বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

ইলিশ শূন্য ঘাটে ফিরছে শরণখোলার জেলেরা

নজরুল ইসলাম আকন, শরণখোলা প্রতিনিধি (বাগেরহাট) ঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৮ বার পঠিত

ভরা মৌসুমেও সাগরে ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না বাগেরহাটের শরণখোলার জেলেরা। একপ্রকার খালি ট্রলার নিয়েই ঘাটে ফিরছে তারা। মৌসুমের পাঁচ মাস পার হলেও এ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেনি কোনো মহাজন। চলতি সপ্তাহে সাগর থেকে উঠে আসা একেকটি ফিশিং ট্রলারে মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা। এতে তেল খরচও ওঠেনি মহাজনদের। লাখ লাখ টাকা লোকসানে রয়েছেন জেলের-মহাজনরা। সবার চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। মৎস্য পল্লীতেও নেই তেমন কর্মচঞ্চলতা।

এফবি মুন্না ট্রলারের মাঝি মো. মিজান মিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মোরা গহীন সমুদ্রে মাছ ধরি। গত মঙ্গলবার সাগর থেইকা উইঠ্যা আইছি। এই ট্রিপে খরচ ওইছে পৌনে দুই লাখা টাহা। যে মাছ পাইছি তা বেইচ্যা নামছে মাত্র ২২ হাজার টাহা। ট্ররালে মোরা মাঝি-মাল্লা লইয়া ১৭ জন। অ্যাহন মহাজনরে কি দিমু আর মোরাই বা কি নিমু!

শরণখোলা মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. দেলোয়ার ফরাজী বলেন, সাগরের যে অবস্থা তাতে জেলে-মহাজনদের এবার ভিক্ষার ঝুলি নিয়া রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো উপায় নাই। সাগরে কোনো মাছ নাই। একেক জন ট্রলার মালিক ও আড়তদার আট লাখ, দশ লাখ টাকা কইরা লোকসানে আছে। সামনের গোনে সাগরে নামার মতো পুঁজিও অনেকের কাছে নাই।

দেলোয়ার ফরাজীর অভিযোগ, ইলিশের ভরা মৌসের সময় ৬৫ দিনের অবরোধ থাকায় ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। ভারতীয় জেলোর সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে মাত্র ২০-২৫ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে এসে মাছ ধরে নিয়ে যায়। অবরোধের সময় মাছ না ধরলে সেই মাছটা এখন জেলেদের জালে ধরা পড়ত। যার ফলে, দেশীয় জেলেরা এখন লোকসান গুনছে।

বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, বাগেরহাট জেলায় ছোটবড় মিলিয়ে সহস্রাধিক ফিশিং ট্রলার রয়েছে। এর মধ্যে শরণখোলায়তেই রয়েছে তিন শতাধিক ফিশিং ট্রলার। এবার কোনো ট্রলারেই ভালো ট্রিপ হয়নি। তেল খরচও উঠছে না অনেকের।

আবুল হোসেন জানান, বৈশাখ মাসে ইলিশ মৌসুম শুরু হয়। চলে আশ্বিন মাস পর্যন্ত। ইতোমধ্যে মৌসুমের পাঁচ মাস চলে গেছে। এর মধ্যে আবার দুই মাস (৬৫ দিন) গেল অবরোধে। শুরুর একমাসে কয়েক দফা দুর্যোগে সাগরে জাল ফেলা যায়নি। তখন মাছও তেমন পড়েনি। আর অবরোধ শেষ হওয়ার পরও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দুই ট্রিপ হয়েছে। তাতে চালান ওঠেনি কোনো মালিকের।

ভারতের জেলেদের অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ করে এই মৎস্যজীবী নেতা বলেন, এখনো ভারতের জেলেরা আমাদের জলসীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারতে একই সময়ে অবরোধ না দিলে আমাদের জেলেরা ইলিশে মার খেতেই থাকবে। দেশীয় জেলেদের রক্ষা করতে এ ব্যাপারে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।

শরণখোলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস,এস পারভেজ জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে এবং অনেক জায়গায় সাগরের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে ইলিশ মাছ কম পরতে পারে।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451