Warning: include(lib/ReduxCore/templates/panel/config.php): failed to open stream: No such file or directory in /home4/gnewsbdc/public_html/wp-content/themes/LatestNews/functions.php on line 280

Warning: include(lib/ReduxCore/templates/panel/config.php): failed to open stream: No such file or directory in /home4/gnewsbdc/public_html/wp-content/themes/LatestNews/functions.php on line 280

Warning: include(): Failed opening 'lib/ReduxCore/templates/panel/config.php' for inclusion (include_path='.:/opt/cpanel/ea-php72/root/usr/share/pear') in /home4/gnewsbdc/public_html/wp-content/themes/LatestNews/functions.php on line 280
ঘুষ-তদবির ছাড়াই ১০৩ টাকায় চাকরি পেলেন জয়পুরহাটের ১৯ তরুণ-তরুনী ঘুষ-তদবির ছাড়াই ১০৩ টাকায় চাকরি পেলেন জয়পুরহাটের ১৯ তরুণ-তরুনী – GNEWSBD24.COM
July 1, 2022, 10:36 am

ঘুষ-তদবির ছাড়াই ১০৩ টাকায় চাকরি পেলেন জয়পুরহাটের ১৯ তরুণ-তরুনী

এস এম শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট প্রতিনিধি ঃ
  • Update Time : Thursday, November 25, 2021,

জয়পুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে উঠেছেন এতিম মাহমুদুল হাসান। মাত্র ১০৩ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয়েছে তার। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগ আপ্লুত মাহমুদুল হাসান। কথা বলতে পারছিলেন না। জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার বিনাই এলাকার এ তরুণ বলেন, ‘আমার বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। আমার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। আমাদের নিজস্ব থাকার কোনো জায়গা নেই। আমার স্বপ্ন ছিলো নিজেই জমি কিনে বাড়ি করার, সেই বাড়িতে মা বোন নিয়ে থাকার । আমি বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য হতে পেরেছি। দেশের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখবো।

গতকাল বুধবার রাতে জয়পুরহাট পুলিশ লাইন্সে ফল ঘোষণার পর পুলিশ কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ এসব প্রার্থীরা এভাবেই নিজেদের অনুভূতির কথা জানান। চূড়ান্ত এ ফলাফল ঘোষণা করেন জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা।

মাত্র ১০৩ টাকা খরচ করে স্বপ্ন পূরণ হলো জয়পুরহাটের ১৯ তরুণ তরুণী। ঘুষ-তদবির ছাড়াই পুলিশের চাকরি হয়েছে তাদের। মূল্যায়ন হয়েছে মেধা ও যোগ্যতার। পূরণ হয়েছে হতদরিদ্র বাবা-মা’র স্বপ্ন। খুশিতে কেঁদে ফেললেন অনেকে।

ঘুষ ছাড়া চাকরি আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। আমি অনেক ছোট থাকতে বাবার মৃত্যু হয়। পরে মায়ের আবার বিয়ে হয়। তারপর সৎ বাবার কাছে থেকে বড় হই। নিজের পড়াশোনা চালাতে স্কুলের এক শিক্ষকের কাছ থেকে মাসে এক হাজার পেতাম। জীবিকা নির্বাহী করতে হাঁস-মুরগি পালন করেছি। এভাবে পড়াশোনা চালিয়েছি।

কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর বুধবার রাতে জয়পুরহাট পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে এসব কথা বলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর এক নম্বর আদর্শ গ্রামের মৃত রহিম খালকোর ছেলে সজল খালকো। সজল বলেন, ছোটবেলা থেকেই গল্প শুনেছি টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি হয় না। পুলিশ বদলে যাচ্ছে। আমরা এ বদলে যাওয়ার যুগের অগ্নি সাক্ষী। আমরা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই কাজ করতে চাই।

সজল খালকোর মামা বলেন, ২০০৯ সালে আমার দুলাভাই মারা যান। এরপর অনেক কষ্ট করে এবং দিনমজুরি করে আমার ভাগিনা পড়ালেখা করেছে। এখন আমার ভাগিনা পুলিশ কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। শুধু আবেদনের ফি ছাড়া কোনো প্রকার ঘুষ ছাড়াই চাকরি আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। এজন্য পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

