সাংস্কৃতিক সংগঠন

২১. সেলিম রেজা, আহবায়ক, সংস্কৃতি মঞ্চ

২২. অলক দাস গুপ্ত, সভাপতি, উঠোন সাংস্কৃতিক সংগঠন

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451