রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ন

দিনাজপুরের ফসলের মাঠ সবুজে ভরে উঠেছে

বিশেষ প্রতিনিধি দিনাজপুর ঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৫১ বার পঠিত

করোনায় সবকিছুর ব্যাঘাত ঘটলেও বোরো ধান আবাদের পর আমন রোপণ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের কৃষকেরা। এবছর শ্রাবণ মাসের শুরুতে তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও কয়েক এলাকার কৃষক সেচের পানি দিয়ে তাদের উচু জমিগুলো রোপন শেষ করেছে। কিন্তু সময়মত বৃষ্টির পানি না হওয়ায় অনেক স্থানে চারা রোপন পিছিয়ে গেছে।

এরপরেও ফসলের মাঠ কোথাও ফাঁকা নেই, যতদুর দৃষ্টি পড়ে সবুজ আর সবুজ, নীল আকাশের সাদা মেঘের ঢেলা, যেন সবুজের গাঢ় রঙ্গে একাকার হয়ে পড়েছে। নতুন সাজে সেজেছে বাংলার প্রকৃতি। বর্তমানে নিচু জমিগুলো থেকেও পানি শুকিয়ে যাওয়ায় তরিঘড়ি করে আমন চারা রোপন করতে শেষ সময়ে ব্যস্ততায় পার করছেন কৃষকরা। আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার না হলে, আবারো হেমন্তে নতুন ধানে ভরে উঠবে কৃষকের গোলা। এই প্রত্যাশা আমন চাষিদের।

কৃষি বিভাগ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষাকালে প্রয়োজনীয় বৃষ্টির দেখা মিলছে না এবার। তবে জেলায় আমন ধানের চারা রোপন প্রায় শেষ পর্যায়ে। পানির অভাবে অপেক্ষাকৃত উচু কিছু জমিতে এখনো আমন চারা রোপন করা সম্ভব হয়নি। কৃষকরা সেচের মাধ্যমে এসব জমিতে চারা রোপন করছে। অপরদিকে রোপনকৃত জমিতে পানি না থাকায় সেচযন্ত্র ব্যবহার করে কৃষকরা শুকিয়ে যাওয়া আমন ক্ষেতে সেচ দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগও সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

তবে কেউ কেউ বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়তি খরচ করে শ্যালো ও বৈদ্যুতিক মটর ব্যবহার করে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করছেন। ধান বীজ, শ্রমিক এবং শ্যালো ভাড়া মিলে খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জেলার প্রান্তিক চাষীরা দুশ্চিন্তায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, এবছর দিনাজপুরে চলতি আমন মৌসুমে ২ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত আমন রোপণের সময়। তবে এখন রোপণের উপযুক্ত সময় চলছে।

ফুলবাড়ীর কৃষক নবীউল ইসলাম,মন্টু মিয়াসহ আনেকে জানান, শ্রাবণ মাসের শুরুতেই বিভিন্ন মাঠে কৃষকদের আমন চাষে পদচারনায় উৎসব মুখর ছিল। ফুলবাড়ীর কৃষকরা সাধারণত শ্রাবণ মাসের মধ্যেই আমন ধান রোপন শেষ করে থাকেন। এবছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েন তারা, তবে অনেকেই শ্যালো মেশিনের পানি সেচ দিয়ে আমন রোপন শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউপির পুলহাট গ্রামের মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, আমন চারা রোপনে বিঘা প্রতি ১০হাজার টাকায় ৭বিঘা জমি বর্গা নিয়েছি। বৃষ্টি না হওয়ায় শ্যালো ভাড়ায় পানি সেচ দিয়ে চারা রোপন করতে হয়েছে। এতে করে ধান বীজ, শ্রমিক এবং শ্যালো ভাড়া মিলে খরচ বেড়ে গেছে।
খানসামার বালাপাড়া গ্রামের কৃষক সাব্বির হোসেন সম্পদ বলেন, বৃষ্টিতে জমে থাকা পানির ওপর নির্ভর করে রোপা আমন চাষ করে থাকি। কিন্তুআশানুরুপ বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চাষ নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছি।

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার জানান, এবছর ১৮ হাজার ১ শত ৮১ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এপর্যন্ত ৮০ শতাংশেরও বেশী জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে।

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় বলেন, বৃষ্টি হলে এতদিন রোপণ শেষ হতো আর বৃষ্টি না হওয়ায় রোপন শেষ হতে দেরী হচ্ছে। তবে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে কোন শঙ্কা নেই।

 

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451