মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

গলাচিপায় বিচ্ছিন্ন দুই ইউনিয়নে অস্থায়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্র হওয়ায় স্বস্তিতে এলাকাবাসী

রিয়াদ হোসাইন, গলাচিপা প্রতিনিধি (পটুয়াখালী) :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১
  • ৪২ বার পঠিত

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবায় অস্থায়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্র হওয়ায় স্বস্তিতে জীবনযাপন করছেন বিচ্ছিন্ন দুটি দ্বীপ ইউনিয়ন চরকাজল ও চরবিশ^াসের লক্ষাধিক মানুষ। এটি উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি নদীসহ প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন দুটির মানুষ এখানে স্থায়ীভাবে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জোর দাবি জানান।

জানা গেছে, গত ১৮ মে পটুয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান চরশিবা শুক্রবারিয়া বাজারে অস্থায়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম।

পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে সমাধান পাওয়া ভুক্তভোগী মো. রাসেল ফরাজী বলেন, ‘এখানে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থাকায় আমরা খুব সহজে অভিযোগ দিতে পারছি। আগে একটি অভিযোগ করতে গলাচিপা থানায় যেতে খরচ হত জন প্রতি পাঁচ-ছয়শ টাকা, যা আমাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে যেত। এখন চরশিবা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে অভিযোগ করতে পারছি এবং খুব দ্রুত সমাধান পাচ্ছি।’

চরকাজল পুরান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মু. রিয়াজ উদ্দিন খলিফা বলেন, ‘পুলিশ অবস্থান নেওয়ার পর থেকে বেপরোয়াভাবে আড্ডা দেওয়া, মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা, জুয়ার আড্ডাসহ সামাজিক অপরাধগুলো এখন আর চোখে পড়ে না। বলা যায় অনেকটাই নির্মূল হয়েছে সামাজিক অপরাধ।

পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই মো. নুরুন নবী বলেন, ‘দুর্গম জনপদ হওয়ায় এ অঞ্চলে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার খবর পেয়েও উপজেলা সদর থানা থেকে আসতে দেড়-দু ঘন্টা সময় লেগে যেত। ততক্ষণে অপরাধীরা আন্তঃজেলা সীমানা পাড়ি দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেত। এখন চরশিবায় অস্থায়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্র হওয়ায় অপরাধ নির্মূলে অনেক সুবিধা হচ্ছে। এখানকার দুটি ইউনিয়নের সমস্যাগুলো খুব দ্রুত সমাধান করতে পারছি। নিয়মিত আমরা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার করছি। মাদক, জুয়ায় অভিযান চালাচ্ছি, গ্রেফতার করছি। গত আড়াই-তিন মাসে ৪০-৪৫জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছি।

চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রুবেল মোল্লা বলেন, ‘পটুয়াখালী ও ভোলা আন্তঃজেলা সীমানা এই এলাকায় অবস্থিত। এই অঞ্চলের শান্তিশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার জন্য এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপ অঞ্চলবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদার কাছে অস্থায়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রটি স্থায়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবায় অস্থায়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে একজন এসআই, একজন এএসআইসহ ১৫-২০জন ফোর্স নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।

গলাচিপা উপজেলার এক তৃতীয়াংশ মানুষ ওই দুই ইউনিয়নে বসবাস করেন। আশা করছি এখন থেকে ওই বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপের পাশর্^বর্তী ভোলা জেলার অপরাধীরা অপরাধ করে এই দ্বীপে আশ্রয় নেয়। যদি এখানে স্থায়ীভাবে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র করা হয় তাহলে অপরাধীরা আর এখানে আসার সাহস পাবে না। এ দুই ইউনিয়নবাসীর জন্য ৪-৫ বছর আগে থেকেই স্থায়ীভাবে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

 

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451