তানোরে অনুমোদিত সেচ মটরের ১০০ ফিটের মধ্যে ব্যক্তি মালিকানা বোরিং স্থাপন উত্তেজনা 

আব্দুস সবুর তানোর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
তানোরে অনুমোদিত সেচ মটরের ১০০ ফিটের মধ্যে ব্যক্তি মালিকানা বোরিং স্থাপন উত্তেজনা 

????????????

রাজশাহীর তানোরে অনুমোদিত  STW সেচ মটরের ১০০ ফিটের মধ্যে পূর্ব শক্রতার জেরে ব্যক্তি মালিকানা বোরিং স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ইউপির কুশিশহর মৌজায় ঘটে রয়েছে এমন ঘটনা।
এঘটনায় নতুন বোরিংয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতে উপজেলা নির্বাহীর দপ্তর সহ বিএমডিএ এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএমের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন STW মটরের মালিক মুনসুর রহমান।
অভিযোগে বিবাদী করেছেন নতুন বোরিং করা আমিনুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান এবং জগদীশ কে। এঘটনায় উভয়ের মধ্যে এক প্রকার উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে সেচ নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জানা গেছে, বিগত ২০১০ সালে উপজেলা সেচ কমিটির নির্দেশনায় কলমা ইউনিয়ন ইউপির কুজিশহর গ্রামের মুনসুর রহমান সেচ মটর স্থাপন করে শান্তিপূর্ণ ভাবে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
এঅবস্থায় এবং পূর্ব শক্রতার জেরে মুনসুরের মটরের ১০০ ফিটের মধ্যে কুজিশহর গ্রামের আমিনুল, শফিকুল, জিয়াউর ও জগদীশ বোরিং স্থাপন করেছেন। যা সেচ নীতিমালা লঙ্ঘন। গত প্রায় এক বছর আগে বোরিং করে জেনেরেটর দিয়ে সেচ পরিচালনা করছেন তারা। সেচ পরিচালনা করতে গিয়ে বৈধ মটরের সামনে দিয়ে ড্রেন স্থাপন করে সেচের বিঘ্নতা সৃষ্টি করছেন।
অথচ ভূগর্ভস্থ থেকে সেচ পানি তোলার জন্য বোরিং করতে হলে উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন। কিন্তু কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে পেশি শক্তির দাপটে অবৈধ ভাবে বোরিং স্থাপন করে ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলা। এউপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার চরম হুমকির মধ্যে পড়ে রয়েছে। একারনে নতুন ভাবে সেচ পাম্প নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, মুনসুর দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে সেচ পরিচালনা করে আসছে। কৃষকদের পানির কোন সমস্যা হয়না। তার স্কীম ভুক্ত কৃষকদের সেচের ব্যাপারে কোন ধরনের হয়রানি হতে হয় না।
কিন্তু পূর্ব শক্রতা ও সেচ নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য শফিকুল, আমিনুলরা অবৈধ ভাবে বোরিং স্থাপন করে জেনেরেটর দিয়ে ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলন করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তার অবৈধ বোরিংয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হলে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। সুতরাং তার অবৈধ বোরিং বন্ধ করা  দরকার। তানাহলে অন্যরা এভাবে বোরিং করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুজিশহর গ্রামের পূর্ব দিকে মুনসুরের STW মটর স্থাপন করা আছে। তার মটরের উত্তর পূর্ব দিকে ১০০ ফিট দুরে নতুন বোরিং করা আছে। আলু ও বোরো চাষাবাদ হয় সেচ দিয়ে।
মুনসুর জানান,  অবৈধ বোরিং সংলগ্ন জায়গায় বিএমডিএর গভীর নলকূপ ছিল। সেটি অকেজো হওয়ার কারনে বিগত ২০০০ সালের দিকে সবকিছু বিকল হয়ে পড়লে মালামাল নিয়ে চলে আসে কর্তৃপক্ষ। গভীর নলকূপ থাকলে আমার মটর হত না। সেই গভীর নলকূপের বোরিং থেকে কয়েক হাত পশ্চিমে অবৈধ বোরিং স্থাপন করা হয়েছে।
ওই বোরিং সংলগ্ন জায়গায় আউটলেট রয়েছে। তারা জেনেরেটর দিয়ে চালালেও এখন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একটা মটরের ১০০ ফিটের মধ্যে কিভাবে আরেকটি বোরিং স্থাপন হয় বুঝে আসেনা। কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতে নির্বাহীর দপ্তর, বিএমডিএ এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
তারপরও যদি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় তাহলে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যেতে হলেও যাব।
অবৈধ বোরিং করা আমিনুল ইসলাম জানান, বোরিং করা হয়েছে, সেচ কার্যক্রম চলবে। বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলেও জেনেরেটর বা সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে সেচ পরিচালনা করা হবে। কোন ভাবেই মুনসুর সেচ পরিচালনা করতে দেয়া হবে না।
কারন সে অতিরিক্ত সেচহার আদায় করে কৃষকদের জিম্মি করে রাখেন। ১০০ ফিটের মধ্যে বোরিং করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, কৃষকরা চাইলে ১০০ ফিট কেন ৫০ ফিটের মধ্যেও করা যায় বলেও দাম্ভিকতা দেখান তিনি।
বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান জানান, STW মটরের মালিক কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত সেচ হার আদায় করে। একারনে তারা নতুন বোরিং করেছে। অতিরিক্ত হারের বিষয়ে কোন অভিযোগ আছে কিনা এবং এক সেচ মটরের ১০০ ফিটের মধ্যে বোরিং স্থাপন করতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, ১০০ ফিটের মধ্যে বোরিং করতে পারেনা, এবিষয়ে সেচ কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে বলে দায় সারেন তিনি।