সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:১৪ অপরাহ্ন

নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরী প্রকাশ্যে অনিয়মে মাংশ বিক্রির অভিযোগ

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেকারি আইসক্রিম ফ্যাক্টরি ও দোকান গুলিতে প্রকাশ্যেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সামগ্রী তৈরী, যত্রতত্র স্থানে সরকারি নিয়ম বহির্ভূত অসুস্থ্য গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংশ বিক্রি করা হচ্ছে। বেকারি, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি ও হোটেল গুলোতে নোংরা পরিবেশের তৈরী খাবার ও অসুস্থ্য গরুর মাংশ খেয়ে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর (ভারঃ) মজিদা বেগমের ভ‚মিকা চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে তাকে ম্যানেজ করেই এ ভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনিয়মিত সরকারি বীধিনিশেধ উপেক্ষা করে, পরিক্ষা নীরিক্ষা ছাড়াই খাদ্য সামগ্রী তৈরী, যত্রতত্র স্থানে দোকান খুলে প্রকাশ্যে মাংশ বিক্রি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলার সদর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবং বাজার গুলোতে অবাধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী করা হচ্ছে বিস্কুট, চানাচুর, নিমকি, মিষ্টি, মিষ্টি সিঙ্গারা, আলুর সিঙ্গারা,রুটি, পাউরুটি, আইসক্রিম, পাইপ আইসক্রিম, নারিকেল আইসক্রিম। যত্রতত্র হাট বাজারে, রাস্তার মোড়েসহ বিভিন্ন স্থানে টিনের চালা তুলে চৌকি বসিয়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে অসুস্থ্য ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত গরু, মহিষ, ছাগল কমদামে এনে পরিক্ষা নিরিক্ষাএবং সরকারের নিয়ম নীতি ছাড়াই অন্ধকারে জোবাই করে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। বিশেষ করে বর্তমানে ল্যাম্পি নামক একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে শতশত গরু। এই অসুস্থ্য গরু গুলি কমদামে এনে জোবাই করে বিক্রি করছে। অন্যদিকে দেখা গেছে, কোন কোন মাংশের দোকানে কোন সময় গরু জোবাই না করে বাহিরের এলাকা থেকে ফ্রিজে রাখা বা অসুস্থ্য গরুর মাংশ সন্ধার আগে ঢাক ঢোল পিটিয়ে কমদামে বিক্রি করছে।
এসব খাদ্য পন্যের মান নিয়ন্ত্রন ও যাছাই বাছাই করার দ্বায়িত্বে রয়েছেন রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মজিদা বেগম। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব খাদ্যদ্রব্য তৈরী বেকারি, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি ও হোটেলে এবং যত্রতত্র মাংশ বিক্রির দোকান গুলোতে প্রকাশ্যে বিক্রয় করলেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি।
খোজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পাখিউড়া গ্রামে, পাখিউড়া বাজারে চানাচুর ফ্যাক্টরি, কর্তিমারী, রৌমারী, শৌলমারীতে নামে বে নামে অন্তত ১০ থেকে ১২ টি চেনাচুর ফ্যাক্টরি, বেকারি ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরি এবং প্রায় অর্ধশত যত্রতত্র মাংশ বিক্রির দোকান রয়েছে। এদের বেশীর ভাগ ফ্যাক্টরি ও মাংশ বিক্রির দোকান গুলি নোংরা পরিবেশ। যে সব বেকারি বা আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে তৈরী হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী। প্রায় সবগুলিতে নেই কোন বৈধ লাইসেন্স ও বিএসটিআইয়ের অনুমোদন। নোংরা পরিবেশে ভেজাল ও নি¤œমানের উপকরণ, নি¤œ মানের আটা, তৈল, সিগারিন এবং বিষাক্ত কেমিক্যাল অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে বেকারি ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরি গুলোতে অবাধে তৈরী করা হচ্ছে সামগ্রী।
স্থানীয় অনেকেই বলেন, এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সামগ্রী ও যত্রতত্র অসুস্থ্য গো মাংশ বিক্রি হলেও স্যানেটারি ইন্সপেক্টরের নেই কোন মাথা ব্যথা। তাকে ম্যানেজ করেই চলছে এ কাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বেকারি ব্যবসায়ী বলেন, আটা ময়দা মাখতে গেলে পানির ব্যবহার হয়। পানির ব্যবহার হলে কিছুটা নোংরা তো হবেই। এভাবেই চলছে সবখানে।
যত্রতত্র মাংশ বিক্রেতাগণ বলেন, আমরা কোন অসুস্থ্য গরুর মাংশ বিক্রি করি না। তবে লাইসেন্সের ব্যাপারে জিজ্ঞাস করলে তারা জানান, লাইসেন্স করার জন্য দরখাস্ত করা হয়েছে। আপাতত একজনের লাইসেন্সে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানেটারি ইন্সপেক্টর (ভারঃ) মজিদা বেগম বলেন, আমি একায় কাউকে মানাতে পারছি না। তবে প্রশাসন সহযোগীতা করলে অনিয়মকে নিয়মে আনা সম্ভব হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, মজিদা বেগমকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দ¦ায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে খোজ নেই, একা নাকি কিছুই করতে পারছে না। চেষ্টায় আছি একদিন ভ্রাম্যমান দিয়ে নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone