শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

শোকের মাস আগস্ট ৬ দিন : জাতির মুক্তিদাতা বঙ্গবন্ধু

ড. আসাদুজ্জামান খান ঃ
  • Update Time : রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০২২

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনকে এবং ব্যক্তি শেখ মুজিবকে সমগ্র দেশবাসীর সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়েই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনে। যখন কোনো কিছুতেই বঙ্গবন্ধুকে দমন করা গেল না তখন আইয়ুব সরকার ভেবেছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দিতে পারলেই বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা কমানো যাবে।

১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করা হয়। ১৯ জুন কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবের মামলাটি শুরু হয়। এর আগে বঙ্গবন্ধুকে আটক করে নির্জন কারাগারে রাখা হয়। সেনানিবাসের রুদ্ধ কক্ষে দীর্ঘ ৫ মাস আটক রাখার পর মামলাটির কার্যক্রম শুরু হলে- বাংলার আপামর জনসাধারণ ক্ষীপ্ত হয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। এই সময় বীর বাঙালি শ্লোগান তুলল- জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব। তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ।

বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর। জয় বাংলা ইত্যাদি। বঙ্গবন্ধুর জন্য তার জনগণের এই আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চরম বিকাশ ঘটতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠিত হলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। বাঙালি তাদের প্রিয় নেতাকে জেল থেকে মুক্ত করে আনলো। আইয়ুব খান বাধ্য হলেন তাকে মুক্তি দিতে। বাংলার মানুষকে যেমন বঙ্গবন্ধু ভালোবাসতেন তেমনি বাংলার মানুষও তার প্রতি অকৃত্রিম প্রতিদান দিলেন। বাঙালির ভালোবাসার দান বঙ্গবন্ধু জীবন দিয়ে শোধ করে গেছেন।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মামলা দিয়েও যখন কিছুই করতে পারল না তখন তারা গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করল। বঙ্গবন্ধুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ দিতে চাইল কিন্তু বঙ্গবন্ধু এবার স্বায়ত্বশাসনের দাবি করে বসলেন। পাকিস্তানিরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক ডেকেছিলেন তা আর সফল হলো না। রাতারাতি বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা বেড়ে গেল।

তিনি তখন শুধু আওয়ামী লীগের নেতা নন। পূর্ব পাকিস্তানের সব জনগণের নেতায় পরিণত হলেন। বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা দেখে আইয়ুব খান ভীত হয়ে সেনাবাহিনী প্রধান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেন।

বঙ্গবন্ধু এই সময় শুধু দেশে নয়, বিদেশেও বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য প্রচারণা চালান। এমনকি পশ্চিম পাকিস্তানের গণতন্ত্রমনা জনগণ বঙ্গবন্ধুর দাবির প্রতি সহমর্মিতা জানাতে থাকে। ১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসে বাংলার দক্ষিণ উপকূল জুড়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ৫ লাখ লোক মারা যায়। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহায়তার হাত নিয়ে এগিয়ে এলেও পশ্চিম পাকিস্তানি নেতৃবৃন্দ তেমন কোন সহানুভূতি দেখালো না।

এ ঘটনায় বাংলার মানুষ তাদের নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারে। বঙ্গবন্ধুর সবল নেতৃত্বের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শাসকগোষ্ঠী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। এই সময় বাঙালির শ্লোগান ছিল- আমার নেতা, তোমার নেতা- শেখ মুজিব, শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধু তখন বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তার অসীম মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে। তিনি তখন হয়ে উঠলেন একমাত্র ত্রাতা। গোটা বাংলায় মুক্তির একমাত্র উপলক্ষ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি সিকান্দার ফয়েজের একটি কবিতার কিছু অংশ –
‘তুমি ছিলে বলে একদিন
জনসমুদ্রে উত্তাল ঝড় উঠেছিল, তীব্র ভয়ংকর।
এই ভূমি, আমাদের মাতৃভূমি,এই কণ্ঠস্বর
সবুজ বনানী মেঠোপথ এমনকি
দুর্বাঘাসগুলো জেগে উঠেছিল বাঁচার আশায়।
লেখক ঃ ড. আসাদুজ্জামান খান ॥

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone