রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের সহযোগীতায় শ্রীপুরে হটলাইন টীমের যাত্রা শুরু ডোমার জোড়াবাড়ীতে বাবুই পাখিবাসা, কিচিকিছি শব্দে মুখোরিত পুরো এলাকা কলাপাড়ায় পাওনা টাকার শোক সইতে না পেরে মৃত্যু জয়পুরহাটে ২২ কেজি ওজনের গাঁজার গাছসহ বাবা-ছেলে আটক করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতেরই চিকিৎসা প্রয়োজন…আ স ম রব মাগুরায় লকডাউনের দ্বীতিয় দিন প্রশাসন কঠোর তাহিরপুরে বোনকে ধর্ষনের চেষ্টা, লম্পট ভাই গ্রেফতার ঝিনাইদহে কঠোর লকডাউনেও মানুষের ঢিলেভাব সুনামগঞ্জে দুই হত্যা মামলায় ঘাতক স্বামী সহ হোটেল মালিক ও কর্মচারী গ্রেফতার মাগুরার সকল ইউনিয়নের জন্য উপজেলা পরিষদের ২০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয় 

Surfe.be - Banner advertising service

ময়মনসিংহ নগরী রিক্সা ও অটোর দখলে ঃ করোনা সংক্রমণে রেকর্ডের আশঙ্কা

এম এ আজিজ, বিশেষ প্রতিনিধি ময়মনসিংহ ঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১
  • ২২ বার পঠিত

ঈদকে সামনে রেখে টানা লকডাউন তুলে দেওয়ার প্রথমদিন বৃহস্পতিবার যানজটের নগরী ছিল ময়মনসিংহ। এমন কোন রাস্তা, অলিগলি নেই যেখানে যানজট নেই। যেন ছিল অটো আর রিক্সার নগরী। মানুষজন প্রথমে অটো বা রিক্সায় চড়লেও কয়েক কদম যাওয়ার পর আবারো হেটে পথচলার চেষ্ঠা করে। কিন্তু কিভাবে পথ চলবে। পথ বা রাস্তা তো অটো বা রিক্সার দখলে।

পহেলা জুলাই থেকে টানা কঠোর লকডাউন বুধবার ১৪ জুলাই শেষ হয়। এর আগেই মানুষের মনে শঙ্কা ছিল ঈদের আগে কি লকডাউন উঠে যাবে না ঈদেও লকডাউন থাকবে। কিন্তু সরকার ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন তুলে দেয়। দীর্ঘদিন ঘরে আটকে থাকা মানুষজন লকডাউন তুলে দেয়ার খবরে বিশ্ব জয় করার মানসিকতা নিয়ে ১৪ জুলাই থেকেই ফুরফুরা মেজাজে নগরীতে নামতে শুরু করে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বৃহস্পতিবার দেখা গেছে, যানজটের নগরী ময়মনসিংহ। অটো আর রিক্সা দখলে নিয়েছে এই নগরীকে। নগরীর কোন রাস্তায় চলাচল করা যায়নি। অসংখ্য মানুষজন নিজ এলাকা থেকে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র গাঙ্গিনার পাড় ডুকতে রিক্সা ও অটো নিয়ে আসলেও দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকা পড়ে। জ্যামে আটকা পড়ে এই সকল রিক্সা ও অটো চালকরা প্রখড় রৌদে মাথায় হাত দিয়ে রিক্সাতেই বসে থাকে।

রিক্সা চালকদের দাবি তারা আজ (বৃহস্পতিবার) দু’চারটে ভাড়ার (পেসেঞ্জার) বেশি উঠাতে পারেনি। যে রোডেই যান দীর্ঘ সময়, এমনকি আধঘন্টারও বেশি সময় আটকে থাকে। এ অবস্থায় পেসেঞ্জার নেমে গেলেও খালি রিক্সা নিয়ে জ্যামের কারণে বের হতে পারছেন না চালকরা। তাদের দাবি, ঈদের আগে এত জ্যাম থাকলে কিভাবে রিক্সার মালিকের আমদানি বা জমা দিবেন। আর কিভাবেই দিবেন তাদের সন্তানদের মুখে দুবেলার আহার।

নগরীর সিকেঘোষ রোডে এক রিক্সা চালক বলেন, আধঘন্টারও বেশি সময় ধরে জ্যামের কারণে রাস্তায় বসে আছি। পেসেঞ্জার ভাড়া দিয়ে নেমে গেছে। কিন্তু আমি তো খালি রিক্সা নিয়ে বের হতে পারছিনা। অপরদিকে এ প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার সকালে গাঙ্গিনার থেকে কাচারী রোডে গেলে পড়ে বিড়ম্বনায়। দীর্ঘ সময়ে দুর্গাবাড়ি হয়ে আঠারবাড়ি মোড়ে রিক্সায় চড়ে গেলেও পরে বাধ্য হয়ে পায়ে হেটে পথ চলা শুরু করেন। জ্যামের কারণে পায়ে হাটার পথ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ প্রতিবেদক নানা কৌশলে কোনরকমে গন্তব্যে পৌছেন।

একইভাবে এ প্রতিবেদক নগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে জুবিলীঘাট বিপীন পার্ক মোড় হয়ে ছোট বাজার রিক্সায় আসতে গিয়ে আবারো পড়েন বিপাকে। এ সময় সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে তিনি আবারো কোন রকমে পায়ে হেটে পথ চলেন। এদিকে গাঙ্গিনারপাড়ের অবস্থা বলতে গেলে, যেন আজই শেষ দিন। আর কোন দিন গাঙ্গিনার পাড় এলাকার দোকানপাঠ খুলবে না।

পায়ে হাটার সুযোগ পর্যন্ত নেই ঐ এলাকায়। দুপুরে এ অবস্থা চলতে থাকায় নগরীর জেলা স্কুল মোড়, চরপাড়া, র‌্যালীর মোড় ও জুবিলীঘাট রোড নাম বললেই রিক্সা ও অটোচালকরা সাফ জানিয়ে দেন, না ঐ সমস্ত এলাকায় যাওয়া যাবেনা। এ অবস্থায় সিংহভাগ মানুষ চরপাড়া মেডিকেল কলেজ গেইট, ফুলবাড়িয়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, র‌্যালীরমোড়, ব্রীজমোড়, টাউনহল মোড় থেকে পায়ে হেটে গাঙ্গিনার পাড়ে আসতে বাধ্য হন। পায়ে হেটে আসা লোকজনের একাধিকের মতে, পায়ে হেটে চলতেও ফাকা নেই রাস্তা।

আবার অনেকেই পায়ে হেটে চলতে গিয়েও রিক্সা, অটো, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিকাল চারটার দিকে জ্যাম কিছুটা কমতে শুরু করলেও বিকাল ৫টার দিকে যেন আবারো মানুষজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মনে হয় নগরবাসি ও জেলাবাসি একযুগে বাসা থেকে বের হয়ে কি যেন আর পাবেনা এমন আশায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার নগরীর এ অবস্থা দেখে আবারো মানুষজনকে ভাবিয়ে তুলেছে। মানুষজন করোনাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যেভাবে ঘর ছেড়ে কেনাকাটায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন এতে আসছে ঈদ পরবর্তী ময়মনসিংহে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অভিজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট কোমলমতি, শিশু, কিশোর, নারী, বয়োবৃদ্ধরা কোন কিছুই মানছেনা।

তারা করোনাকে গা ছাড়া ভাব দেখিয়ে ঘর ছেড়ে এসেছে দোকানপাঠ, শপিংমলগুলোতে। কোন দোকানে পা ফেলার জায়গা নেই। নেই মুখে মাস্ক। মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধির বিন্দুমাত্র লেশ। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ময়মনসিংহে করোনাক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে কোথায় দাড়াবে তা বলা মশকিল। এ ব্যাপারে করণীয় নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সিটি কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে নতুন করে ভাবতে হবে।

Surfe.be - Banner advertising service

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451