সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

ভোলার দৌলতখানে দুই বছরেও সংস্কার বা পুঃনির্মাণ হয়নি ধ্বসে যাওয় ২টি ব্রিজ

এম. শরীফ হোসাইন, বিশেষ প্রতিনিধি ভোলা ঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ২২ বার পঠিত

দুই বছরেও সংস্কার হয়নি ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের ধ্বসে যাওয়া দুটি ব্রিজ। নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিজ দুটি ধ্বসে গেলেও এখনো তা সংস্কার কিংবা যাতায়াতের বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করায় ওই ইউনিয়নে বসবাসকারী প্রায় ৭ হাজার মানুষের চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তী। দ্রুত এর সংস্কার কিংবা নতুন করে ব্রীজ দুটি নির্মাণের জোড় দাবী জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, দ্বীপজেলা ভোলার দৌলতখান উপজেলার মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন মদনপুর। প্রায় সাড়ে ছয় বর্গ কিলোমিটার এই ইউনিয়নটিতে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অবকাঠামোগত তেমন কোন উন্নয়ন না হলেও বছর দুয়েক আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের জন্য ২নং ও ৭নং ওয়ার্ডের খালের উপর নির্মাণ করা হয় দুটি ব্রিজ। যার এক একটির প্রাক্কলিত অর্থ ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ২ শত ৫৬ টাকা।

এরমধ্যে ২নং ওয়ার্ডে নির্মিত ব্রিজের ঠিকাদার দৌলতখান উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম খান ও ৭নং ওয়ার্ডে নির্মিত ব্রিজের ঠিকাদার ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নু ডাক্তারের ভাই মোঃ নাগর মিয়া। তবে নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিজ দুটি ধ্বসে যাওয়ার পাশাপাশি সরে গেছে এর সংযোগ সড়কের দুপাশের মাটি। এতে করে ওই ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের চলাচলে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তী।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, ইউনিয়নটির ৭নং ওয়ার্ডের চরপদ্মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের উপর চরম ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় দারিয়ে আছে একটি ব্রিজ। নিচের অংশে মাটি না থাকায় ব্রিজটি অনেকটা দেবে গিয়ে এর কয়েকটি স্থানে ফাটল ধরে পুরো ব্রিজটি রয়েছে দুমড়ে মূচড়ে অবস্থায়। এর সংযোগ সড়কের দুপাশে মাটি না থাকায় স্থানীয়রা ব্রিজের সাথে কোন ভাবে বাশের সাকো বসিয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে গ্রামের জনসাধারণের পাশাপাশি স্কুলের ছোট ছোট শিশুরা চলাচল করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ব্রিজ দুটি বছর দুয়েক আগে নির্মাণ করা হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই দুটি ব্রিজই ভেঙ্গে গিয়ে মানুষের চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বলেন, যখন ব্রিজটির কাজ শুরু করেছে তখনই আমরা দেখিছি কাজে ব্যবহৃত মালামালের গুনগত মান খুবই খারাপ ছিলো। একেবারেই নিন্মমানের সামগ্রি দিয়েই ব্রিজ দুটি তৈরি করা হয়েছে।

কামাল উদ্দিন বলেন, যেখানে ধরা ছিলো এলসি পাথর তার বিপরীতে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ছোট ছোট গোলাকৃতির নুরী পাথর। এমনকি ৪ তাগা পাথরের সাথে ১ ব্যাগ সিমেন্ট দেয়ার কথা থাকলেও ৮/১০ তাগা পাথরের সাথে ব্যবহার করা হয়েছে ১ ব্যাগ সিমেন্ট। এমনকি রটের পরিমানও দেয়া হয়েছে কম। তাতে করে কাজের গুনগত মান একেবারেই খারাপ হয়েছে। সপ্তাহ না যেতেই ইউনিয়নের জনগণ যার ফলাফল দেখেছে। সামান্য পানির চাপেই দুটি ব্রিজই ধ্বসে পড়েছে। এমনকি ব্রিজের সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে দেয়া হয়েছে লোকালবালু। তাতে করে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে একটু একটু করে বালি সড়ে গিয়ে পুরো সংযোগ সড়ক এখন খালে পরিনত হয়েছে।

সেখানকার মৎস্য ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, ইউনিয়নটি জেলার মুল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এমনকি চরে আসতে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দেয়ার ভয়ে ব্রিজের কাজ পরিদর্শনে কাজ চলা মূহুর্তে অফিসের কোন লোকজনকেই এ অঞ্চলে দেখা যায়নি। তাই রাজ-মিস্ত্রী যেনতেন ভাবেই তাদের মনগড়াই কাজ করে চলে গেছেন।

নিম্নমানের কাজের বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদার মঞ্জুর আলম ও নাগর মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ব্রিজ নির্মাণ কাজে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। কাজের গুনগত মান ঠিন রেখেই আমরা কাজ করেছি। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় পানির তীব্রচাপে ব্রিজের নিজের মাটি সরে গিয়ে ব্রিজ দুটি দেবে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে।

তবে এ কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দৌলতখান উপজেলার (পিআইও) এইচ. এম. আনসার বলেন, আমরা সব সময়ই চেষ্টা করি ঠিকাদারকে দিয়ে শতভাগ কাজ আদায় করে নিতে। এরপরও বিচ্ছিন্ন এলাকায় ব্রিজ দুটি হওয়ায় অফিসের লোকজনের তদারকিতে কিছুটা ত্রুটি থাকতে পারে। তাছাড়া ঘুর্ণিঝড়ের সময় পানির এতোই চাপ ছিলো যে ব্রিজ কেন ওই স্থানে আরো ভারি কিছু থাকলেও ওই সময় তা ভেঙ্গে যেত।

এদিকে ভেঙ্গে যাওয়া একমাত্র ব্রিজ দুটি দীর্ঘ দিনেও সংস্কার না হওয়ায় ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার জনগণের চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তী। স্থানীয়দের উদ্যোগে ব্রিজের সাথে রাস্তার সংযোগ দিতে বাশের সাকো ব্যবহার করা হলেও বিদ্যালয়ের শিশুরা ও গ্রামবাসীর চলাচলে প্রতিদিন ঘটছে কোন কোন দুর্ঘটনা। দ্রুত এই ব্রিজ দুটি সংস্কার কিংবা নতুন করে দুটি ব্রিজ নির্মাণের দাবী করছেন স্থানীয়রা।

এই মধ্যে ভেঙ্গে যাওয়ায় ২নং ওয়ার্ডের মানুষের চলচলের জন্য অন্য স্থানে বিকল্প একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার। তিনি বলেন, অপর ব্রিজটি অর্থাৎ ৭নং ওয়ার্ডের দেখার জন্য টেকনিকেল সাইটের লোকজন সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করবে। এরপর সেখানে সংস্কার কিংবা নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজন হলে সে ব্যপারেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451