শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

নওগাঁর মান্দায় আসামী ধরতে গিয়ে পুলিশের এস আই লাঞ্ছিতঃ তিন ঘন্টা পর উদ্ধার

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১
  • ৪০ বার পঠিত

নওগাঁর মান্দা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফার বাড়িতে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ সদস্য মারপিটের শিকার হয়েছেন। এ সময় এস আই আতিউর রহমানকে লাঞ্চিত সহ ঘরে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফার বিরুদ্ধে।

শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে চেয়ারম্যান তোফার বাড়িতে এ ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এ সময় মান্দা থানার উপপরিদর্শক আতিউর রহমানকে লাঞ্ছিতসহ অবরুদ্ধ করে রাখে চেয়ারম্যানের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনী। সংবাদ পেয়ে মান্দা থানার পরিদর্শক (ওসি) শাহিনুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন এসআই আতিউর রহমানকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান অত্যন্ত ধূর্তবাজ ও বদমেজাজি প্রকৃতির। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ধর্ষক রুবেল হোসেনের পক্ষ নিয়েছেন । ধর্ষণ মামলার আসামিকে এক্তিয়ার বর্হিভূতভাবে ও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে মীমাংসার জন্য কোন লিখিত অভিযোগ কিংবা কোর্টের আদেশ ছাড়াই আপোসের জন্য তার নিজ বাড়িতে বসেন।

এছাড়া একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় তান্ডব চালিয়ে সরকারি অফিসিয়াল কাজে বাঁধা দিয়ে এসআই আতিউর রহমানকে ঘরেবন্দি করে রাখেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এ সন্ত্রাসী ঘটনার সুষ্টু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সাবাদিকদের জানান, সদর ইউনিয়নের ঘাটকৈর গ্রামের এক নারী একই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মৎস্যজীবীপাড়ার আলাউদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ দেন। বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করছিলেন ওই নারী। শুক্রবার সকালে মিমাংসার জন্য দুইপক্ষকে তার বাড়িতে ডেকে আনা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য রুস্তম আলীকেও ডেকে নেন।

চেয়ারম্যান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, দুইপক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনা চলাকালে হঠাৎ করেই সাদা পোষাকে এসআই আতিউর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই রুবেল হোসেনকে ধরে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় বাধা দিলে কয়েকজন নারীকে হেনস্তা করাসহ ওই কক্ষের বেশকিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় লোকজন এসআই আতিউর রহমানকে লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ করে রাখেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিউর রহমান জানান, ধর্ষণ মামলা মিমাংসা করার কোন এক্তিয়ার চেয়ারম্যানের নেই। সেটা একমাত্র আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত। চেয়ারম্যানের বাড়িতে আসামি অবস্থান করছে জেনে সেখানে গিয়ে তিনি আসামি আটক করেন। কোন ভাংচুর কিংবা কোন মহিলাকে হেনস্তা বা লাঞ্ছিত করার কোন প্রশ্নই আসেনা। এসব ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ। বরং তিনি নিজেই হেনস্তা ও লাঞ্চিতের শিকার হয়েছেন।

মান্দা থানার পরিদর্শক (ওসি) শাহিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিম ওই মহিলা নিজে বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার আসামীকে ধরতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে আসামি চেয়ারম্যান তোফার বাড়িতে অবস্থান করছে। এজন্য সেখানে আসামি ধরতে যান এসআই আতিউর রহমানসহ পুলিশ সদসরা।

সেখানে অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যানের লোকজন পুলিশকে আসামী আটক করে নিয়ে আসতে বাঁধা দিয়ে বসে। এক সময় লাঞ্চিত ও ঘরে অবরুদ্ধ করে ফেলে। তিন ঘন্টা পরে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আসামি রুবেল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বিকেলে আসামীকে আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451