শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

মাছের বাল্যবিয়ে দেয়ার অভিযোগ 

মোঃ সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

কুড়িগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে বরশি দিয়ে মাছ শিকার 

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী “জিয়া পুকুর” পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “”টুপামারী বিল””। আশির দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান এ বিলের গোড়া পত্তন করেছিলেন । এ বিলের চারিদিকে বিস্তর পাড়ে লাগানো হয়েছিল বিভিন্ন জাতের গাছ। ফলশ্রুতিতে এটি হয়ে উঠেছে একটি বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু । বিভিন্ন এলাকা হতে বিনোদনের স্বাদ নিতে কিংবা অবসর সময় কাটানোর জন্য আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা যুবক-যুবতীরা এখানে ঘুরতে আসে প্রতিনিয়ত। শীত মৌসুমে অনেক দূর দূরান্ত থেকে পিকনিক খেতেও  আসে লোকজন । 

প্রায় ২৭ একর জায়গাজুড়ে এখানে খনন করা হয়েছিল একটি বিল । এ বিলে বরশি দিয়ে মাছ ধরা হবে মর্মে সৌখিন মৎস্য শিকারীদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য রীতিমতো আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক যুগের আলোতে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়।

উলিপুর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আব্দুল কাদের গত ৩ আগস্ট এ বিজ্ঞাপনটি প্রচার করেন। বিশাল আকৃতির এ বিলে 

বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য ৮ হাজার টাকা মূল্যের টিকিট হাঁকেন  তিনি । পুরনো এ বিলে “বড় বড় মাছ আছে” এ বিশ্বাসে সৌখিন মৎস্য শিকারীরা মোট ৭৭টি টিকিট কেটে বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যা রাত থেকে শুরু করে আজ ১২ আগস্ট শুক্রবার দিনভর মাছ শিকার করে সৌখিন মৎস্য শিকারিরা। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, দিন ও রাত মিলে ২৪ ঘন্টায় ৭৭ টি ঘাটের মধ্যে একটি ঘাটে সর্বোচ্চ মৎস্য শিকার করতে পেরেছেন ১ শত ২ কেজি। মাছের সাইজ সর্বোচ্চ ৭০০ গ্রাম ।

৫০ গ্রাম থেকে শুরু করে একশত গ্রাম, দেড়শত গ্রাম, দুইশত, তিনশত ও চারশত গ্রামের মাছগুলো বড়শি দিয়ে বেশি পরিমানে ধরতে পেরেছেন শিকারিরা।

রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এর মৎস্য শিকারীরা অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ জেনেশুনে মাছের “”বাল্যবিয়ে”” দিয়েছেন । চলতি মৌসুমের মাছ ছাড়া এ বিলে তেমন কোন মাছ নেই জেনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৎস্য শিকারীদের সাথে প্রতারণা করেছেন। 

অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের ৭৭ টি ঘাটের টিকিট বিক্রি করে মোট আয় করেছে ৬ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। এছাড়াও প্রতি ঘাটে মাছ শিকারীদের ব্যয় গড়ে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা।  এ ঘটনায় মৎস্য শিকারিরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অনেকেই  সময়ের অনেক আগেই ঘাট ছেড়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন । শিকার হওয়া সব থেকে বড় সাইজের মাছ গুলোর গড় ওজন ছিল ৫০০-৭০০ গ্রাম।

বড় মাছ বিলে না থাকায়, কর্তৃপক্ষকে দেয়া মাছ শিকারীদের গালিই ছিলো আজকের উপস্থিত দর্শকদের বিনোদনের খোরাক।

 সব ঘাটেই মাছ যে পাওয়া যায়নি তা নয়, মাছ পেয়েছেন মৎস্য শিকারিরা একটি ঘাটে সর্বনিম্নে ২৫/৩০ কেজি। তবে অধিকাংশই ছোট ছোট মাছ। যেটা সৌখিন মাছ শিকারীদের কাছে ছিল “মাছের বাল্যবিবাহ দেয়ার ঘটনা। 

 রংপুর থেকে আসা সৌখিন মৎস্য শিকারী আব্দুল বাতেন জানান, মাছ কম-বেশি পাওয়া যাবে এটাই  স্বাভাবিক কিন্তু টিকিট ছাড়ার মতো  মানসম্মত আকারের মাছ আছে কিনা সেটি কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করা উচিত ছিল।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone