সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে পৌর ও ইউনিয়নে যারা নৌকার মাঝি, মিষ্টি বিতরণ-আনন্দ মিছিল সমর্থকদের গুজব ছড়ানোর দায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে “বঙ্গবন্ধু ব্যাটেল অব স্কিলস ২০২১” শীর্ষক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী অগ্নি সংযোগ, লুটপাট ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ঝিনাইদহে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন ভোলায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, আসামী গ্রেপ্তার দীপ্ত টিভিতে তুর্কি ধারাবাহিক ‘জননী জন্মভূমি‘ নামের মিল থাকায় ভোলায় বিনাদোষে কারাভোগ করছেন শাহাজান সুন্দরগঞ্জে ইউপি নিবার্চনে নৌকার হালধরতেচান ১৩ জন বিরামপুর উপজেলার ৬ ইউপিতে নৌকার মাঝি হলেন যারা বহুল প্রতীক্ষিত পায়রা সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৪১ বছর পর শার্শার ৮ জালিয়াতের বিরুদ্ধে যশোর জেলা প্রশাসকের মামলা

ইয়ানূর রহমান, ভ্রাম্মমান প্রতিনিধি যশোর :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৪ বার পঠিত

যশোরে সরকারি জমি উদ্ধারে মামলা করলেন যশোরের জেলা প্রশাসক। শার্শা উপজেলা পরিষদের পিছনে সরকারি কাছারি বাড়ির ৩৫ শতক জমি ৪১ বছর ধরে অবৈধ ভাবে দখলে রেখেছে স্থানীয় ফজলুর রহমানের ছেলেরা করিম হোসেন, জসিম উদ্দিন, মনির হোসেন ও ইমাম হোসেন।

এই সরকারি কাছারি-বাড়ির জমি জালিয়াতি করে নিজেদের নামে রেকর্ড করে রাস্তা ও ড্রেন দখলে নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছে তারা। ফজলুর রহমান চাষাবাদ করার জন্য ধানী শ্রেণি দেখিয়ে প্রথম দিকে একসনা বন্দোবস্ত নেন পরে আবার পনের(১৫) বছরের বন্দোবস্ত নেন। কিন্তু এসএ খতিয়ান ও সিএস খতিয়ানে কাছারি বাড়ি উল্লেখ রয়েছে। এখানে কোন চাষাবাদ হয় নি বলে এলাকাবাসির অভিযোগ রয়েছে। ইত্েযমধ্েয রাস্তা ও ড্রেন ব্যবহারকে কেন্দ্র করে অনেকের শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেছে ও বয়স্ক ব্যাক্তিদের লাঞ্ছিত করেছে।

জমি দখলের বিষয়ে প্রথম দিকে অতি গোপন থাকলেও পরে জানাজানি হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন এবং তখনকার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম ২০১৯ সালের ১১ই নভেম্বর স্বাক্ষরিত একপত্রে উল্লেখ করেন কালেক্টর যশোরের নামে কাছারি বাড়ির বাস্তু শ্রেণির জমি। এই জমিতে সরকারের সরাসরি স্বার্থ জড়িত রয়েছে। এ কারণে আর এস গেজেট প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে এলএসটি মামলার নির্দেশ দেন বুরুজবাগান ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন।

জেলা- উপজেলা প্রশাসনের দীর্ঘ তদন্তের পর জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় এ খাস খতিয়ান ভুক্ত জমি উদ্ধারে জন্য যশোর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়ের সিভিল স্যুটশাখা থেকে জিপি দপ্তর কে এল,এস,টি/দেওয়ানী মামলা করার জন্য ৩০/০৯/২০২০ ইং তারিখে চিঠি দেয়। জিপি বাহাউদ্দীন ইকবাল জানান, চিঠি পেয়ে সরজমিনে যান ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার সাথে দেখা করে সমস্ত কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণ মেলে, সরকারের কাছারি বাড়ির জমির জাল দলিল করা হয়েছে।

শার্শা উপজেলার ৭২নং শার্শা মৌজার এস,এ ১২৫৫ নং দাগের যে ৩৫ শতক জমি রহিয়াছে উহা বাংলাদেশ সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত জমি এবং ঐতিহ্য কাছারি বাড়ির জমি। উক্ত জমি আর, এস খতিয়ানে ২৩৩৬ নং দাগে স্থানীয় পর্যায়ের কথিত ব্যক্তি (জসিমসহ তার ভাইয়েরা) তঞ্চকতা(ক্রটিপূর্ণ/জালিয়াতি) সহকারে খাস খতিয়ানভুক্ত কাছারি বাড়ির জমি ব্যক্তি মালিকানায় আর এস খতিয়ানে ৩২.৬৩ শতক প্রতারণামূলক রেকর্ড লিপিবদ্ধ করিয়েছে। এতে প্রমাণ হয় এখানে সম্পূর্ণ জালিয়াতি করা হয়েছে। তাছাড়া ঐ জমিতে একশ বছর আগের স্থানীয় মানুষের চলাচলের রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন রহিয়াছে। ঐ সমস্ত ব্যক্তিরা জমি দখলের পর হাজারো মানুষের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

আইনের দৃষ্টিতে রাষ্টীয় আইন ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২০(এ) ধারা মতে কাছারি বাড়ি, জলমহাল, হাট-বাজার ও নদী শ্রেণির জমি কোন অবস্থাতেই ব্যক্তি মালিকানায় থাকিতে পারে না বলে উল্লেখ আছে।

এদিকে, ঢাকার দূর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় হতে ১৭.০২.২০২০ইং তারিখে ০৪.০১.০০০০.১০৯.২৮.০০১.১৯-৫০৪ নং স্মরক এ কার্যকরী ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে।

আবার, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, খুলনা হতেও ০৫.০৯.২০২১তারিখে ০৫.৪৪.০০০০.০০২.০৭.০০৪.২০-৩৪৮ নং স্মরকে বিধিগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়।

উল্লেখ্য যে, সরকারি এই জমি দখলকারিরা স্বত্বের দাবিতে শার্শা সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দাখিল করে, যার নং-৮৯/৯৯। এখানে বাদিপক্ষ জসিমসহ মোট-৮জন ও বিবাদিপক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, যশোর সহ অন্যান্যরা। মামলার শেষ দিকে ২০/০৭/২০০১ তারিখে একটি রায় হয়, যে রায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আসে। ঐ রায়ে বাদিপক্ষ অসন্তুষ্ট হইয়া ০২/০৭/২০০১ তারিখের রায়ের আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্ট বিভাগে একটি সিভিল রিভিশন মামলা দাখিল করেন যাহা সি,আর-৮১/২০০২ নং।

মামলাটি গত ১৪/১১/২০১৮ তারিখে রায় হয়। উক্ত রায়ে পক্ষ ভুক্ত বিবাদীদের অন্তভূক্তির বিষয় বিবেচনা করিয়া বিজ্ঞ শার্শা সহকারী জজ আদালতের ২০/০৭/২০০১ তারিখের রায়ের আদেশ বহাল রাখে এবং হাইকোর্টের মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। প্রকাশ থাকে যে, বিজ্ঞ শার্শা সহকারী জজ আদালতের ৮৯/৯৯ নং মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

সরকারি আইন কৌশলী জানান, শার্শা মৌজার প্রিন্ট পর্চার রেকর্ড প্রকাশিত হলেও গেজেট বের হতে দেরি হয়। যে কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রেকর্ড সংশোধনের জন্যে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, যশোর আদালতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, যশোর বাদি হয়ে মামলা দাখিল করা হয়।

বিবাদী করা হয় মৃত-ফজলুর রহমানের ৫ সন্তান জসীম, কবির হোসেন, মনির হোসেন, ইমাম হোসেন, শাহিনা খাতুন। নুরুল ইসলামের স্ত্রী জাহানারা খাতুন ও ফজলুর রহমানের দুই স্ত্রী রেহানা খাতুন এবং মমতাজ বেগম মোট আটজন। মামলায় বিচারক এই ৮ জন আসামীদের প্রতি সমন জারি করে আগামী ২০২২ সালের ১১ই জানুয়ারি মামলার শুনানির দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছেন।#

 

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451