মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

ঘর পেয়ে খুশি ভূমিহীন ও গৃহহীনরা 

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর {নীলফামারী}
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২

প্রায় ৪০ বছর রেলওয়ের জমিতে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেছি। কোনদিনও পাকা ঘরের স্বপ্ন দেখিনি। কিন্তু সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শামিম হুসাইন স্যারের দয়ায় ঘর পেয়েছি বসবাসের জন্য। যতদিন বেচে থাকব ইউ এন ও স্যারের জন্য দেয়া করে যাবো। গত কাল বুধবার এভাবেই বলছিলেন ৬৫ বছরের বিধবা লতিফা বেগম। লতিফা বেগম বলেন প্রায় ৫০ বছর আগে তমিজ উদ্দিন নামের একজনের সাথে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর থেকেই স্বামি-স্ত্রী বসবাস করেন সৈয়দপুর শহরের হাতিখানা ক্যাম্প সংলগ্ন রেলওয়ের জমিতে। দুই ছেলে সন্তান রেখে প্রায় ২৩ বছর আগে স্বামী মারা যান। এরপর সন্তানদের বাঁচাতে ঝি এর কাজ শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর রাস্তার পাশে বসে পিঠাও বিক্রি করেন। এভাবেই একবেলা খেয়ে না খেয়ে রেলের জমিতে গড়া ঝুপড়ি ঘরে থাকেন লতিফা। অবশেষে হাতিখানা ক্যাম্প সংলগ্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম হুসাইনের চেষ্টায় স্মৃতি সৌদ্ধের নির্মান কাজ দৃষ্টিনন্দিত করায় লতিফার বসবাসের জমিটুকুও ছাড়তে হয়। লতিফা ভাবে এখন বুঝি গাছতলাতেই থাকতে হবে সন্তানদের নিয়ে। অবশেষে শেষ বয়সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম হুসাইনের দয়ায় বসবাসের ঠাই পেয়েছেন উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের চিকলি ব্রিজ সংলগ্ন দ্বিতীয় দফায় নির্মিত আশ্রয়ন প্রকৌল্পে মুজিব শতবর্ষ উপলে প্রধানমন্ত্রীর উপহারে ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা তিনি।
এই আশ্রয়ণ প্রকৌল্পে ঘর পাওয়া তমিসা (৬০) বলেন বাপের বাড়ি কোথায় ছিল বলতে পারব না। জন্মের পর থেকেই হাতিখানা মহল­ায় বসবাস করেছি। ৪৫ বছর আগে এই মহল­াতেই বিয়ে হয় আব্দুল হাকিম ওরফে কাল্ঠুর সাথে। ৪ মেয়ে সন্তান রেখে ১৫ বছর আগে স্বামী মারা যান। এরপর মেয়েদের মানুষ করতে প্রেসে কাজ শুরু করেন তিনি। কষ্ট করে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। জীবনের এতগুলো বছর নিজের বলে কিছুই ছিল না। কোন দিন কল্পনাও করিনি পাকা ঘরে বসবাসের ঠিকানা হবে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম হুসাইনের দয়ায় প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছি। আল­াহ যেন তাদের অনেক দিন বাচিয়ে রাখেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম হুসাইনের দয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়া মমতাজ উদ্দিন বলেন ভ্যান চালিয়ে যা পাই তা দিয়ে অনেক কষ্টের সংসার চলত। রেলওয়ে জমিতে গড়া ভাঙ্গাচুড়া ঘরে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে তিন ছেলে এক মেয়ে নিয়ে দিনাতিপাত করেছি। কোন দিন ও ভবিনি নিজের একটা পাকা ঘরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করব। সত্যি করে বলছি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শামিম হুসাইন স্যার প্রধানমন্ত্রির উপহারের দেয়া ঘরটি আমার অট্টলিকা ভাবছি।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তথ্যানুযায়ী এ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ১৮৫ টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমি ও রঙ্গিন টিন দিয়ে পাকা ঘর করে দিয়েছেন সরকার। প্রতিটি পরিবারের থাকার জন্য উপহারের ঘরে থাকছে দুইটি থাকার ক, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও একটি বারান্দা। দ্বিতীয় ধাপে নির্মিত প্রতিটি ঘরের ব্যায় ধরা হয়েছে ২ ল ৫৬ হাজার ৫ শত টাকা।
সৈয়দপুর উপজেলার চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন জানান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের উপহারের ঘর দেয়া হয়েছে। এখন তাদের নিজস্ব ঠিকানা হয়েছে। আগামিতেও সরকারের প থেকে তাদের সার্বিক সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হুসাইন জানান ভূমিহীন ও গৃহহীনদের কষ্টের কথা চিন্তা প্রধান মন্ত্রি যে দীর্ঘ মেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছেন সেটি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রধান মন্ত্রির দেয়া দ্বিতীয় ধাপে নির্মিত উপহারের ১৮৫টি ঘর যাতে করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনরা পায় সে চেষ্টাই করেছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone