শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

হাজার হাজার পরিবার স্বস্তিতে

তানোর( রাজশাহী) প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২

তানোর( রাজশাহী) প্রতিনিধি 

বছরের এই সময়ে বরেন্দ্র কৃষি প্রধান এলাকার খেটে খাওয়া দিন মজুর নিম্ম মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর কমে যায় আয়। সংসারে দু বেলা ভাত জোটাতেই হিমসিম খেতে হয়। আরেক দিকে প্রতি নিয়তই বেড়েই চলেছে সকল ধরনের পণ্যের দাম। কোভিট -১৯ না যেতেই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে চলছে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দোহায়ে সিন্ডিকেটের দখলে বাজার, পকেট কেটেই যাচ্ছে ভোক্তাদের। তারপরও বর্তমান সরকার সিটি ও পৌরসভার জনসাধরনের জন্য বিশাল ভূর্তুকিতে ৩০ টাকা ও ধরে ওএমএস চাল,  ইউনিয়ন( ইউপি) র জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিক্রি ও ইউপির মাসিক ভিজিএফ হিসেবে প্রতিমাসে বিনা মুল্যে চাল বিতরন অব্যাহত আছে। অবশ্য ভিজিএফ সারা বছর বিতরন হয় ইউপি এলাকার কার্ডধারীদের মাঝে। চলতি মাস থেকেই সরকার ওএমএস ও খাদ্য বান্ধব কার্যক্রম শুরু করেছেন। এতে করে হাজার হাজার পরিবার স্বস্তির নিশ্বাসে দিন পার করতে পারছেন। কারন বছরের এসময়টাতে বরেন্দ্রভূমি কৃষি এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর তানোর উপজেলাতে কমে যায় কৃষি কাজ। চরম দূর্অবস্থায় কাটে দিন। আর চলছে  মন্দা অর্থনীতির পরও বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব সহ শিক্ষা বৃত্তি, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধি, মাতৃত্বকালীন ভাতা,কৃষিতে ভূর্তুকি দিয়েই যাচ্ছেন। তারপরও এসব জন কল্যান মুলুক কাজের কোনই যেন মুল্য নেই । টার্গেট একটাই সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে ক্ষমতার জন্যই শুধু এই অবস্থা এমন অপপ্রচার বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা। কেউ বলতে পারবেন স্বাধীনতার পর থেকে কিংবা বিশ্বে কোন দেশ আছে যে সরকার থেকে বাড়ি উপহার দেওয়া হয় সেটিও করে যাচ্ছেন বঙ্গকন্যা। শুধু তানোর উপজেলায় সাতটি  ইউনিয়ন( ইউপিতে) ১৫ টাকা কেজি দরে প্রায় দশ হাজার পরিবার প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারছে। ভিজিডির চাল পাচ্ছেন প্রায় আট হাজার পরিবার, তারাও প্রতিমাসে বিনা মুল্যে পাচ্ছেন ৩০ কেজি করে চাল। আবার দুটি পৌরসভার জন্য বিশাল ভূর্তুকিতে ডিলারদের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন কিনতে পারবেন ৫ কেজি করে চাল, ছুটির দিন বাদে দুই পৌর এলাকার জন্য ছয়জন ডিলারের মাধ্যমে ১২ শো টন চাল কিনতে পারবেন ভোক্তারা। ফলে সরকারে মানবিক কল্যান মুলুক এসমস্ত নিম্ম আয়ের হাজার হাজার পরিবারে নেমে এসেছে স্বস্তির নি:শ্বাস।

জানা গেছে, সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত তানোর উপজেলা। এউপজেলার বেশি অংশ খরা প্রবন বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত।  প্রধানতম আয়ের উৎস কৃষি। তবে রয়েছে মৎস্যজীবিও। বছরের আশ্বিন কার্তিক বা এই সময়টা থাকেনা কাজ। প্রায় দুলক্ষের বেশি জনসাধারনের বসবাস। বিগত কয়েক বছর ধরে গ্রামীন মানুষের কষ্ট দূর করতে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি ধরে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রির প্রকল্প হাতে নেয়। তবে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা লাগামহীন বাড়তি দামের কারনে এবারে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারের মাধ্যমে কার্ডধারিরা ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারছেন। আর দুটি পৌরসভার জন্য ওএমএস চাল বিক্রিও গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছে। দুই পৌরসভায় ৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেলেই ৩০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি করে, রোববার, সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার এবং বৃহস্পতিবারে বিক্রি হচ্ছে চাল। একজন ডিলার দুই হাজার কেজি করে চাল বিক্রি করবেন। যার কারনে হাজার হাজার পরিবার স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে পারছেন। বাজারে ৫০ টাকা কেজির নিচে কোন জাতীয় চাল নেই। আর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা তারপরও দেশব্যাপী এধরনের জনকল্যাণ মুলুক উন্নয়নের কথা কারো মুখে নেয়। দুই লক্ষ মানুষের উপজেলায় যদি হাজার হাজার পরিবার স্বস্তি পায়, তাহলে সারা দেশে কত কোটি পরিবার স্বস্তিতে দিনপার করছেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না জানান, কোভিট-১৯ রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। বিশ্বের মোড়ল দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের মত দেশে কোটিকোটি পরিবার এসব সুবিধা পেয়ে স্বস্তিতে দিন যাপন করছেন। আর তানোরে এসময় মানষের কাজকাম থাকেনা। যারা পৌর নাগরিক তারা মাত্র ৩০ টাকা কেজিতে ওএমএস চাল কিনতে পারছেন। ইউপি বাসী যাদের কার্ড রয়েছে  তারা ১৫ টাকা কেজিতে মাসে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারবেন। আর এসব উন্নয়নের কথা কেউ বলেনা। শিক্ষা, বিধবা, বয়স্ক, গর্ভবতী, প্রতিবন্ধী ভাতা,সেচে ভুর্তুকি,বছরের প্রথম দিনে বিনা মুল্যে বই বিতরন, বিনা মুল্যে ভিজিডি, সকল ধর্মীয় উৎসবে সরকারী অনুদা, সবচেয়ে বড় ব্যাপার গৃহহীনদের বাড়ি উপহার। আমার জীবনে অনেক বাজেট অধিবেশনের বক্তব্য শুনেছি, কিন্তু সরকারের এসব উন্নয়নের কথা কেউ না বললেও তানোরের পোড়া মাটির শহীদ পরিবারের সন্তান সংসদ ফারুক চৌধুরী এসব অদৃশ্য উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, বাজেটে আমার এলাকার জনগন কি পেল, আমার ভাগ্যে জনগনের জন্য কি বয়ে আনল বাজেট, এবং গ্রামীন মানুষেরা এসব অদৃশ্য উন্নয়নের জন্য আজ অনেক সুখে দিনপার করছেন। দলমত নির্বিশেষে সবাই এসুবিধা পাচ্ছেন। এটা সম্ভব হয়েছে মমতাময়ী বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী আছেন বলেই। সুতরাং মমতাময়ীকে আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে এবং আগামীতে বাজেট পেশ করার দু তিন মাস আগে থেকে সংসদ সদস্যদের মতামত নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বরেন্দ্র এলাকার দরিদ্র ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীরসহ অসচ্ছল অসহায়দের জন্য শতভাগ ভাতার দাবিও পেশ করেছেন।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone