রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

ভেঙ্গে পড়ল বিদ্যালয়ের বারান্দার ছাদ

সাইদুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা ঃ
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

মাগুরার শালিখা উপজেলার রায়জাদাপুর আদাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বারান্দার ছাদ ধসে পড়েছে । গত  মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকস্মিক ভাবে বিদ্যালয়ের বারান্দার ছাদ ধসে পড়ে। বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে পড়ার খবর সংগ্রহ করতে গেলে বেরিয়ে আসে বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণের নয় ছয়ের গল্প।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপতী রায় জানান, ২০১৩ সালে বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে বিল্ডিংয়ের ছাদ ধসে পড়ে। আমাদের বিদ্যালয়ে ভবন না থাকার কারণে আমরা সেখানে ক্লাস করাই। প্রতিনিয়ত আমাদের ছেলে মেয়েদের ঝুঁকি নিয়ে পড়াতে হয়। আমাদের এই বিদ্যালয়ের নতুন বিল্ডিংয়ের জন্য দরখস্ত দিয়েছিলাম এমপির ডিও লেটার সহকারে। কাগজ কলমে আমাদের বিল্ডিংটি এসেছে। কয়েকবার মাটিও পরীক্ষা করে নিয়ে গেছে।

অথচ আজও আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি করা হয় নি। কাগজ কলমে যেহেতু এসেছে তাহলে ভবনটি গেল কোথায়? জরাজীর্ণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকায়(জিপিএস) এ ১৪ টি বিদ্যালয়ের নাম আছে। প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে ৫ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন থাকার কথা। যার ইএমআইএস নাম্বার ৯৯২০৫০৩৯০০৩। সব স্কুলগুলোর নতুন ভবন নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু রায়জাদাপুর আদাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি হয় নি।

উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুদীপ্ত বিশ্বাস জানান, ২০১৬ সালে একটি নতুন বিল্ডিং আসে তিনবার মাটি পরীক্ষা করা হয়। আবার ২০১৮ সালে একটি নতুন বিল্ডিং আসে তারপরও হয়নি নতুন ভবন। আমরা টিও, এটিও ডিসি মহাদয়ের কাছে সুপারিশ করেছি তবুও কোনো ফলাফল পায়নি।

বিদ্যালয়ের এই একশত ছেলে-মেয়েকে কোন জায়গায় বসিয়ে পড়াবো? পুরাতন বিল্ডিংটি ২০১৩ সালে অকার্যকর ঘোষণা করা হলেও বিল্ডিং না থাকার কারণে ঝুঁকি নিয়ে পুরাতন ভবনের মধ্যে পড়াচ্ছি। হঠাৎ করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিল্ডিংটি ধসে পড়ে। যখন দুইবার স্কুলের নতুন ভবনের চিঠি আসে তখন আমরা আনন্দিত হয় কিন্তু পরে দেখি কাগজ কলমে এসেছে কিন্তু বাস্তবে আসেনি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ে ছেলে- মেয়েদের ঝুঁকির মধ্য দিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। দুইটা শেড এ কিভাবে একশত ছেলে মেয়ে পড়বে। নতুন ভবনের মাটি পরীক্ষা করে নিয়ে গেছে তারপর কি কারণে ভবনটি হচ্ছে না তা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আকবর হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান,রায়জাদাপুর আদাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ধসের বিষয়টি আমি জানি। পুরাতন ভবনটি ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কোনো ক্লাস হয় না। ক্লাস নেওয়ার জন্য সেখানে দুইটা শেড করে দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে নতুন ভবন স্থাপনের নোটিশ এসেছে কিন্তু কেন এখনও ভবনটি নির্মাণ হয়নি তা আমি বলতে পারবো না। ভবনটির মাটি পরীক্ষা করার জন্য ইঞ্জিনিয়ারকে বলা হয়েছিল তিনি মাটিও পরীক্ষা করেছেন কিন্তু তারপর কি হয়েছে সে বিষয়ে আমি জানি না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেছেন ভবন ধসের আগে সেখানে আমরা ক্লাস নিয়েছি কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন বিদ্যালয়ের বিল্ডিংটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর কোনো ক্লাস হয়নি।

এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী শোয়েব মোহম্মদ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের মাটি পরীক্ষা করে আমরা টেস্টটা ঢাকায় পাঠিয়েছি। কিন্তু ঢাকা থেকে আমাদের কোনো নোটিশ আসিনি। যার ফলে ভবনটি এখনও নির্মাণ হয়নি।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone