শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

আইনের গেড়াকলে আটকে আছে ভারতে নির্বাসিত সালাউদ্দিনের দেশে ফেরা

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার প্রতিনিধি ঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন আটক থাকার পর দেশটির শিলংয়ের আদালত নির্দোষ খালাস দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আবার উচ্চ আদালতে আপিল করে তাকে পুনরায় আটক রাখে। তবে করোনাকালীন সময়সহ বিভিন্ন কারণে আপিল শুনানি বিলম্বিত হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না ।

যদিও সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিবার বলছে পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক। এ কারণেই মামলার শুনানিতে বিলম্ব হচ্ছে। পরিবারের দাবি ভারত সরকার সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে আসতে দিচ্ছে না। রাষ্ট্রপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে আপিলের শুনানি করছে না।

২০১৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির উত্তাল সময়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার একটি বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেয়ার অভিযোগ ওঠে।

তখন থেকে ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর একই বছরের ১১ মে তাকে সর্বপ্রথম মানসিক বিপর্যয় অবস্থায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের গলফ লিঙ্ক মাঠে পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাকে প্রথমে শিলং মানসিক হাসপাতালে পরে শিলং সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মেঘালয় রাজ্যের পুলিশ ২০১৫ সালের ৩ জুন ভারতে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগ এনে বৈদেশিক নাগরিক আইনের ১৪ ধারায় সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরে শিলং জেলে পাঠায়। শিলং শহর ছেড়ে না যাওয়ার শর্তে আদালত পরে সালাউদ্দিন আহমেদকে জামিন দেন। তখন থেকে নির্বাসিত অবস্থায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে খাসিয়া-খ্রিষ্টান অধ্যুষিত এলাকা শিলং শহরের বিষুপুরে সানরাইজ গেস্ট হাউজ নামক একটি দোতলা ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছে।

মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর সালাহউদ্দিন আহমেদকে বেকসুর খালাস দেন শিলংয়ের আদালত। বিচারক তাকে দ্রুত সব রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার জন্যে নির্দেশ দেন। আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই গত ২৭ এপ্রিল সালাহউদ্দিন আহমেদ শিলং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একটি নোটিশ পান।

নোটিশে নিম্ন আদালত থেকে বেকসুর খালাস পাওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে উল্লেখ করে আপিল মামলায় জেলা ও দায়রা জজ তাকে আদালতে হাজির হতে বলেন। সেই থেকে তিনি শিলং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল মামলায় যথারীতি হাজিরা দিয়ে আসছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘনিষ্টজনের কাছ থেকে জানা যায়, তার শরীর ভালো না। বিভিন্ন রোগ ভর করছে। চিকিৎসাও চলছে।

আপিল কোর্টে ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। কবে শুনানি হবে অথবা কবে মামলা শেষ হবে, কবে দেশে ফিরতে পারবে তা কী করে বলব। এগুলো রাজনৈতিক বিষয় । বিস্তারিত বলতে চাই না। তবে টেলিফোনে তার অনুসারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা হয়। দেশে ফেরার ইচ্ছে তার। নির্জনে সারা দিন পড়াশুনা করে সময় কাটান ।

কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকার জননন্দিত জননেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশে ফেরার জন্য তার ব্যাকুলতা ও মন কাঁদে সব সময়। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদের দুই ছেলে দুই মেয়ে। সন্তানরা দেশের বাইরে থাকেন। বড় ছেলে দেশের বাইরে চাকরি করেন।

তারা মাঝে মধ্যে বাবার সাথে দেখা করেন। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আহমেদ। চার দলীয় সরকারের আমলে তাকে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে তাকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয় ।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone