শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৭:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের সহযোগীতায় শ্রীপুরে হটলাইন টীমের যাত্রা শুরু ডোমার জোড়াবাড়ীতে বাবুই পাখিবাসা, কিচিকিছি শব্দে মুখোরিত পুরো এলাকা কলাপাড়ায় পাওনা টাকার শোক সইতে না পেরে মৃত্যু জয়পুরহাটে ২২ কেজি ওজনের গাঁজার গাছসহ বাবা-ছেলে আটক করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতেরই চিকিৎসা প্রয়োজন…আ স ম রব মাগুরায় লকডাউনের দ্বীতিয় দিন প্রশাসন কঠোর তাহিরপুরে বোনকে ধর্ষনের চেষ্টা, লম্পট ভাই গ্রেফতার ঝিনাইদহে কঠোর লকডাউনেও মানুষের ঢিলেভাব সুনামগঞ্জে দুই হত্যা মামলায় ঘাতক স্বামী সহ হোটেল মালিক ও কর্মচারী গ্রেফতার মাগুরার সকল ইউনিয়নের জন্য উপজেলা পরিষদের ২০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয় 

Surfe.be - Banner advertising service

স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে আমতলীতে সংগ্রামী দুই বিধবা নারী কামারের যুদ্ধ

আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমতলী প্রতিনিধি (বরগুনা) :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১
  • ১১ বার পঠিত

দুই ভাই মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে সাহসী সংগ্রামী দুই বিধরা নারী জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরুষরা হিসশীম খেলেও তারা ওই কাজে বীর যোদ্ধা। জীবন যুদ্ধে তারা আমতলীতে অদ্বিতীয়। তাদের দাবী সরকারের সহযোগীতা পেলে তারা আরো এগিয়ে যেতে পারতেন। ঘটনা আমতলী পৌর শহরের সদর রোডে।

জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের সদর রোডের শ্যাম কর্মকারের দুই ছেলে আশীষ কর্মকার ও অসীম কর্মকার। দুই ছেলেকে নিয়ে শ্যাম কর্মকারের কামার শিল্প বেশ জমজমাট ছিল। গত ৬০ বছর ধরে এ কাজের সাথে জড়িত তিনি। ভালোই চলছিল তাদের জীবন। ২০১০ সালে শ্যাম কর্মকারের বড় ছেলে আশীষ কর্মকার মরণব্যধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। দুই বছর ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে ২০১২ সালে মারা যান। বিধবা হয়ে পড়েন তার স্ত্রী ঝুমা কর্মকার।

স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে বৃদ্ধ শশুর ও দেবর অসীম কর্মকারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ লোহার কাজে সহযাগীতা করেন বিধবা ঝুমা। কিছুদিন পরই ফুসফুস ক্যান্সারের আক্রান্ত হন ছোট ছেলে অসীম কর্মকার। ৫ বছর ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে ২০১৯ সালে ৫ নভেম্বর তিনিও মারা যান। বিধবা হয় স্ত্রী পুতুল রানী কর্মকার। দুই ছেলেকে হারিয়ে মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বৃদ্ধ বাবা শ্যাম কর্মকার (৮০)। দুই ছেলেদের চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেন তিনি। মানুষের সাহায্য সহযোগীতায় তারা কোন মতে দিনাতিপাত করতে থাকেন।

প্রায় বন্ধ হয়ে যায় তাদের কামার শিল্প। এমনই মুহুর্তে দুই ছেলের দুই বিধবা স্ত্রী ঝুমা রানী কর্মকার ও পুতুল রানী কর্মকার স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে কামার শিল্পের হাল ধরেন। দিন রাত অদম্য শ্রম দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের কর্মযজ্ঞ। যুদ্ধ করেন আগুন ও লোহার সাথে। প্রতিদিন দা, বটি, কুঠার, হাতুড়ি, ছেনা, চাকু ও খুন্তিসহ লোহার জিনিষ পত্র তৈরি করেন। আগুন এবং লোহার সাথে দুই বিধবা নারী গড়ে তোলের গভীর মিতালী। আগুন ও লোহার মিতালীতে কামারশালায় মত্ত তারা।

এ কাজ করেই তাদের পরিবারের ৭ সদস্যের সংসার চলে। বয়সের ভারে শশুর শ্যাম কর্মকার ন্যয্যমান। চোখে কম দেখেন, সারা শরীরের ফোসকা পড়ে চামড়া উঠে যাচ্ছে। বৃদ্ধ শশুর-শাশুড়ীর চিকিৎসা ভরন পোষন, দুই বিধবা নারীর দুই সন্তান অন্তু কর্মকার ও অন্তরা কর্মকারের লেখাপড়া ও ননদের দেখভাল চলে এ কাজের অর্জিত অর্থ দিয়ে। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারনে বর্তমানে কাজ কর্ম কম থাকায় কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা। সরকারী ও ধনাট্য ব্যাক্তিদের সহযোগীতা পেলে তারা আরো এগিয়ে যেতে পারবেন বলে দাবী করেন নারী কামার ঝুমা কর্মকার।

জীবন যোদ্ধা নারী কামার পুতুর রানী কর্মকার বলেন, আমার শশুরের দুই ছেলে মরণব্যধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে দুই ঝা কাজে লেগে পড়ি। দিন রাত লোহা ও আগুনের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছি। আক্ষেপ করে আরো বলেন, কি আর করা সংসারতো চালাতে হবে। বৃদ্ধ শশুর-শাশুড়ী তাদের চিকিৎসা ভরণ পোষণ ও দুই সন্তানের লেখাপড়া।

যতই কষ্ট হোক স্বামীর ঐহিত্য ধরে রাখতে চেষ্টা করবো দুই ঝাঁয়ে। আমরা মিলে মিশে কাজ করি। কষ্ট হলেও ঝামেলা বিহীন জীবন দুই ঝাঁয়ের। স্বামী ছাড়া কষ্ট হলেও জীবনতো চালাতে হবে।
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, নারী কামার পুতুল রানী কামারশালায় বসে কাজ করছেন। করোনা ভাইরাসের কারনে বেচাকেনা কম। তবে কোরবানী উপলক্ষে কিছুটা বেচা কেনা বেড়েছে বলে জানান পুতুল রানী কর্মকার।

ঝুমা রানী কর্মকার বলেন, যতদিন শক্তি সামর্থ আছে ততদিন স্বামীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাব। এখান থেকে সরে যাব না। তিনি আরো বলেন, কষ্টের জীবনে সরকারী ও ধনাট্য ব্যাক্তিদের সাহায্য সহযোগীতা পেলে কামার শিল্পটাকে আরো বেগবান করা যেত।

বৃদ্ধ শ্যাম কর্মকার কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, চোহে দেহি না। হারা শরীলে ফোসকা পইর‌্যা চামড়া ওডে। দুই বিধবা পোলার বউ লোয়ার কাম হরে সোংসার চালায়। কাম কোম, সোংসার চালাইতে কষ্ট অয়। সরকারী সাহায্য পাইলে ভালো অইতো।

আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, দুই বিধবা নারীর স্বামীর ঐহিত্য কামার শিল্পকে ধরে রাখতে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে আমি যথা সাধ্য সাহায্য সহযোগী করছি। আরো সাহায্য সহযোগীরা পেলে ওই পরিবারের অনেক কষ্ট লাঘব হতো।

 

Surfe.be - Banner advertising service

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451