বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ১ বছর নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন

রৌমারীতে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

মাজহারুল ইসলাম, রৌমারী প্রতিনিধি (কুড়িগ্রাম)ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
রৌমারীতে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

ৌমারী সিজি জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ শত শিক্ষার্থী ও ৪০ জন শিক্ষক কর্মচারির প্রধান শিক্ষক সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হোরায়রা ১ বছর প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতসহ তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ ও উপজেলা বিএনপির কৃষক দলের আহ্বায়ক।

ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসাবে পরিচিত হয়ে ২০১৮ সালে সরকারি করণ করেছে বিগত সরকার।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সহকারি শিক্ষক ও ছাত্র অভিভাবকগণ লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আবু হোরায়রা প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদানের পর থেকে তিনি একজন দুর্নীতিবাজ, অর্থ আত্মসাতকারী ও সরকারী বিধি বিধান লংঘনকারী। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখিত অনিয়ম দুর্নীতি গুলোর মধ্যে রয়েছে, সাব সিডিয়ারী ফিপ্রতিবছরে ১৮ লক্ষ টাকা ভর্তুকী, ছাত্রীদের বেতন বাবদ ৪ লক্ষ টাকা, বিজ্ঞান ফি ৪ লক্ষ টাকা, টিউশন ফি প্রশংসাপত্র ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, পুরাতন বই, পরীক্ষার খাতার বিক্রিত টাকা ফান্ডে না দিয়ে আত্মসাত করা।

অভিযোগে আরোও বলেন, বিধি বিধান লঙ্ঘনকারি প্রধান শিক্ষক বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ২০২৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করে পদটি দখলে নিতে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। অন্যদিকে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিলাশ বহুল বাড়ি গড়েছে। এ টাকা অশুল করতে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে সরকারি বেতন ধরার নামে ২০ হাজার টাকা করে আদায় করেন। এভাবে ধাপে ধাপে তিনি শিক্ষক কর্মচারির কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

বছরের প্রথম মাসে ষষ্ট শ্রেণীতে ও ক্লাস উত্তির্ণ ভর্তি ফির নামে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ১ হাজার ৬শত টাকা আদায় করেন, যাহা প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। বিদ্যালয়ের হিসাব নম্বরে জমা না করে ব্যাক্তিগত বিকাশ নম্বরে আদায় করেন। তপশ্রী নামের একজন ঝাড়–দারেরচাকরির মেয়াদ শেষ হলে, উক্ত পদে ঝাড়–দার নিয়োগ না দিয়ে একই ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে সহকারি শিক্ষক হিসাবে আব্দুর রউফকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এদিকে উপজেলা বিএনপির কৃষক দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে এক অভিযোগে বলেন, গত ৫ আগষ্টে আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়েরপ্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা পলাতক থাকায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

অপরদিকে গত ৫ আগষ্টের পর থেকে প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা পলাতক থাকায়, সুযোগ সন্ধানী সহকারী প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন একই কায়দায় দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কাজে সহযোগিতা করছেন। এমনকি বিভিন্ন প্রকার অফিসিয়াল কাগজ পত্রে জাল স্বাক্ষর দেখতে পাওয়া যায়, যেমন গত ২০ জুলাই বিদ্যালয়ের অফিস আদেশ ও ক্লাস রুটিন জাল স্বাক্ষর দিয়ে প্রকাশ করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষক কর্মচারীরা তার সেচ্ছাচারিতার কারনে সামনা সামনি ভয়ে কিছু বলতে না পারলেও, প্রধান শিক্ষকের এসব কর্মকান্ডের ফলে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীগন আরোও বলেন, আমরা যে অভিযোগ গুলো করেছি, তা সম্পূর্ণ সত্য। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ তদন্ত হলে সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্যান্য শিক্ষকগণ বলেন, আমরা এই অভিযোগকারীদের দলে নেই। তবে আমরা চাই সত্য বেড়িয়ে আসুক। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা আমাদের সম্মানীত সহকর্মী।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমি অসুস্থ্য, ধাপে ধাপে প্রশাসনিক ভাবে ছুটি নিয়ে ভোগ করছি। আমি নির্দোষ এবং তদন্তেই তা প্রমানিত হবে। আমি আওয়ামী লীগ করেছি, এ সুযোগে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছে।

এ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক অন্নপুর্ণা দেবনাথের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি, খোজ খবর নিয়ে বিষয়টি পরে জানাবো।