মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

পাথরঘাটায় ৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ স্থবির,

জি-নিউজ বিডি২৪ ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা পৌরসভায় বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন আকন  মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নির্বাচনে দেয়া অঙ্গীকার ক্রমান্বয়ে ভঙ্গ করে আসছেন। মেয়র ও পৌরসভায় কর্মরত স্টাফদের নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, সময়মত অফিসে না আসা, সুইপার ও ঝাড়ুদার দায়সারা কাজ, ড্রেনাজ অপরিস্কার, পানির অব্যবস্থাপনা ও ময়লা, মাত্রাতিরিক্ত করারোপ, মেয়র নিজেই নিয়ম বহির্ভূত মওকুফ ও আরোপ, টেন্ডারের টাকায় টেন্ডারস্থলের কোন কাজ না করা, স্টিমেট কাজের সাইডে লটকানো হয়না, রাস্তাসহ ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে দেয়া ৭ কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ শুরু হয়নি আজো, শোনা যায় কাজগুলো মেয়র নামে বেনামে ক্রয় করেছেন ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

এছাড়া পৌরসভার কাউন্সিলরদের সঙ্গে তার কোনো সমন্বয় নেই। তার মনগড়া নিয়মে পৌরসভা পরিচালিত হচ্ছে। পৌরসভায় তিনি কয়েকবার নির্বাচিত হওয়ার ফলে মেয়রের আত্মীয়স্বজনই বেশি কর্মরত। তাদের সনদও যাচাই করলে পাওয়া যাবে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  ফলে পৌরসভার দাপ্তরিক কাজসহ উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি অর্থ লুটপাট, অপচয় এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পৌরসভার সাধারণ নাগরিক তো দূরের কথা কাউন্সিলররাও তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে পারেন না, বললেও কোন প্রকার আমলে নেয়া হয়না। বিগত দিনে বর্তমানে ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্তসহ টিভি ও পত্র পত্রিকায় সংবাদ হলেও কোন তদন্ত হয়নি।  কাউন্সিলর হওয়ার পরে তিনিও চুপচাপ।

পৌর স্থায়ী কমিটির  মিটিং বা পৌরসভা মাসিক মিটিং নেই ‘কাউন্সিলরদের ডাকা হয় না, শুধু বিলে ও রেজুলেশনে স্বাক্ষর নেন মেয়র ও সচিব’

পাথরঘাটা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ রফিকুল ইসলাম কাকন বলেন, তার এলাকার রাস্তা ও ড্রেন নাই বলেলই চলে। ছোট ছোট মেরামত কাজও করা যায় না। সাবেক কাউন্সিলর বাবু নিরোধ চন্দ্র রায়ের বাড়ির রাস্তা পুকুরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেকগুলো পরিবার ঝুকি নিয়ে চলাফেরা করছে। বিবেকানন্দ স্যারের আশ্রমের সামনের রাস্তা ব্যবহার অনুপযোগী,  তিলক মন্দিরের সামনে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা  সম্ভব নয়। সাব রেজিস্ট্রার অফিসের  পিছনের ড্রেন বা রাস্তা কিছুই নেই। তাসলিমা মেমোরিয়াল একাডেমির ছাত্র ছাত্রীরা জীবনের ঝুকি নিয়ে স্কুলে আসছে। পুকুরের দুইপাড় ক্রমান্বয়ে ভাঙ্গছে, রাস্তা নেই বললেই চলে।

পাথরঘাটা  কলেজের রাস্তা রতন সেন নামে জনৈক ঠিকাদার পেয়েছিলেন তিনি কাজও শুরু করেছিলেন  কিন্ত হঠাৎ বন্ধ, সেই রাস্তা পুনরায় টেন্ডার হয়েছে কিন্ত কাজ আজো শুরু হয়নি। বাইপাস রাস্তা করা হয়নি আজো। মাছ বাজারের অবস্থা বেহাল। অনেক কাজ না করেই সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ড্রেন যা আছে তার কোন ঢাকনা নেই।  সরকারি ক্রয় নীতিমালা-২০০৮ লঙ্ঘন করে কোনো কমিটি না করে সব কেনাকাটা করেন ট্রেড লাইসেন্সবিহীন, দোকান নাই, লাইসেন্সধারী ব্যক্তিও নাই এমন লোকের কাছ থেকে। ঠিকাদারকে কাজের অগ্রিম প্রদানেও মানা হচ্ছে না নীতিমালা।

