বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো আরও ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
  • Update Time : রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো আরও ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার থেকে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে আরও কয়েকটি প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে এপিএসসিএল নতুন নির্মিত ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট (ইস্ট) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়তে থাকে।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আশুগঞ্জকে ‘পাওয়ার হাব’ ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন (এপিএসসিএল) কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে ৪৫০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল (নর্থ ও সাউথ) প্লান্ট দুটি, ২২৫ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ২০০ মেগাওয়াটের মডিউলার প্ল্যান্ট ইউনিট চালু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অধিক পুরনো দুটি কম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (প্রতিটি ৬৪ মেগাওয়াটের ইউনিট জিটি-১, জিটি-২ ও এসটি) ইউনিটগুলো অপসারণ করে প্রায় সমপরিমাণ জ্বালানি (গ্যাস) ব্যবহার করে অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল (ইস্ট) প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় কর্তৃপক্ষ।
 
এপিএসসিএল-এর অপর একটি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল (ইস্ট) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। দরপত্র প্রক্রিয়ায় ২০১৮ সালে ২০ মার্চ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন এবং চায়না ন্যাশনাল করপোরেশন ফর ওভারসিস ইকোনোমিক্স কো-অপারেশন কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ১৮০.৩২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ অর্থের মধ্যে এডিবি ১০৭.৯২ মিলিয়ন ডলার, আইডিবি ৮৫ মিলিয়ন ডলার এবং অবশিষ্ট অর্থ বাংলাদেশ সরকার দেয়ার কথা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের মার্চ মাসে চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তারা একই বছরের ১৬ জুলাই থেকে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করে। চুক্তি মোতাবেক প্রকল্পটি ডিসেম্বর-২০২০-এ সিম্পল সাইকেলে (আংশিক) ও জুন-২০২১-এ কম্বাইন্ড সাইকেলে (পুরোপুরি ) ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। কিন্ত প্রথমে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দেশ চীন ও পরে সারা বিশ্বে ‘করোনা’ ভাইরাসের বিস্তার এবং তা মহামারি আকার ধারণ করায় এ প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা নেমে আসে।
 
এছাড়া চুক্তি মোতাবেক প্রকল্পের গ্যাস টারবাইন ও স্টিম টারবাইন জার্মানের সিমেন্স কোম্পানির কিছু যন্ত্রপাতি চীন থেকে আসার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তা বাধাগ্রস্ত হয়। করোনার প্রকোপ কমে গেলে জার্মান থেকে জেনারেটর ও কারিগরি টিম এলে পুনরায় কাজ শুরু করা হলেও জেনারেটরের একটি অংশে ত্রুটি দেখা দেয়ায় পুনর্নির্ধারিত সময়েও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে জেনারেটর সরবরাহকারী দেশ জার্মানের কারিগরি টিমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সমস্যা সমাধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ২০ জুন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: The It Zone
freelancerzone