বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

পাথরঘাটার পপি, আজও পথপানে চেয়ে আছে পরিবার

জি-নিউজবিডি২৪ডেস্ক ঃ
  • Update Time : শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২২

-: মো. রফিকুল ইসলাম কাকন :-

‘মোর মায় তিন হাজার টাকার কম্বল কিন্যা লঞ্চে উঠছিলো। বাড়ি আইয়া নাতিরে (লামিয়া) নিয়া ঢাকা নিয়া যাইবে। মোর মাইয়ায় আর আয়নায়। মোর মাইয়াডা পুইররা কইলা অইয়া গ্যাছে। যদি বাইচ্চা থাকতে তয় এ্যাত দিনে আইতে’।

সুগন্ধা ট্রাজেডির এক বছর
সন্ধান মেলেনি পপির

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিখোঁজ গার্মেন্টসকর্মী ফজিলা আক্তার পপির মা আমেনা বেগম এমন কথা বললেন।

২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঘটে এক ইতিহাসের ভয়াবহ ঘটনা। ওই লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফজিলা আক্তার পপিও ছিলেন। এক বছর পার হয়ে গেলেও আজও সন্ধান মেলেনি বরগুনার পাথরঘাটার ফজিলা আক্তার পপির।

এক বছর ধরে পথপানে চেয়ে আছে একমাত্র কন্যা লামিয়াসহ (১৪) পরিবারের স¦জনরা। প্রতি মুহুর্তই যেন পপির অভাবে ধুকে ধুকে দিন পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিখোঁজ ফজিলা আক্তার পপি (২৫) বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে। পারিবারিক কলহের কারনে ৮ বছর আগে স্বামী সামছুল ইসলামকে তালাক দেয় পপি।

স্বজনরা দুর্ঘটনার পর এমভি অভিযান-১০ লঞ্চসহ ঝালকাঠি ও বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে এবং বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খোঁজখবর নিয়েও তার সন্ধান পাননি। পরে বরগুনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিএনএ নমুনা দিয়েও মেলেনি সনাক্ত।

পপি ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে পাথরঘাটায় অভিযান-১০ লঞ্চে রওনা হন। একমাত্র মেয়ে লামিয়াকে (১৩) বাবার বাড়ি থেকে নিজ কর্মস্থল ঢাকার সাভারে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য নিতে আসছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস পপির ইচ্ছেটা পূরণ হলো না।

পপির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছুনছান নিরবতা,আজও পথপানে চেয়ে আছে বাবা আফজাল হোসেন, মা আমেনা বেগম ও একমাত্র কন্যা সন্তান লামিয়া। শুধু পরিবারের সদস্যরাই নয়, প্রতিবেশিরাও অপেক্ষা করছেন পপির জন্য। নিখোঁজের এক বছর হলেও আত্মীয়-স্বজনরাও আসছেন তাদের শান্তনা দিতে।

পপির বৃদ্ধ বাবা আফজাল হোসেন বলেন, ‘একমাত্র মাইয়াডারে হারাইলাম। এহন ক্যামনে থাকমু। জামাই মাইয়াডারে ৮ বছর আগে তালাক দিয়া যায়। জীবন বাঁচাইতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতো। মাইয়াডার লাশটা পাইলেও কবরডা দেখতাম। ’

পপির মা আমেনা বেগম আরও বলেন, ‘সন্তানহারা মা কিভাবে থাকে; সন্তানের অভাব কেউ গুছাতে পারেনা। খুব কষ্টে দিন পার করছি। পপি লঞ্চে ওঠার সময় ফোন দিয়া বলছিলো- মা ছুটি কম, রুটি পিঠা খাইতে মন চায়। যা খাওযাবা জলদি খাওয়াবা। সকালে হুনি যে লঞ্চে আমার মাইয়াডা ছিল ওইডাই আগুনে পুইরা গ্যাছে। আর মোর মাইয়াডা আইলেও না, রুটি পিডাও খাওয়াইতে পারলাম না। আমি নিশ্চিত মোর মায় আর নাই। গার্মেন্টসে ওয়েলফেয়ার অফিসার ছিলো, ছুটি আসার দুদিন আগেও মোর মাইয়াডা আগুন লাগলে কিভাবে নিভাতে হয় এবং বাঁচার উপায় নিয়ে ট্রেনিং করিয়েছে কয়েকশ কর্মীকে। কিন্তু সে নিজেই আগুনে পুইড়া গেলো।’

পপির ১৪ বছরের একমাত্র মেয়ে লামিয়া বলে, ‘মায় কইছিল, বাড়িতে আইয়া মোরে ঢাকায় নিয়া ভালো একটা স্কুলে ভর্তি করাইবে। এহনো মায় আয় নাই। হুনছি যে লঞ্চে আগুন লাগছে হেই লঞ্চেই মোর মায় আছিল। এহন মোরে মা কইয়া কেডা বোলাইবে। মোর মায় কি আইবে?

লামিয়া আরও বলে, মায়রে সব সময়ই মনে পরে, মাঝে মাঝে স্বপ্নেও দেখি। গত ৮ মাস বাবার কাছে ছিলাম, এহন নানা বাড়িতে থাকবো।

প্রতিবেদন তৈরি: মো. রফিকুল ইসলাম কাকন , নির্বাহী সম্পাদক, জি নিউজ

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: The It Zone
freelancerzone