বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫০ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা গণহত্যার স্মরণে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ওয়েবিনার

জি-নিউজবিডি২৪ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৮ বার পঠিত

“আমরা (রোহিঙ্গা) আঞ্চলিক ভূরাজনীতির হাতের পুতুল হয়ে গেছি এবং আমরা এখন একমাত্র হতাশাই অনুভব করছি” রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্বের কথা উল্লেখ করে কানাডার রোহিঙ্গা ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল এর প্রতিষ্ঠাতা জয়নাব আরকানি একটি ওয়েবিনারে এ কথা বলেন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইন্সিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি)’র অধীন সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) এর উদ্যোগে ‘২০১৭ সালের রোহিঙ্গা গণহত্যার স্মরণ: বিচারের অপেক্ষায়’ শিরোনামে ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। বক্তারা রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা, তাদের জীবিকা, সংকটের সমাধান এবং কিভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

জয়নাব আরকানি মিয়ানমারে আটকে থাকা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোকদের (আইডিপি) পুনর্বাসন এবং বাংলাদেশী কাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণ নাগরিকত্ব সহ তাদের মূল বাসস্থানে পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রোহিঙ্গা প্রবাসীরা এটিকেই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় বলে মনে করে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে ত্বরান্বিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা প্রবাসীদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

“আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সঙ্কটে তাদের আগ্রহ হারাচ্ছে এবং এটি খুবই দুঃখজনক। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের ধারণা এখন একটি বিভ্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে”, বলেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এবং বর্তমানে এনএসইউতে এসআইপিজির প্রফেসোরিয়াল ফেলো রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক।

রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনাকালে তিনি আরও বলেন যে, রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগ কোনো আকস্মিক বিষয় নয়, এটি একটি চলমান পুনরাবৃত্ত ঘটনা। এবং যতক্ষণ সামরিক বাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতায় থাকবে ততদিন এ সমস্যার কোন সমাধান আশা করা যায়না।

ড. রেমন্ড কোউন-সান লাও, সহকারী অধ্যাপক, ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিকাল সায়েন্স এন্ড সোশিওলজি (পিএসএস), এনএসইউ বলেন যে, রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোকে আরও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি দারফুর, সুদান এবং উগান্ডায় ঘটে যাওয়া গণহত্যাকে উল্লেখ করে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন যে এই সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সহকারী অধ্যাপক এবং সিপিএস সমন্বয়ক ড. ইশরাত জাকিয়া সুলতানা রোহিঙ্গাদের জীবিকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যখন একটি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী কিছুদিনের জন্য কোনো জায়গায় বাস করে, তখন জায়গাটি একটি গ্রামে পরিণত হয়, এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্ষেত্রেও এটি ঘটেছে যেহেতু তারা ক্যাম্পের ভিতরে এবং বাইরে তাদের জীবিকা পরিচালনার জন্য কিছু প্রক্রিয়া তৈরি করেছে।”

যদিও বাংলাদেশ সরকার তাদের খাদ্য ও আশ্রয়ের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহযোগিতা করছে, তবুও স্বভাবগত কারণে তারা জীবিকার সুযোগ খোঁজে। এবং এজন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গাদের স্থানীয় চাকরির বাজারে প্রবেশ করা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। তার সাম্প্রতিক সফরে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশী শিশুদের একটি চিত্রাঙ্কন অনুষ্ঠানে যোগ দেন যেটি যৌথভাবে সিপিএস এবং আর্টলিউশন আয়োজন করে। এই কর্মসূচি উভয় সম্প্রদায়ের দ্বারা ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়েছিল। তিনি সামাজিক সংহতি তৈরি এবং ভুল ধারণা দূর করার জন্য শিল্পের গুরুত্বের উপর জোর দেন। এবং তিনি অবশেষে আহ্বান জানান যে এই মানবিক সংকট সমাধানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা উচিত।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ফিজিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের হাইকমিশনার রাষ্ট্রদূত সুইফুর রহমানের মতে, মিয়ানমারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটি নতুন রূপ নিচ্ছে। যদি এনইউজি, মিয়ানমারের জাতিগত দল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ইস্যুতে নিয়োজিত থাকে, তাহলে সামরিক বাহিনীকে পরাভূত করা সম্ভব এবং একটি সমাধান বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর বিপরীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন, পিএইচডি, (অবঃ), এসআইপিজি, এনএসইউ -এর সিনিয়র ফেলো বলেন যে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে পরাভূত করা খুবই কঠিন এবং এইভাবে এই সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়।

সহযোগী অধ্যাপক এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এর পরিচালক ড. বুলবুল সিদ্দিকী এই ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন। তিনি এই রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আশা করেন যে রোহিঙ্গারা তাদের সব অধিকার ফিরে পাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করবে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রবাসী, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৭ সালে গণহত্যা ও নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে ওয়েবিনারের সমাপ্তি ঘটে।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451