শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

মেহেরপুরে নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে তসলিমার আকুতি

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে কাছে পেতে চার বছর ধরে আদালতের দ্বারে ঘুরছেন তসলিমা খাতুন। সন্তানকে ফিরে না পাওয়ায় তসলিমাকে স্বামী গৃহ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। স্বামী সন্তান দুটোই হারিয়ে চোখের পানিতে বুক ভাসাচ্ছেন তসলিমা। সে মেহেরপুর সদর উপজেলার দরবেশপুর শিমুলতলা গ্রামের মৃত এমএ মজিদের মেয়ে।
জানাগেছে, ২০১৭ সালে একই এলাকার ফুয়াদ আবু নাসের নামের এক যুবকের সাথে প্রেম করে বিয়ে হয় তসলিমার। বিয়ের কিছুদিন পরেই গর্ভবতী হন তসলিমা। ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ২২ তারিখের গভীর রাতেই প্রসব বেদনা শুর হয় তসলিমার। ওই দিন তার পরিবার ভোর রাতে প্রসব বেদনায় কাতর তসলিমাকে চুয়াডাঙ্গার ইউনাইটেড নামক একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তসলিমাকে জানায়, তাঁর সন্তানটি মৃত ছিল। এরপর টানা দুই দিন মারাতœক অসুস্থ্য অজ্ঞান হয়েছিল তসলিমা। জ্ঞান ফেরার পর তসলিমা জানতে পারেন ক্লিনিকমালিক ও স্বজনেরা মিলে তাঁর সন্তানটি সুজন নামের এক ব্যাক্তির মাধ্যমে এক পুলিশ দম্পতির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। সেই থেকেই সন্তানকে একনজর দেখতে বিভিন্ন মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তসলিমা। অবশেষে আদালতের শরনাপন্ন হয়েছেন তিনি।
সন্তান ফিরে পেতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মেহেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চুয়াডাঙ্গা ইউনাইটেড ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন তসলিমা। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে মামলার তদন্তের নির্দেশ দিলে তারা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য সুজন ইসলাম এবং তাঁর আত্মীয় সরোয়ার হোসেন ওরফে পলাশ ও হীরা খাতুন সন্তানটি দত্তকপত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। আইনি জটিলতায় দীর্ঘ চার বছর নিজের সন্তানকে আজও একনজর দেখতে পারেননি তসলিমা।
তসলিমা খাতুন বলেন, ‘আমার গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তান কেমন হয়েছে তার চেহারা দেখার জন্য আমি চার বছর ধরে চেষ্টা করছি। আইনি জটিলতায় এখনো সম্ভব হয়নি। এ দেশে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করি। আমার ফুফাতো ভাই সদর উপজেলার দরবেশপুর শিমুলতলা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালিন (ইউপি) সদস্য আব্দুস সালাম ও আমার পরিবার আমার অজান্তে এবং মিথ্যা বলে সুজন নামের এক ব্যাক্তির মাধ্যমে আমার সন্তানটি বিক্রি করে দেয়।
ফুয়াদ আবু নাসের বলেন, ২০১৭ সালে তসলিমার সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের সপ্তাহ খানেক যেতে না যেতেই আমাদের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তার পর থেকে আমি তসলিমার সাথে আর যোগাযোগ রাখিনা। সন্তানের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
সুজনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন এবং সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর কল কেটে দিয়ে ফোনটি বন্ধ রাখেন। অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম জানান, তসলিমার সন্তানের জন্মের সময় আমি তো ক্লিনিকেই ছিলাম না। তসলিমার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
ভুক্তভোগী তসলিমার মা বাহারন নেছা বলেন, একজন পুলিশ দম্পতি আমাদের সন্তানকে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কিনে নিয়েছে। শুধু পুলিশ সদস্য বলেই মামলা করেও সন্তান ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। বাচ্চাটি ফেরত পেতে সব রকমের চেষ্টা করেও কিছুই হচ্ছে না।
চুয়াডাঙ্গা ইউনাইটেডে ক্লিনিকের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, তসলিমার সন্তানটি তাঁর পরিবারের সদস্যরা দত্তক দিয়ে থাকতে পারেন। আমি এর কিছুই জানিনা। হয়রানি করার জন্য ক্লিনিকের নামে মামলা করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতে পিবিআইএর দাখিল করা প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন করেন তসলিমা। এরপর ২০১৯ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। বর্তমানে সিআইডি মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত চলমান রয়েছে।
মেহেরপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছাইয়েদুর রহমান বলেন, তসলিমার সন্তানটি দলিল করে দত্তক দেওয়া হয়েছে। সেগুলো সঠিক না কি বেঠিক, তা জানতে স্বাক্ষর এক্সপার্টের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলে আদালতে জমা দেওয়া হবে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone