বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৫ অপরাহ্ন

ডোমার জোড়াবাড়ীতে বাবুই পাখিবাসা, কিচিকিছি শব্দে মুখোরিত পুরো এলাকা

আনিছুর রহমান মানিক, ডোমার প্রতিনিধি (নীলফামারী) ঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১
  • ৪১ বার পঠিত

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামে মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেনের বাড়ির সুপারি গাছে শোভা পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাবুই পাখির বাসা। সারাদিন কিচিমিছি শব্দে মুখোরিত পুরো এলাকা। বিশেষ করে প্রতিদিন বিকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভীড় জমে পাখীদের খেলা দেখতে। তাদের কিচিমিচি শব্দে মুখোরিত হয় উৎকুচ জনতা।

মানুষ যেমন নানারকম জিনিস দিয়ে নিজেদের বাড়ি বানায়, বাবুই পাখিরাও সেরকম নানা জিনিস দিয়ে বিভিন্ন কায়দায় নিজেদের বাসা বানায়। কেউ বানায় ডাল-পালা দিয়ে, কেউ বানায় পালক দিয়ে, কেউ বানায় ঘাস দিয়ে, তার গড়নই বা কতরকমের কারো বাসা কেবল একটি ঝুড়ির মতো, আবার কারো বাসা গোল, কারো বাসা লম্বা চোঙার মতো।

এখন আর তেমন একটা বাবুই পাখি চোখে পড়ে না। পড়ে না নয়নাভিরাম বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। গ্রাম অঞ্চলে আকাঁবাঁকা মেঠোপথে, পতিত উঁচু ভিটেমাটিতে, কখনও কখনও বাড়ির সীমানায় শোভাবর্ধন তাল গাছে বাবুই পাখির বাসা শোভা পেত। তা দেখে মানুষ মুগ্ধ হতো। এখন সেই তালগাছও বিলুপ্তির পথে।

এ বিষয়ে বেলাল হোসেন জানান, আমার বাড়ির সামনে বেড়ার পাশদিয়ে ৮টি সুপারি গাছ রয়েছে। ফাল্গুন মাসের প্রথমদিকে পাখীগুলো বাসা বাঁধে আবার আর্শ্বিন মাস এলে বাসা রেখে চলে যায়। প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ১২টি বাসা বেঁধেছে। প্রতিদিন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থী আসে পাখীর কিচিমিচি শব্দের কলতান শুনতে, তারা এসে ভিডিও ও ছবি ধারণ করে।

পাখীরা মাঝে মধ্যে আমার বারান্দায় আসে আমি তাদের খাবার দেই। পুরুষ পাখি বাসা বানায়, অর্ধসমাপ্ত বাসা স্ত্রী তৈরী করে। পছন্দ হলে জোড় বাঁধে। স্ত্রী দুই থেকে চারটি সাদা ডিম পাড়ে। প্রায় দুই সপ্তাহে ডিম ফোটে। বাচ্চারা এক মাসের মধ্যে উড়তে শেখে। পাখীগুলোও আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোজাম্মেল হক জানান, বাবুই পাখি বিরল প্রকৃতির। এদের বাসার গঠন বেশ জটিল আর আকৃতি খুব সুন্দর। কয়েক প্রজাতির বাবুই একাধিক কক্ষবিশিষ্ট বাসা তৈরি করতে পারে। নিজের ঘর সাজাতে তাদের কোনো জুড়ি নেই। এরা বেশ দলবদ্ধ প্রাণী আর কলোনি করে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত।

বেশিরভাগ বাবুই প্রজাতির পুরুষ সদস্য বেশ উজ্জ্বল রঙের হয়। কিছু প্রজাতি তাদের প্রজনন মৌসুমে বর্ণের ভিন্নতা প্রদর্শন করে। বাংলাদেশে তিন ধরনের বাবুই দেখা যায়। দেশি বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই। বাবুই পাখির বাসা উল্টানো দেখতে কলসির মতো। বাসা বানানোর জন্য বাবুই খুব পরিশ্রম করে। ঠোঁট দিয়া ঘাসের আস্তরণ ছাড়ায়। যতœ করে পেট দিয়ে ঘষে গোল অবয়ব মসৃণ করে।

শুরুতে দুটি নিম্নমুখী গর্ত থাকে। পরে একদিক বন্ধ করে ডিম রাখার জায়গাও তৈরি করে। অন্য দিকটি লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরী করে। রাতে বাসায় আলো জ্বালাতে জোনাকি পোকা ধরে এনে বাসায় গুঁজে রাখে। তাদের শৈল্পিক চিন্তা এতই প্রবল ঝড় কিংবা তুফানেও কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারে না। এরা সাধারণত খুঁটে খুঁটে বিভিন্ন ধরনের বীজ, ধান, ভাত, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু-রেণু ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে। তারা ফেব্রুয়ারী মাসে বাসাবাঁধে ৪টি করে ডিম দেয়, ১৪ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফোটে, তা বড় হলে জুলাইয়ের দিকে অন্যত্র চলে যায়। বাবুই পাখিকে শৈল্পিক ইঞ্জিনিয়ার বলা চলে।

 

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451