মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন

Surfe.be - Banner advertising service

শোকের মাস আগস্ট: ৫ম দিন, জাতীয় নেতা থেকে জাতির পিতা

ড. আসাদুজ্জামান খান :
  • Update Time : শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাতারাতি নেতা হননি। কর্মী থেকে নেতা, নেতা থেকে জাতীয় নেতা। আর জাতীয় নেতা থেকে জাতির পিতা। বছরের পর বছর যৌবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলো তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। তাই কোটি বাঙালির শক্তি- তার শক্তি। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, মুক্তির জন্য হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেছেন।

বলেছেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে যাবার সময় বলব আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা।’ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাকে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে নিবৃত্ত করতে এমন কোন পন্থা নেই যা প্রয়োগ করেনি। বঙ্গবন্ধুকে বহুভাবে, বিভিন্ন প্রকারে প্রলোভন দেখানো হয়েছে, এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে বাঙালির স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে যদি পশ্চিমাদের কথা মাফিক কাজ করে। কিন্তু শত প্রলোভনেও তিনি বাঙালির স্বার্থের বাইরে কোনদিন যাননি।

বঙ্গবন্ধু যখন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন তখন তিনি হেঁটে হেঁটে মানুষের কাছে গিয়েছেন, তাদেরকে সংগঠিত করেছেন। যখন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হলো তখন তিনি ওই দলের দ্বিতীয় সারির নেতা। সদ্য প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তানে এই সময় চরম খাদ্যাভাব দেখা দেয়। মানুষ অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছিল। অনেকে ওই সময় মৃত্যুবরণ করে। বঙ্গবন্ধু সারাক্ষণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন। রাজপথে ভুখা মিছিল করেছেন।

নিরন্ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছেন। এই সময় ভুখা মিছিল করার জন্য তাকে গ্রেফতার করেছে শাসকগোষ্ঠী। এক নাগাড়ে দুই বছর কারাগারে কাটিয়েছেন তিনি এসময়। ইচ্ছা করলে শাসকগোষ্ঠীর দেয়া শর্ত মেনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন কিন্তু জীবনে তিনি কোনো অশুভ শক্তির সঙ্গে আপোষ করে নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দের কথা চিন্তা করেননি। বাংলার শোষিত, নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করা তার স্বভাবে ছিল না।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যতই তার প্রতি কঠোর হয়েছে তিনিও তত প্রতিবাদ মুখর হয়েছেন। নাওয়া নেই, খাওয়া নেই, পকেটে পয়সা নেই তবু একটি সাইকেল নিয়ে সারাদিন ঢাকা শহর চষে বেড়াতেন। কোনো কর্মসূচি নিলে তিনি প্রাণপণে সেই কর্মসূচি সফল করার জন্য উঠেপড়ে লাগতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছিলেন শুধু চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পক্ষ নেয়ায়।

তার জন্য তাকে জেলে যেতে হয়েছে। জেল থেকে বেরুনোর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে শর্ত দিয়েছিল- আর রাজনীতি করবে না- এই রকম একটি মুচলেকা দিলে তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। লেখাপড়া ছেড়েছেন কিন্তু রাজনীতি ত্রাগ করেননি। তিনি বুঝেছিলেন বাঙালির অধিকার আদায় করতে হলে তা রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু প্রমাণ করেছেন- সকল বাধা পেরিয়ে কিভাবে কাক্সিক্ষত বিজয় অর্জন করতে হয়। কেননা বাঙালি জাতির অস্তিত্ব, তাদের আশা আকাক্সক্ষা তার জীবনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। তাইতো পল্লী কবি জসীম উদদীন লিখেছিলেন-
‘ মুজিবর রহমান।
ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি-উগারী বান
বঙ্গদেশের এপ্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেয়ে,
জ্বালায় জ্বলিছে মহা- কালানল।’
লেখক ঃ ড. আসাদুজ্জামান খান

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone