মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

ফুলবাড়ীতে দুর্গাপূর্জায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে শোলার তৈরি কদম ফুল

ধীমান চন্দ্র সাহা, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শারদীয় দুর্গাপূজায় শোলার তৈরি ফুল দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছ। এতে শোলার তৈরি ফুল তৈরির কাজে নিয়োজিত উপজেলার দুই গ্রামের ফুল তৈরির কারিগরসহ তাদের পরিবারের লোকজন ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুজোর উপাচার থেকে প্রতিমা মন্ডপ সজ্জার সরঞ্জামের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ বেশি।

জানা যায়, দুর্গাপূজা মানেই শোলার চাঁদমালা, মুকুট, কদম কিংবা ঝোরা ফুল। তবে দুর্গা পুজোর আগে শোলার এসব ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় অনেক বেশি। কারণ শোলার তৈরি কদম ফুল দেবী দুর্গার সন্তষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে শুভ কাজ বা মানতের জন্য ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এ মুহুর্তে শোলার ফুল তৈরির কারিগরা অনেক বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

কারিগররা বলছেন, কাঁচা শোলার সংকটের জন্য শোলা কিনে নিতে হচ্ছে। পরিশ্রমের তুলনায় আয় কম হওয়ায় বর্তমান প্রজন্মের কেউই এই পেশায় আসতে চায় না। তবে শত কষ্টের মধ্যেও এখন অনেকে বাপ-দাদার এই পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন। উপজেলা আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাই চেয়ারম্যানপাড়া ও খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর ল²ীপুর গ্রামের ১২ থেকে ১৫ টি পরিবার এ পেশায় যুক্ত আছে বর্তমানে।

ল²িপুর গ্রামের শোলার তৈরি কারিগর গোবিন্দ চন্দ্র (৬০) বলেন, শোলা দিয়ে তারা কদম ও ঝরা দুই ধরনের মালা তৈরি করেন। উপজেলা সদরের দোকান ছাড়াও জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ক্রেতারা মালা কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে শোলা পাওয়া যায় না তাই এই পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শোলা পাওয়া গেলেও অনেক দূর দূরান্ত থেকে তা সংগ্রহ করতে হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পূজার মধ্যে শোলার তৈরি কদম ফুল, ঝোরা ফুল তৈরির মাধ্যমেই এ শিল্পকর্মটি বেঁচে আছে। বংশ পরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।

ব্যাস্ত সময় পার করছেন দুই গ্রামের শোলার ফুল তৈরির কারিগরসহ তাদের পরিবারের লোকজন

বরাই চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের শোলার তৈরি ফুল কারিগর বাবুল চন্দ্র মহন্তর স্ত্রী রঞ্জনা রানী বলেন, আগে পরিত্যক্ত নিচু জমিতে শোলা জন্মাতো। কিন্তু এখন জমির মালিকেরা জমির আগাছা পরিষ্কার করে চাষাবাদ করায় শোলর সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে বর্তমানে পঞ্চগড়, নীলফামারী, বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শোলা কিনে আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

উপজেলার পালপাড়া দুর্গাপূজা মন্ডপের পুরোহিত শিবায়ণ চক্রবর্তী বলেন, শোলার তৈরি কদম ফুল ঠাকুর (দেবী দুর্গা, কালী, ল²ি….) সন্তষ্টির জন্য অর্ঘ করা হয়। শোলার কদম বা ঝোরা ফুল শুভ কাজ বা মানতের জন্য ব্যবহার হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঘরের দরজায় এই ফুল টানিয়ে রাখেন যাতে কোন অশুভ শক্তি ঘরে ঢুকতে না পারে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone