রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

পাঁচ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৯৯টি খুনের ঘটনায় মামলা ১হাজার ৯০৮

মোঃআমান উল্লাহ, কক্সবাজার
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে থাকছে এসব রোহিঙ্গা। মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়ার পর তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। তবে রোহিঙ্গাদের এভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আশঙ্কা। রোহিঙ্গাদের নিয়ে এখন বিপাকে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারাই।

সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে দুর্গম ক্যাম্পগুলোতে সংঘবদ্ধ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ‘টার্গেট কিলিংয়ে’ নেমেছে। শিবিরে একের পর এক মাঝি (রোহিঙ্গা নেতা) খুন হচ্ছেন। গত মঙ্গলবার (১০ আগস্ট)  মধ্যরাতেও দুই মাঝিকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। এ নিয়ে গত পাঁচ বছরে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন অন্তত ১৫ জন মাঝি। গুমের শিকার হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। এর মধ্যে গত দুই মাসেই খুন হয়েছেন আটজন রোহিঙ্গা।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রোহিঙ্গারা খুনোখুনি, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মানব পাচার, অগ্নিসংযোগসহ ১৪ ধরনের অপরাধে জড়িত। এসব অপরাধের দায়ে ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত থানায় ১ হাজার ৯০৮টি মামলা হয়েছে। আর এ সময়ের মধ্যে খুনের ঘটনা ঘটেছে ৯৯টি।

জানা গেছে, টার্গেট করে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য সাধারণ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি—আরসাকে (আল-ইয়াকিন নামেও পরিচিত) দায়ী করে আসছে। শিবিরের বেশির ভাগ রোহিঙ্গাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক। কিন্তু আরসার সদস্যরা মিয়ানমারে ফিরতে চান না। তাই স্বদেশে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন বা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের টার্গেট করেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শিবিরগুলোতে তাদের নেতৃত্ব যেকোনোভাবে ধরে রাখতে চায়।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা শিবিরের দুর্গম পাহাড়ের ঢালে। নিহতরা হলেন ক্যাম্প-১৫ সি-১ ব্লকের আবদুর রহিমের ছেলে প্রধান মাঝি আবু তালেব (৪০) এবং সি/৯-এর ইমাম হোসেনের ছেলে সাব ব্লক মাঝি সৈয়দ হোসেন (৩৫)।

শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. কামরান হোসেন জানান, ৮-১০ জন দুষ্কৃতকারী ক্যাম্প-১৫-এর সি-৯ ব্লকের কাছে দুর্গম পাহাড়ের ঢালে সৈয়দ হোসেন ও আবু তালেবকে গুলি করে পালিয়ে যায়। দুজনকে উদ্ধার করে জামতলী এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান সৈয়দ হোসেন। আবু তালেবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুতুপালং হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি জানান, ঘটনার পর শিবিরে ব্লক রেইড এবং অভিযান চলছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone