মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

আমদানিকৃত পন্য নিয়ে জিরো পয়েন্ট থেকে ৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ভারতীয় চালক-হেলপার

ইয়ানূর রহমান, ভ্রাম্মমান প্রতিনিধি যশোর :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত

কঠোর লকডাউনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঢিলে ঢালা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দরে বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টি ভারতীয় পণ্যবোঝাই ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে।

ভারতীয় ট্রাক চালকদেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য জিরো পয়েন্টে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসকের কোন উপস্থিতি নেই। ইচ্ছে মত গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ছে দেশের অভ্যান্তরে। অপরদিকে এ পথে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টি ট্রাক রফতানি পণ্য নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। কোন চালক ও হেলপারদের তাপমাত্রা পরীক্ষা না কওে এরা উভয় দেশের সীমান্ত অতিক্রম করছে।

সবচেয়ে বেশী অসুবিধা হচ্ছে ভারতীয় পাথর বোঝাই ট্রাক বন্দর এলাকায় জায়গা না থাকায় জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দুরে যেয়ে আনলোড করছে। আর এই সব পাথর আনলোড করতে সময় লাগছে প্রায় দুই সপ্তাহ। এতদিন ভারতীয় চালক ও হেলপাররা এদেশে ইচ্ছা খেয়াল খুশী মত চলাচল করে।

জিরো পয়েন্ট থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে যাচ্ছে ভারতীয় চালক হেলপার। আমদানি রফতানি ট্রাক চালকদের স্থাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জিরোপয়েন্টে নেই কোন স্বাস্থ্য কর্মী।

স্থল বন্দর বেনাপোল এর ওয়্যারহাউজে কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, প্রায় প্রতিদিন ভারতীয় তিন থেকে ৪ শত ট্রাক পণ নিয়ে এই বন্দরে প্রবেশ করে। বাধ্য হয়ে ওই চালকরা পণ্য নামানোর সময় ট্রাক নিয়ে শেডে অথবা ওয়্যারহাউজ ইয়ার্ডে অবস্থান করে। তখন তাদের সাথে মিশে অত্যন্ত ঝুকি নিয়ে পণ্য উঠানো নামানোর কাজ করতে হয়।

বেনাপোলের আমড়াখালী গ্রামের আব্দুর রশীদ বলেন, বেনাপোল জিরোপয়েন্ট থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে আমড়াখালী নামক স্থানে পাথর বোঝাই ট্রাক আসে। এখানে কোন স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে না। ভারতীয় ট্রাক চালকরা খাবারের জন্য বিভিন্ন দোকানে বসে এদেশের মানুষের সংস্পর্শে আসে। ফলে তাদের মধ্যে কোন করোনা জীবানু থাকলে এদেশের মানুষের মাঝে খুব সহজে ছড়াতে সহায়তা করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সারাদিন মাঠে থাকলেও বাধ্য হয়ে এদের কিছু বলতে পারে না। এ বিষয়টি দেখার জন্য তিনি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদেও দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

বেনাপোল বন্দর এর সিএন্ড এফ মালিক আব্দুল মান্নান বলেন, সর্বাতœক লকডাউন যখন চলছে তখন আমদানি রফাতানি চলাচল রেখে এ লক ডাউন সফল হবে না। কারন করোনা মহামারি ভারতীয় জীবানু যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য আমদানি রফতানি বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।

বেনাপোল চেকপোষ্ট এলাকার শ্রমিক নেতা শামিমুর রহমান বলেন, এটা একটিহাস্যকর লকডাউন। কারন আমদানি রফতানি সচল রেখে চলছে লকডাউন। আর ভারতীয়ট্রাক চালকরা চলে যাচ্ছে দেশের ৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরে । ওদিকে ভারত ফেরত পাসপোর্টযাত্রীদের লাগছে করোনা সনদ, হাই কমিশনারের অনুমোদন। তারপর আবার নিজ খরচে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন। সে ক্ষেত্রে এ নিষ্ঠুরলকডাউনের জন্য করোনা সনদ লাগছে না আমদানি রফতানি ট্রাক চালক ও হেলপারদের।

বেনাপোল ভবেরবেড় সানফ্লাউয়ার প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা খালেদা আক্তার কল্পনা বলেন, ভারতীয় ট্রাক চালকরা মাঠে পাথর বোঝাই ট্রাক রেখে গ্রামে ঢুকে পড়ছে। গ্রামের দোকানে বসে বিড়ি সিগারেট চা পান করছে। তাদের থেকে করোনা ছড়ানো নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছে এলাকার মানুষ। একি তামাসার লকডাউন চলছে? লকডাউন দিতে হলে আমদানি রফতানি বন্ধ করে দিতে হবে।তাতে যদি ফল পাওয়া যায়।
বেনাপোল স্থল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, আমদানি রফতানিচালু রাখা রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত। আর পণ্য আমড়াখালী পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রাখতে হচ্ছে বন্দরে জায়গা না থাকায়।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451