রংমিস্ত্রীর মেয়ে ফাতেমা আক্তার। স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার যোজন যোজন ব্যবধানে আশাহত হয়েছিলেন। হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন পুলিশে চাকরি পেতে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। পরে আবেদন ফরম পূরণ করে লাইনে দাঁড়ালেন। সব বাছাইয়ে মেধা ও যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হলেন। বুধবার রাতে জয়পুরহাট পুলিশ লাইন্সে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দে কেঁদে ফেললেন এ তরুণী। পাশে এসে দাঁড়ালেন বাবা হয়রত আলী ।

হয়রত আলী বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন আজকে। বিনা পয়সায় আমার মেয়ের চাকরি হইছে। টাকা ছাড়া চাকরি হয় এটি আইজই আজ দেখলাম। ফাতেমার বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামে।

শুধু মাহমুদুল হাসান, সজল খালকো, ফাতেমা নয় ও, তাদের মতোই কনস্টেবল পদে জয়পুরহাট জেলায় ১৯ জন শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতায় মাত্র ১০৩ টাকায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন এবং অপেক্ষমান আছেন ৫ জন। এদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিনা পয়সায় চাকরি পেয়ে খুশি তারা।

বুধবার রাতে পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নাম ও রোল নম্বর ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রোকন উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর হিসাব) ফজল-ই-খুদা, জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) তরিকুল ইসলাম, জয়পুরহাটের চার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত বাবা হারানো জয়পুরহাট সদরের বানিয়াপাড়ার রাবেয়া সুলতানা বলেন, আমরা চার ভাইবোন। আমার বাবা প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর পরিবারে খুবই কষ্ট শুরু হয়। তাই আমি নিজেই টিউশনি করাই। সেই টাকায় সংসার এবং পড়ালেখা চালিয়ে যাই। আজ অর্থ ছাড়াই পুলিশে চাকরি হওয়ায় আমি অনেক গর্বিত। আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি ও এসপি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

চূড়ান্তভাবে মনোনীত জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জালালপুর গ্রামের আখতারুজ্জামানের ছেলে মো. সিহাব বলেন, আমার বাবা খুবই গরিব। সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। তাই নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আমি ট্রাক চালিয়েছি। আবার ডিমের হ্যাচারিতে কাজও করেছি।

জয়পুরহাট জেলায় পুলিশের ১৯ জন কনস্টেবল নিয়োগে গেল ১৫ ও ১৬ নভেম্বর ৭৬০ জন চাকরী প্রার্থী প্রাথমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে যাচাই-বাছায়ের পর শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করে ১৬৭ জন চাকরি প্রার্থী। গেল ১৭ নভেম্বর যাদের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৪৫ জন। আর ২৪ নভেম্বর বুধবার চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাশ করে ২৪ জন। যাদের মধ্যে ওইদিনই নিয়োগ দেওয়া হয় ১৯ জনকে। আর অপেক্ষমান আছেন ৫জন।

ফলাফল ঘোষণা শেষে পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ নজিরবিহীন ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইজিপির শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে এ নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য কড়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আমরা ১৯ জনকে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দিয়েছি। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, আনসার, এতিম, সাধারণ কোটার ছেলেমেয়ে এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৯ জন রয়েছেন। প্রায় সবাই অসচ্ছল পরিবারের সন্তান।

তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে থেকে আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে দালাল ও প্রতারক চক্রকে দমন করার চেষ্টা করেছি এবং সক্ষম হয়েছি।

চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের মধ্যে এতিম, রং মিস্ত্রীর মেয়ে, নাপিতের ছেলে, চাতালের নাইট গার্ডের ছেলেও রয়েছেন। কেউ কেউ নিজেই টিউশনি করে লেখাপড়া করেছেন। আবার কেউ ঢাকায় রিকশা চালিয়ে, ট্রাক চালিয়ে বা ডিমের হ্যাচারিতে কাজ করে নিজের পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। আজ তারা পুলিশ কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

এবারের পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি প্রাপ্তদের বেশিরভাগই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের কেউ দিনমজুরের সন্তান,কেউ ট্রাক চালকের আবার কেউবা এতিম। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে কোন মতে পড়াশুনার খরচ চালিয়ে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছে। ফলে চাকরি হওয়ায় অনেকের চোখেই ছিল আনন্দাশ্রু।

Surfe.be - Banner advertising service




Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451