বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

মাগুরায় তীব্র শীতে জনজীবনে চরম ভোগান্তি

সাইদুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা ঃ
  • Update Time : সোমবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৩

মাগুরা জেলার চার উপজেলায় ঘন কুয়াশা মে সাথে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে মেলেনি সূর্যের দেখা। মাঝেমধ্যে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তাপ তেমন নেই। প্রতিদিন তাপমাত্রা কমছে। গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে গরিব অসহায় হতদরিদ্র মানুষগুলো।

সকালে কনকনে শীত ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো কুয়াশার কারণে বোরো ধান রোপণে কৃষি শ্রমিকেরা কাজ করতে পারছেনা। দূর থেকে আসা অনেকেই কাজ না করে ফিরে যাচ্ছেন।এ রকম বিরুপ আবহাওয়ার কারণে ক্ষেতের ফসল নষ্টের আশঙ্কা করছে কৃষকরা।

মাগুরা সদর উপজেলার টীলা গ্রামের কৃষক কেরামত আলী, দবির বিশ্বাস, শালিখার দরিশলই গ্রামের কৃষক ব্রজেন বিশ্বাস, আক্তার হোসেন, পোড়াগাছি গ্রামের নির্মল বিশ্বাস জানান, প্রচন্ড শীতের কারণে বোরো বীজতলা ও সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, প্রচণ্ড ঠান্ডায় বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে সর্দিজ্বর, আমাশয়, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ভূমিহীন ও রাস্তার ফুটপাতে শুয়ে যাদের জীবন কাটে তাদেরকে এই হিম শীতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় কষ্ট পাচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই। রোদের তেমন দেখা মিলছে না। সকাল থেকে ঠাণ্ডা হিমেল হাওয়ায় হাড় কেঁপে উঠছে। বেড়েছে ভাসমান মানুষের দুঃখ কষ্ট। বেলা করে কুয়াশা থাকায় প্রতিদিন তাপমাত্রা কমছে। দিনের বেলাও থাকছে শীত। দিনের চেয়ে রাতের শীত বেশি।

শীতের কারনে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় মার্কেট ও সপিংমলে চাদর, কম্বল, জ্যাকেট সোয়েটার, কার্ডিগান, হাতমোজা, কানটুপিসহ বিভিন্ন ধরনের গরম কাপড় বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুন। বিত্তবানরা ছুটছেন শহরের বড় বিপনি-বিতানগুলোয়। আর নিম্ন আয়ের মানুষ গরম কাপড় কিনতে ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছে।

মাগুরা শহরের পোস্ট অফিসের সামনে পুরান কাপড়ের দোকানে ভীড় দিনদিন বেড়েই চলছে। পুরান কাপড় ব্যবসায়ী পটল মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় বিক্রি কম। কিন্তু শীত বেড়ে যাওয়ার কারণে গরম কাপড়ের চাহিদা বেশি। ফুটপাতের ভাসমান ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের কারনে ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ শত টাকা পর্যন্ত দামে শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা হচ্ছে।

তিনি জানান, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেশির ক্রেতাই বেশি ভীড় জামাচ্ছেন। সেই সাথে ভ্যান চালকসহ অসহায় শীতার্ত মানুষও কম দামে শীতবস্ত্র ক্রয় করছেন। পুরনো এ সকল শীতের কাপড় কিনতে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখেই বুঝা যায়, শীত কতটা তীব্র আকার ধারণ করেছে। শালিখা

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নেছা জানান, শীতের কারণে মানুষের নিউমোনিয়া, সর্দি, জ্বর, কাশি, আমাশয় রোগ দেখা দিতে পারে। এ জন্য হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন ছিন্নমূল মানু্রষের মাঝে কম্বল বিতরণ করছে। কিন্তু কম্বলের মান উন্নত না হওয়ায় এতে শীত নিবারণ হচ্ছেনা। জেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে এসব কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান জেলা প্রশাসন।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: The It Zone
freelancerzone