২নং কাউন্সিলর রোকনুজ্জামান রুকু বলেন, পৌরসভাকে মেয়র তার ব্যক্তিগত সম্পদ হিসাবে ব্যবহার করছেন। নিয়মনীতির বালাই নেই। যা ইচ্ছে তাই করছেন। কোনো কাজের আলোচনা পরামর্শ বা সিদ্ধান্ত নেই। কোনো মিটিং হলে রেজুলেশন সরবরাহ করেন না। নিজের ইচ্ছামতো লিখে নেন। এভাবে চলতে পারে না।

জানা যায় সরকারী কোন চিঠি, বরাদ্দ, আদেশ নির্দেশ কাউন্সিলরদের দেখান না বা দেখানো যাবে না।

মুলতঃ কাউন্সিলর কেন? তাদের কাজ কি? মেয়র যদি সব করেন, তাহলে কাউন্সিলরদের সরকারি ভাতা প্রদান সরকারি তহবিলের অপচয়।  তাই জেলা পরিষদের ন্যায় ঢেলে সাজানো দরকার পৌরসভাগুলো।

অন্য কাউন্সিলররা বলেন, পৌরসভার মেয়র নিয়ম ও বিধি বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কাজের নামে যে অর্থ প্রয়োজন, তার চেয়ে অধিক পরিমাণ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন। ক্রয় কমিটি নেই, নিজেই বা তার একান্ত লোকদের দিয়ে ক্রয় করিয়ে থাকেন।

মশক নিধনের নামে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে ভুয়া ভাউচার দিয়ে পৌরসভার টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। করোনা মোকাবিলার নামে সুরক্ষা উপকরণ ক্রয় ও বিতরণেও রয়েছে নানা অনিয়ম। ২য় ও ৩য় কিস্তির টাকা ইতোমধ্যেই চলে এসেছে অথচ কোন প্রকার মশক বা করোনা আইটেম ক্রয় করা হয়নি। কোন অনুষ্ঠানে কত খরচ বা আয় বা ব্যয়ের হিসাব কাউন্সিলরদের দেখানো হয়না। এখানেও লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার নিজস্ব গাড়ি মেরামত, ভবন মেরামতের নামে খেয়ালখুশিমতো কাজ হচ্ছে। স্ট্রিক লাইটের গোপন বিজ্ঞপ্তি, তার থেকে টাকা বাটোয়ারা শেষ করেছে টেন্ডার কমিটি।

অবকাঠামো অনুমোদনে নিয়মনীতির বালাই নেই পৌরসভায়। মেয়র ইচ্ছে মত অনুমোদন দিয়ে থাকেন, স্থায়ী কমিটির কোন সভা বা প্রকৌশলী অনুমোদনের পূর্বেই ভবন করা শেষ। যার কারনে অপরিকল্পিত ভবন নিয়েই সজ্জিত হচ্ছে পৌরসভা। নির্মানে কোন আইন মানা হচ্ছে না, প্লান নেই কাজ চলছে, আবার প্লান আছে কিন্ত কাজ করছে অনেক বেশি। অনুমোদন যা তার তিনগুন ভবন করে বসে আছে।

পানির লাইন অনুমোদনেও সংশ্লিষ্ট শাখার কোন দায়িত্ব নেই যা মেয়র সরাসরি লিখে দেন। পানি দুর্গন্ধ  ও অনিয়মিত।

ব্রিজ দিয়ে চলতে হয় পৌরবাসীর।  অন্যদিকে গণ শৌচাগার না থাকায় মসজিদ ঠেকিয়ে প্রস্রাব করেন জনগন।

গাড়ির তেল কোথায় খরচ হয়, গাড়ী, রোলারের লগ বই আছে কিনা বা ইন-আউট রেজিস্ট্রার আছে কিনা?  মিষ্টির বিল কত টাকা দেয়া হয়েছে গোপাল সাহার দোকানে। ওভার লেপিং টেন্ডার, ক্ষুদ্র মেরামাত, নগর উন্নয়ন বরাদ্দের কাজ, নিয়মিত বরাদ্দের কাজের কোন তদারকি বা গতিশীলতা নেই বললেই চলে।

পাথরঘাটায় মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও ব্যাটারিটালিত অটো রিক্সার বৈধতা দিচ্ছে পৌরসভা যার কারনে যানযটের কবলে পৌরবাসী। প্রতিদিন কোন না কোন ভাবেই দুর্ঘটনা ঘটছে।

ট্যাক্স সীমাহীন।  উন্নয়ন গতানুগতিক তাহলে এত ট্যাক্স কেন? কার পকেট ভারী করার প্রচেষ্টা।  ট্যাক্স ও পানির বিল যাচাই, ২০২০-২০২১, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে বরাদ্দ যাচাই করলে দুর্নীতি থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone