বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৬ অপরাহ্ন

পরকীয়ার কারনে স্বামীকে হত্যার স্বীকারোক্তি দিলেন স্ত্রীঃ প্রেমিকসহ আটক ২

সানি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১
  • ৫১ বার পঠিত

লালমনিরহাট জেলা সদরে এক পল্লী চিকিৎসকের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে চুটিয়ে প্রেম করার পর স্বামীকে হত্যা করেন স্ত্রী এমন জবানবন্দী দিয়েছেন স্ত্রী মমিনা বেগম। পরকীয়ার কারনেই স্বামী জলিলকে হত্যা করা হয়েছে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনদিন পর স্বীকার করলেন স্ত্রী মমিনা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানী।

গতকাল বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপার (এ – সার্কেল) মারুফা জামাল হত্যার সাথে জড়িত স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণের কথা নিশ্চিত করেছেন।

লালমনিরহাট পৌরসভার সাপটানা মাজাপাড়া এলাকার মোল্লা মিয়ার মেয়ে মমিনা এবং উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের শাহার আলীর ছেলে আব্দুল জলিলের দাম্পত্য জীবনে তাদের দু’টি কন্যা সন্তান রয়েছে।

কিভাবে কেন জলিলের মৃত্যু তা নিয়ে এর আগে তিনদিনের কুলখানি অনুষ্ঠান শেষে জলিলের বড়ভাই আব্দুর রশিদ ছোটভাইয়ের স্ত্রী মমিনা বেগমকে বলেন তুমি আমাদের সাথে গ্রামের বাড়িতে যাবে। এ কথা শোনার সাথে সাথে মমিনা বেগম রেগে গিয়ে বলেন, আমি আপনাদের বাড়ি আর যাব না। আবার বিয়ে করবো এবং এখানেই থাকবো।

মমিনা বেগমের এমন কথা শোনার পর মৃত জলিলের বড়ভাই রশিদের সন্দেহ হয়। সন্দেহের কারনেই পরেরদিন (২৫ জুলাই) তার ছোটভাই জলিলকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।

ওইদিনেই এ সার্কেল পুলিশ সুপার মারুফা জামালের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক ভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে কোন ক্লু না পেয়ে তাদের ফোন কল যাচাই করেন।

(২৭ জুলাই) মঙ্গলবার সকালে সন্দেহজনক ৪জনকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে জলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী।

হত্যার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকায় অন্য দুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

পরেরদিন বুধবার (২৮ জুলাই) সকালে স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে প্রেরন করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল নিশ্চিত করেন।

এ বছর কুরবানী ঈদের দ্বিতীয় দিনে একসাথেই ছিলেন পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানী ও মৃত আব্দুল জলিল। ওইদিন গভীর রাতে পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী কৌশলে জলিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এদিকে অপেক্ষারত স্ত্রী মমিনা বেগম স্বামী ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথে তাকে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্

বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হলে ভোরের দিকে মমিনা বেগম চিৎকার শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন এসে জলিলের নাকে ও মুখে রক্ত বের হতে দেখেন এবং পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী মৃত্যু নিশ্চিত করেন।সেদিন ভোররাতে মমিনা কান্নাকাটি করেন তার স্বামী স্ট্রোক করে মারা গেছে। তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম বলেন, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হতে পেরেছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪জনকে আনা হলেও স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর সরাসরি হত্যার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় সকালে তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের আদেশ পেলে ময়না তদন্তের জন্য প্রয়োজনে লাশ কবর তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451